ঢাকা, বুধবার ১২ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ২৮ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৪৫, ৪ অক্টোবর ২০২০

করোনার প্রভাবে এ বছর ৫ লাখ মেয়ের বাল্যবিয়ের আশঙ্কা

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

করোনাভাইরাস বিশ্বের প্রায় ২১৩ টি দেশে এবং অঞ্চলে তার তাণ্ডব দেখাচ্ছে। ভাইরাসটির প্রভাব দেখা দিয়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনে। এই করোনাকালেই পৃথিবীর অনেক মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে। যার নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে মেয়েদের ওপর।

সম্প্রতি শিশু অধিকার সুরক্ষা সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, শুধু এ বছরই জোর করে ৫ লাখ মেয়েকে বিয়ে দেয়া হবে। ডয়চে ভেলের খবর।

কেননা করোনা লাখ লাখ পরিবারকে দারিদ্র্যের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ফলে মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেওয়া ছাড়া এই মুহূর্তে আর কোনো বিকল্প দেখছে না এসব পরিবার।

সেভ দ্য চিলড্রেনের পরিচালক ইঙ্গার অ্যাশিং বলেন, ‘পরিস্থিতির কারণে মা-বাবারা নাবালিকার হবু স্বামীর বয়স নিয়ে ভাবছেন না।’

বর্তমান পরিস্থিতি বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘ কয়েক দশকের সংগ্রামের অগ্রগতিকে রোধ করে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার হুমকি তৈরি করছে বলেও মনে করেন তিনি।

লন্ডনে সংস্থাটির লিঙ্গসমতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ গ্যাব্রিয়েলে সাজাবো বলেন, ‘দুঃখজনক বিষয় যে, মহামারি লিঙ্গবৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। করোনায় স্কুল বন্ধ, মা-বাবারা চাকরি হারাচ্ছেন, লকডাউনে বাড়ছে সহিংসতা আর ধর্ষণ। এসব কারণে কন্যার নিরাপত্তার কথা ভেবে মা-বাবারা তাদের নাবালক মেয়েদের জোর করে বিয়ে দিচ্ছেন। বিয়ে হলে মেয়ে অন্তত ক্ষুধা আর বঞ্চনা থেকে রক্ষা পাবে বলে তাদের ধারণা।’

সেভ দ্য চিলড্রেনের গ্লোবাল গার্ল হুড প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৫ সালের মধ্যে বাল্যবিয়ের শিকার হতে পারে আরো অতিরিক্ত ২৫ লাখ মেয়ে। গত ২৫ বছরের মধ্যে এবারই বাল্যবিয়ের হার সবচেয়ে বেশি। ২০২৫ সালে বাল্যবিয়ের সংখ্যা বেড়ে মোট ছয় কোটি দশ লাখ হতে পারে বলে সংস্থাটি আশঙ্কা করছে।

এ বছর আগের তুলনায় আরো দশ লাখ বেশি কিশোরী গর্ভবতী হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। মেয়েদের জোর করে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেশি রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া, পশ্চিম আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায়। আফগানিস্তান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের মতো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়