ঢাকা, বুধবার ১২ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ২৮ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:০৭, ৮ অক্টোবর ২০২০

মিয়ানমারে রাহিঙ্গাদের ওপর ধর্ষণ-নিপীড়নে সুচির দলও দায়ী

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের ওপর সেদেশের সামরিক বাহিনীর চালানো বর্বর নির্যাতন-নিপীড়ন এবং জাতি নিধনে অং সান সু চির বেসামরিক সরকারও দায়ী বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ)।

এইচআরডব্লিউ মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য ওই কারাগারবিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার ব্যাংককে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাস থাইল্যান্ডে (এফসিসিটি) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় সংস্থাটি। 

রিপোর্টটির রচয়িতা ও এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলবিষয়ক গবেষক শেইন বাউচনার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে ব্যাংককে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ‘অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতদের শিবিরের’ (আইডিপি) নামে এক লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে আটকে রাখা হয়েছে।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ফিল রবার্টসন বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আইডিপির নামে ওই কারাগার বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের না ফেরার জন্য একটি বার্তা। ওই কারাগারগুলো থেকে রোহিঙ্গাদের নিজেদের বসতভূমিতে ফিরতে পারছে না। তারা সেখান থেকে পালিয়ে কেবল বাংলাদেশের দিকে আসতে পারে। তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আগ্রহের কথা বলে। কিন্তু বাস্তবে রোহিঙ্গাদের ফেরার মতো কিছুই করছে না। রাখাইন থেকে বাংলাদেশের পথটি কার্যত একমুখী। মিয়ানমার ও রাখাইন রাজ্য কর্তৃপক্ষ সেখানে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের প্রতি যে আচরণ করছে তা বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিরুৎসাহিত করার শামিল।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলবিষয়ক গবেষক শেইন বাউচনার বলেন, বন্দি শিবির বা কারাগারগুলোকে মিয়ানমার বলছে ‘আইডিপি’ এবং সেখানে মানবিক পরিস্থিতি নেই। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের অমানবিক পরিস্থিতির জন্য কেবল মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীই নয়, সু চির সরকারের বিভিন্ন নিয়মকানুন ও নির্দেশনা দায়ী। সেখানে রোহিঙ্গাদের একঘরে রাখা হয়েছে। স্থানীয় রাখাইন জনগোষ্ঠী তাদের ওপর নজরদারি চালায়। সেখানে পথে ঘাটে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। রোহিঙ্গারা অসুস্থ হলেও সহজে চিকিৎসা নিতে পারে না। তারা মারা যাচ্ছে প্রতিরোধযোগ্য রোগে। তাদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষারও কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের কোথাও কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয় না। এতে তাদের পুরোপুরি ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা হয়েছে। এভাবে পুরো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য বর্তমান পরিস্থিতি অসহনীয় করে তোলার পাশাপাশি ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করা হচ্ছে।

শেইন বাউচনার বলেন, মিয়ানমার আইডিপিগুলো বন্ধ করা শুরু করলেও রোহিঙ্গাদের তাদের বসতভূমিতে ফিরতে দিচ্ছে না। বরং তাদের পাঠানো হচ্ছে বিচ্ছিন্ন ও বন্যাপ্রবণ এলাকায়। তিনি আশা করেন, তাদের এ প্রতিবেদন ও পর্যবেক্ষণ আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (আইসিজে) আমলে নেবে। তিনি বলেন, অতীতে তারা রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস অপরাধের জন্য মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিচারের দাবি তুলেছিলেন। এবার তারা মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারের নীতি নির্ধারকদের বিরূদ্ধেও তদন্ত ও বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে ফিল রবার্টসন বলেন, আগামী মাসে মিয়ানমারে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে অং সান সু চির দল তুলনামূলক কিছুটা কম সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আবার ক্ষমতায় আসবে বলে অনেকে ধারণা করছেন। সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) সদস্যই রাখাইন রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রী। সেখানে তার নেতৃত্বাধীন সরকার রোহিঙ্গাদের প্রতি নিপীড়নমূলক যে নীতি অনুসরণ করছে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ, পশ্চিমা দেশগুলো, আসিয়ান দেশগুলো ব্যর্থ হয়েছে। এখানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘২০১৬ ও ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চালানোর জন্য দায়ীদের পাশাপাশি এখন সু চির নেতৃত্বে যারা রোহিঙ্গাদের ওপর নিবর্তনমূলক নীতি অনুসরণ করছেন তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা চাই। 

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কোনো আশা দেখছেন কি না জানতে চাইলে ফিল রবার্টসন বলেন, মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকার, রাখাইন রাজ্য সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী কোনো পর্যায় থেকে এ সংকট সমাধানের সদিচ্ছা নেই। তবে মিয়ানমারের মতো দেশ বিশ্বের খুব কমই আছে যা এখন আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত ও আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের নজরে আছে।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়