ঢাকা, বুধবার ১২ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ২৮ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:১৫, ১১ অক্টোবর ২০২০
আপডেট: ২০:১৮, ১১ অক্টোবর ২০২০

ফ্রান্সে ফের বাড়ছে করোনার সংক্রমণ

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ফ্রান্সে ফের বেড়েছে মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। দেশটিতে প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যমতে, চলতি বছরের মার্চ মাসে মহামারী শুরুর পর থেকে দেশটিতে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৮ হাজার ৮৭৩ জনে। যা বর্তমানে বিশ্বের দশম সর্বোচ্চ।

দীর্ঘ পাঁচ মাস লকডাউন জারির মাধ্যমে ফ্রান্স মহামারি করোনাভাইরাসের প্রথম ঢেউ সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্ষম হলেও লকডাউন প্রত্যাহার করে নেয়ার পর দেশটির তরুণরা অবাধে চলাফেরা করায় তা আবারও বৃদ্ধি পায়।

ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ফ্রান্সের হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চাপ অনেক বেড়ে গেছে। বাড়তি এই চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এছাড়া রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে তাদের অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন করোনায়।

গোটা ফ্রান্সজুড়েই হাসপাতালের কর্মীরা এখন প্রথম ধাপের চেয়ে বেশি করোনা রোগীর মুখোমুখি হচ্ছেন। করোনাভাইরাসের রোগীদের উপসর্গ কমিয়ে আনতে দেশটির বোর্ডক্স ইউনিভার্সিটি হসপিটাল কর্তৃপক্ষ স্টেরয়েড ওষুধ মজুত ও ভেন্টিলেটর সেবা উন্নত করছে। এ দুই ব্যবস্থা করোনা রোগীদের লাইফ সাপোর্টে যাওয়ার হার কমিয়ে আনতে সহায়তা করে।

তবে অন্যান্য রোগীর পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান করোনা রোগীর সেবা দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করেন হাসপাতালটির পরিচালক ডা. ক্যাথেরিন ফ্লরো। তিনি বলেন, শেষবারের চেয়ে এবারের পরিস্থিতি কঠিন হতে চলেছে। কারণ আমি মনে করি এবারের ঢেউ ধারাবাহিকভাবে আগের চেয়ে বেশি হবে এবং সময়ের সাথে সাথে সেটি শেষ হবে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ফ্রান্সে করোনাভাইরাসের বিস্তার দ্রুত ঘটতে থাকে। কিন্তু দেশজুড়ে কঠোর লকডাউন জারি করায় বিস্তারের লাগাম টানতে সক্ষম হয় দেশটি। তবে বর্তমানে দেশটিতে এই ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুতগতিতে বাড়ছে। ভাইরাসটির ক্লাস্টারের সংখ্যাও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে দেশজুড়ে আইসিইউতে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হারে।

দেশটিতে করোনা আক্রান্ত রোগীদের আইসিইউতে ভর্তি ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বসন্তের চেয়ে আইসিইউতে করোনা রোগী ভর্তির এই হার ১০ গুণ কম হলেও যেভাবে বাড়ছে সেটি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এম্যানুয়েল ম্যাক্রো মহামারীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে প্যারিসসহ বড় শহরগুলোতে রাত দশটায় বার বন্ধ করাসহ করোনা ছড়াচ্ছে এমন সব স্থান এড়িয়ে চলার নির্দেশও।

অর্থনীতি পঙ্গু করে দেয়া লকডাউন দ্বিতীয়বার জারি না করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ফরাসী সরকার। যে কারণে ভাইরাসের বিস্তার কমিয়ে আনার জন্য দেশজুড়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে।

বোর্ডক্স এবং মার্সেলে শহরে করোনাভাইরাসের বিধি-বিধান কঠোর করা হয়েছে। মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক স্থানের পরিধি বৃদ্ধি, জনসমাগমের আকার সীমিত এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।

এ দুই শহরে বড় ধরনের অনুষ্ঠানে মানুষের উপস্থিতির সংখ্যা ৫ হাজার থেকে কমিয়ে এক হাজারে আনা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার আয়োজন বাতিল হয়ে গেছে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে চলতি বছরে স্কুল বর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী।

এদিকে বোর্ডক্স ইউনিভার্সিটি হসপিটালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) প্রধান ডা. অলিভার জোনস-বোইয়া বলেছেন, মূলত করোনার ঢেউ নিম্নমুখী রাখাই হবে সবচেয়ে বড় সমস্যা। যদি সংক্রমণ প্রচুর পরিমাণে বেড়ে যায়, তাহলে আমরা ব্যাপকসংখ্যক কোভিড-১৯ রোগীর মুখোমুখি হবো। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে আমরা তাদের চিকিৎসা দিতে পারবো না।

সূত্র: ফ্রান্স ২৪

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়