ঢাকা, শনিবার   ১৩ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২৯ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫৬, ১ মে ২০২১
আপডেট: ১২:১৩, ১ মে ২০২১

ভারতে একদিনে ৪ লাখ শনাক্ত, মৃত্যু সাড়ে ৩ হাজারের বেশি

ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও চার লাখ ১ হাজার ৯৯৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এটিই এখন পর্যন্ত দেশটিতে ও বিশ্বে একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও তিন হাজার ৫২৩ জন। করোনায় এ পর্যন্ত ভারতে মারা গেছেন দুই লাখ ১১ হাজার ৮৫৩ জন।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লক্ষ ১ হাজার ৯৯৩ জন। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হলেন ১ কোটি ৯১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৯৬৯ জন। দৈনিক আক্রান্তের নিরিখে গত দুসপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে ভারত। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৫২৩ জনের। গত চারদিন ধরেই দেশে মৃত্যু হচ্ছে তিন হাজারের বেশি।

দৈনিক সংক্রমণ বৃদ্ধির জেরে দেশে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। সক্রিয় রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্য পরিষেবাতে বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে । শয্যার পাশাপাশি অক্সিজেনের অভাবও দেশে প্রকট। এই মুহূর্তে দেশে সক্রিয় রোগী রয়েছেন ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ৭১০ জন। এই পরিস্থিতিতে ভারতে ভ্যাকসিন কার্যক্রম চলছে। যদিও গত কয়েকদিনে টিকা দেয়া হয়েছে অনেক কম। তবে এখন পর্যন্ত মোট প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টিকার ডোজ দেয়া হয়েছে।

নতুন শনাক্তের হিসাবে দেশটির রাজ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় মহারাষ্ট্র। এ রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত হয়েছেন ৬২ হাজার ৯১৯ জন। এদিন মহারাষ্ট্রে মারা গেছেন ৮২৮ জন রোগী। এছাড়া কর্ণাটকে ৪৮ হাজার ২৯৬ জন, কেরালায় ৩৭ হাজার ১৯৯ জন রোগী শনাক্ত হয়।

সংক্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকা ছয়টি রাজ্যে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত যথাক্রমে মহারাষ্ট্রে ৪৬ লাখ ২ হাজার ৪৭২ জন, কেরালায় ১৫ লাখ ৭১ হাজার ১৮৩ জন, কর্ণাটকে ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ১১৮ জন, উত্তরপ্রদেশে ১২ লাখ ৫২ হাজার ৩২৪ জন, তামিলনাড়ুতে ১১ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪ জন এবং দিল্লিতে ১০ লাখ ৭৪ হাজার ৯১৬ জন।

ভারতে প্রতিদিনই সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড অক্সিজেন সংকটে মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের। মর্গ ও শ্মশানে ভিড় পড়ে গেছে। শ্মশানে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় দিল্লিসহ কয়েক রাজ্যে গণচিতা তৈরি করা হয়েছে। তাতেও কুলিয়ে উঠতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। খোঁড়া হচ্ছে গণকবর এবং মরদেহ পোড়াতে বানানো হয়েছে অস্থায়ী শ্মশান। জাত-ধর্ম ভুলে মৃতদেহ সৎকারে সহযোগিতা করছেন মুসলিমরাও।

কয়েকটি রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্মীরা বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছেন। তারা জানিয়েছেন, এর আগে এমন অবস্থা কখনো দেখেননি তারা। ভারতে এখন যে হারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তার গতি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক বেশি। ভারতে এমন পরিস্থিতি চলমান থাকলে যুক্তরাষ্ট্রও পেছনে পড়ে যাবে। করোনার প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করায় ভারতে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ