ঢাকা, শনিবার   ১৩ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২৯ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:০৪, ৫ মে ২০২১
আপডেট: ০০:৩৯, ৫ মে ২০২১

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসছে চীনা রকেটের টুকরো

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পৃথিবীর দিকে ছুটে আসছে চীনের বৃহত্তম রকেট লং মার্চ ৫-বি এর খসে যাওয়া টুকরো। এটি লম্বায় ১০০ ফুট আর ওজন ২১ টন। আগামী ১০ মে এটি পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়তে পারে। এমনটিই জানিয়েছে মহাকাশ গবেষণা বিষয়ক নিউজপোর্টাল ‘স্পেসনিউজ’।

পৃথিবীর কক্ষপথে নিজের দেশের একটি মহাকাশ স্টেশন বানাতে চলেছে চীন। প্রকল্পের নাম- ‘তিয়ানহে মহাকাশ স্টেশন’। তা উৎক্ষেপণের জন্য কিছুদিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। ওই মহাকাশ স্টেশনের একটি ‘মডিউল’ (অংশ) পরীক্ষামূলকভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠাতে গত ২৮ এপ্রিল ‘লং মার্চ ৫বি রকেটের’ উৎক্ষেপণ করেছিল চীনা মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।

‘স্পেসনি‌উজ’ জানাচ্ছে, চীনা রকেটটি সফলভাবে মহাকাশ স্টেশনের ‘মডিউল’টিকে কক্ষপথে স্থাপন করতে পারলেও নিজেকে আর গ্রাউন্ড স্টেশনের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। ঘুরে চলেছে পৃথিবীর কক্ষপথে। তবে তার ভেতরের ১০০ ফুট লম্বা (৩০ মিটার) অংশটি রকেট থেকে আলাদা হয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে দিন-কয়েকের মধ্যেই ঢুকে পড়তে চলেছে। রাডারে তা ধরাও পড়েছে।

১০০ ফুট লম্বা (৩০ মিটার) অংশটি এখন ভূপৃষ্ঠের ১০৬ মাইল থেকে ২৩১ মাইল উচ্চতার মধ্যে ওঠা-নামা করছে। এর ওপর চীনা মহাকাশ গবেষণা সংস্থার গ্রাউন্ড স্টেশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই এটি যেকোনো মুহূর্তে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, লং মার্চ ৫-বি রকেটটি এখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘণ্টায় ২৭ হাজার ৬০০ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলেছে। এটি কখনো ১৭০ আবার কখনো ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত নিচে নেমে আসছে। তবে দিনে দিনে এটি আরো নামবে। আপাতত এর গতিপথের মধ্যে নিউইয়র্ক, মাদ্রিদ, বেইজিং, দক্ষিণ চিলি, ওয়েলিংটন, নিউ জিল্যান্ডসহ আরো কিছু স্থান পড়েছে। চলার পথে সামান্য এদিক ওদিক হলেই বদলে যেতে পারে এর ল্যান্ডিং স্পট।

আপাতত নিয়ন্ত্রণহীন রকেটটির গতিবেগ ও গতিপথ বিশ্লেষণ করে অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট সেন্টার অ্যাট হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী জনাথন ম্যাকডোয়েল জানালেন, ১০ মে এটি পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে। আর পৃথিবীর যেহেতু বেশিরভাগই সমুদ্র, তাই মহাসাগরে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে এটা পরিসংখ্যান মাত্র। বস্তুত ৩০ মিটার লম্বা ও ২১ টন ওজনের রকেটের টুকরোটি যেকোনো স্থানে পড়তে পারে। সময় ঘনিয়ে এলে এর আছড়ে পড়ার স্থান আরো নিখুঁতভাবে বলা যাবে।

ম্যাকডোয়েল বললেন, ১০ টনের বেশি ওজনের কোনো কিছু অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় আমরা মহাকাশ থেকে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসতে দিতে পারি না। সেখানে লং মার্চ ৫-বি এর ছুটে আসা টুকরোটির ওজন ২১ টন!

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ