Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, শুক্রবার   ০৬ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ২১ ১৪৩২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:১৪, ৫ মার্চ ২০২৬

ইরানি হামলার আশঙ্কায় হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ

হরমুজ প্রণালী। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালী। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের হুমকির কারণে হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎস ও পথ খুঁজতে সক্রিয় হয়েছে ভারত সরকার।

সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার আবহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য ও তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান। ইতিমধ্যে ওই এলাকায় কয়েকটি পণ্য ও তেলবাহী জাহাজের ওপর ইরানি নৌবাহিনীর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কায় ভারতের অন্তত ৩৭টি জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে রয়েছে।

ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৪০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। এ কারণে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে নয়াদিল্লি। বিকল্প পথে তেল ও গ্যাস আমদানির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এবং পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ভারত।

এদিকে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা ইতিমধ্যে ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে তেল আমদানি নিয়ে নতুন চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে ভারত সরকার। বর্তমানে ভারত প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৯৫ মিলিয়ন মেট্রিক স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার (এমএমএসসিএমডি) গ্যাস ব্যবহার করে, যার মধ্যে প্রায় ৬০ এমএমএসসিএমডি আমদানি করা হয় কাতার থেকে। তবে যু-দ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ভারতমুখী তেলবাহী জাহাজগুলোর জন্য বিশেষ বিমা সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও ভাবছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার।

মঙ্গলবার দিল্লিতে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী বলেন, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি জানান, দেশের পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মন্ত্রণালয়ে ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় আট সপ্তাহের তেল, এলপিজি ও সিএনজি মজুত রয়েছে। তবে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সে কারণেই বিকল্প উৎস ও পথ নিশ্চিত করতে এখন থেকেই তৎপর হয়েছে ভারত।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারত বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিকারক, চতুর্থ বৃহত্তম রিফাইনার এবং পঞ্চম বৃহত্তম পেট্রোপণ্য রপ্তানিকারক দেশ। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বিদেশি জাহাজে অন্তত তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও একজন। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাবিকদের সহায়তা দিতে একটি কুইক রেসপন্স টিম গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির জাহাজ পরিবহন মন্ত্রণালয়।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়