ঢাকা, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৯ ১৪৩৩

মুজিবুর রহমান রঞ্জু

প্রকাশিত: ১৪:৪২, ১৪ অক্টোবর ২০২০
আপডেট: ১৫:৩৮, ১৪ অক্টোবর ২০২০

শ্রমিকদের চলমান কর্মবিরতি চা শিল্পে বড় ধরনের হুমকি

কর্ম বিরতি পালনকালে চা শ্রমিকরা

কর্ম বিরতি পালনকালে চা শ্রমিকরা

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার আগে দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি ও উৎসব বোনাসের দাবিতে দেশের ২২৮ টি চা বাগানে গত ৭ অক্টোবর থেকে প্রতিদিন ২ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করছে চা শ্রমিকরা। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মনু-ধলই ভ্যালীর (অঞ্চলের) ২৩টি চা বাগানে ২ ঘণ্টার কর্ম বিরতি পালন করছে চা শ্রমিকরা।

প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মিছিল, মানববন্ধন ও পথ সভায় মুখরিত থাকে চা বাগানগুলো ও আশপাশ এলাকা। চলমান আন্দোলনের পরও চা বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদ বিষয়টি নিয়ে কোন ভূমিকা না রাখায় চা শ্রমিকদের এ আন্দোলন চা শিল্পের জন্য এখন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা বলেন, দৈনিক মাত্র ১০২ টাকার মজুরিতে এক একটি পরিবারের ৬ থেকে ৭ সদস্যের জীবনযাপন খুবই কষ্টকর। প্রতি দুই বছর অন্তর চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও চা বাগান মালিক পক্ষের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদের মধ্যে বৈঠক করে মজুরি বৃদ্ধি করা হয়।

মজুরি বৃদ্ধির মেয়াদ শেষে আরও কয়েক মাস অতিক্রম করলে নতুন করে চা শ্রমিকদের মজুরি এখনও বৃদ্ধি হয়নি। ফলে চা শ্রমিক পরিবারগুলো মানবেতর যাপন যাপন করছে। তাই এখন বাধ্য হয়ে একযোগে বাংলাদেশের ২২৮টি চা বাগানে ২ ঘণ্টার কর্ম বিরতি পালনসহ বিক্ষোভ মিছিল চলছে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালীর কার্যকরি কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাশ পাইনকা বলেন, মজুরি বৃদ্ধির মেয়াদ অতিবাহিত হওয়ার পরও মজুরি বৃদ্ধি না করাটা চা শ্রমিকদের ওপর অমানবিক আচরণের সামিল। তিনি আরও বলেন চা শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা দ্বার গুড়ায়। আর এ সময়ে চা শ্রমিকরা পারিবারিক নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সাথে সন্তানদের জন্য নতুন জামা কাপড়ও কিনে থাকেন। তাই পূজার আগেই মজুরি বৃদ্ধির সাথে উৎসব বোনাস প্রদানের দাবিতে  ২২৮টি চা বাগানে একযোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত ৫ দিন ধরে চা শিল্পাঞ্চল ও আশ পাশ এলাকায় চা শ্রমিকরা প্রতিদিন ২ ঘণ্টা করে কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও চা বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদ চা শ্রমিকদের দাবি নিয়ে কোন সাড়া না দেওয়ায় রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এ বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমলগঞ্জের কয়েকটি চা বাগান ব্যবস্থাপক ওবাংলাদেশীয় চা সংসদের  একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা প্রতিদিনকার চলমান কর্মবিরতিতে চায়ের উৎপাদন ব্যহত হয়ে চা শিল্পের হুমকি বলে জানান।

তারা আরও বলেন চায়ের বাজার এখন নিম্নমুখী। এ অবস্থায় চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে ভাবনা চিন্তা করছে বাংলাদেশী চা সংসদ। তবে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হবে স্থানীয়ভাবে কোন কিছু করার নয়।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাম ভজন কৈরী বলেন, চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি একটি নিয়মতান্ত্রীক বিষয়। চা বাগানের মালিক পক্ষের সংগঠন বাংলাদেশী চা সংসদ সময়ের মধ্যে মজুরি বৃদ্ধি না করায় চা শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা করেছে। তিনি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করে ও সাথে সাথে উৎসব বোনাস প্রদান করতে হবে।

আইনিউজ/ মুজিবুর রহমান রঞ্জু

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়