মুজিবুর রহমান রঞ্জু
আপডেট: ১৭:০৯, ১৪ অক্টোবর ২০২০
স্মরণ: ভাষা সংগ্রামী ও শ্রমিক নেতা মফিজ আলী
ভাষা সংগ্রামী ও শ্রমিক নেতা মফিজ আলী
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের পতনঊষার ইউনিয়নের ধোপাটিলা গ্রামের কমরেড মফিজ। তিনি একাধারে ভাষা সংগ্রামী, চা শ্রমিক নেতা, লেখক, সাংবাদিক ও শিক্ষক হিসাবে পরিগণিত ছিলেন। দেশের শ্রমিক, কৃষক, খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে গেছেন।
অসংখ্য সুযোগ সুবিধা পেলেও তিনি তা প্রত্যাখান করেছেন। নিজের ভাঙ্গা কুঁড়ে ঘরে শেষ দিন পর্যন্ত কাটিয়ে দিয়েছেন। রাজনীতিতে পোড় খাওয়া মফিজ আলী জেল, জুলুম আর হুলিয়ার পরও নিজে আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। গোছালো ও সৃশৃঙ্খল জীবনের একজন ব্যক্তি ছিলেন। আদর্শে অবিচল মফিজ আলীর স্বপ্ন ছিল শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার।
সমাজের অবহেলিত, শোষিত, নিষ্পেষিত খেটে খাওয়া শ্রমিক, কৃষক,মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যাওয়া আদর্শিক একটি নাম মফিজ আলী। যিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি তুখোড় সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা, লেখনির ক্ষুরধার, প্রগতিশীল রাজনীতি, চা শ্রমিক নেতা, ভাষা সংগ্রামী, বালিশিরা কৃষক আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনেরও একজন বলিষ্ট নেতা হিসাবে সমধিক পরিচিত ছিলেন।
যে কারণে বৃহত্তর সিলেটে একবাক্যে পরিচিত নাম মফিজ আলী। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ থানার ধূপাটিলা গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯২৭ সালের ১০ ডিসেম্বর মফিজ আলীর জন্ম। বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে বি.এ ৪র্থ বর্ষ পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন।
১৯৫০ এর দশকে কলেজ জীবনে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনৈতিক কার্যকলাপের জন্য এম.সি কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ মফিজ আলীকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করলে তার পক্ষে আর ডিগ্রি পরীক্ষা দেয়া সম্ভব হয় নি।
ছাত্রজীবন থেকেই ছিলেন তুখোড় সাংবাদিক ও কলামিষ্ট। তিনি পাকিস্তান আমলে ডন, ইত্তেফাক, সংবাদ, জনতা, আজাদ, গণশক্তিসহ বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত লিখেছেন সংবাদ ও কলাম। ছাত্রজীবনে তার প্রকাশিত পুস্তিকার নাম “পাকিস্তানে সাম্রাজ্যবাদী শোষণের নমুনা।”
পঞ্চাশের দশকে সাপ্তাহিক ইত্তেফাকে লেখা প্রবন্ধের মধ্যে “রাষ্ট্রভাষা ও আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন”, “মে দিবসের ইতিহাস” এবং ঈদ সংখ্যায় ছোট গল্প “একটি গামছা”। সাপ্তাহিক সেবার নিয়মিত তাত্ত্বিক লেখক ছিলেন।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের দিনগুলোতে সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবস্থায় কলেজে আন্দোলনের ফাঁকে এলাকায় ছুটে আসেন। তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের রক্তচক্ষুতে আঙ্গুল দিয়েও কমলগঞ্জে আন্দোলন করেন। তখনকার সময়ে ভাষা আন্দোলনের জন্য সাহসী নেতৃত্ব প্রদান করেন।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে লিপ্ত হন। সিলেটে ছাত্র ইউনিয়নের জেলা কমিটিতে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। মওলানা ভাসানীর গঠিত কৃষক সমিতির বৃহত্তর সিলেট জেলা কমিটির প্রথমে সহ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন।
১৯৬০ সালে কমিউনিষ্ট পার্টির সদস্য পদ লাভ করেন। রাজনৈতিক কারনে ১৯৬০ সালে মফিজ আলীকে গ্রেফতার করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করার ২ বছর পর মুক্তি পান। ১৯৬৩ সালে শ্রীমঙ্গলে বালিশিরা কৃষক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। এই সময়ে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন সালিক ও গনু মিয়া। পরবর্তীতে ১৯৫৪, ১৯৬০,১৯৬৪, ১৯৬৫, ১৯৬৭, ১৯৬৯ ও ১৯৭২ সালে রাজনৈতিক কারণে ও বিভিন্ন মামলায় তিনি প্রায় ৬ বছর রাজবন্দী হিসাবে কারাভোগ করেন। সাম্রাজ্যবাদী শাসন শোষন, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তিনি সবসময় সোচ্চার ছিলেন।
চা শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে চা শ্রমিক নেতা কর্মীদের নিয়ে ১৯৬৪ সালে “পূর্ব পাকিস্তান চা শ্রমিক সংঘ” নামে একটি শ্রমিক ইউনিয়ন দাঁড় করান। এই ইউনিয়নের খবর পেয়ে চা বাগান মালিকরা মফিজ আলীকে মামলা, হামলায় জর্জরিত করলেও কোন কিছুই তাকে দমাতে পারেনি।
তিনি বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। নিজের জন্য ও পরিবার সদস্যদের জন্যও জীবনে কোনকিছু করে যেতে পারেননি। এ ধরনের সম্পূর্ন নির্মোহ, নিঃস্বার্থবান একজন নেতা হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।
মফিজ আলী নিজেকে উৎসর্গ করে গেছেন নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের মুক্তির জন্য। তিনি ধ্রুব নক্ষত্রের মতো পথ দেখাবেন পথের মানুষদের এবং তার এই ত্যাগী জীবন দর্শন অনন্তকাল সকলকে প্রেরণা যোগাবে।
জীবনের শেষ দিনেও ২০০৮ সনের ৩০শে আগস্ট কুলাউড়ার একটি কৃষক সভায় অংশগ্রহণ করেন। ওই সভা থেকে ফেরার পথে সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির সম্মুখে ধূপাটিলা গ্রামে দুর্ঘটনা কবলিত হন। পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ অক্টোবর ভোররাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আইনিউজ/ মুজিবুর রহমান রঞ্জু
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























