ঢাকা, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৯ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৩২, ১৪ অক্টোবর ২০২০
আপডেট: ২০:৩৫, ১৪ অক্টোবর ২০২০

সাংবাদিকদের উপর মামলা, আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত

খালাসপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা

খালাসপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের অফিস, হলরুম নিউজ কর্ণারের আশে পাশের ভূমি নিজ নামে বন্দোবস্ত নেয়ার হীন চক্রান্ত করে এক লন্ডন প্রবাসীর হয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের চার সিনিয়র সাংবাদিক ও একজন জেলা পরিষদের সদস্যের উপর করা মিথ্যা মামলা দায়ের করেন মৌলভীবাজার সদরের বাসিন্দা আব্দুল হালিম।

দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে মৌলভীবাজার জুডিশিয়াল ২য় আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. মিজবাহ উর রহমান মামলাটি মিথ্যা বলে ঘোষণা দেন। সেই সাথে সাংবাদিকসহ জেলা পরিষদ সদস্যকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।

খালাস প্রাপ্তরা হলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি শামীম আক্তার হোসেন, সিনিয়র সহ সভাপতি আরটিভি ও আমাদের সময়ের মৌলভীবাজার স্টাফ রিপোর্টার চৌধুরী ভাস্কর হোম, সাধারণ সম্পাদক ও একুশে টেলিভিশনের মৌলভীবাজার প্রতিনিধি বিকুল চক্রবর্তী, দৈনিক প্রথম আলোর শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি শিমুল তরফদার ও মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ সদস্য মশিউর রহমান রিপন। 

জানা যায়, শ্রীমঙ্গল সাগরদীঘি রোডস্থ শান্তিবাগ এলাকায় সরকারের জিম্মায় থাকা অর্পিত সম্পত্তিতে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাব, নিউজ কর্নার, মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আবুবক্কর সিদ্দিকি মোহন ভাড়াটিয়ার মাধ্যমে সেখানে ভোগ দখল করে আসছেন এবং বৈধভাবে বসবাসের লক্ষ্যে সরকারকে রাজস্ব প্রদানের জন্য সমস্ত কাগজপত্রসহ আবেদনও করেন।

কিন্তু উক্ত জায়গাটি বন্দোবস্ত পাওয়ার স্বার্থে ভূমি লোভী ওই লন্ডন প্রবাসী ও আব্দুল হালিম জায়গায় অবস্থানকারী আবু বক্কর সিদ্দিকি মোহন ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবসহ অন্যান্য  দখলদারদের উঠিয়ে দিয়ে নিজেদের দখলে নিতে নানা পায়তারা চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় তারা এই চার সাংবাদিক ও এক জনপ্রতিনিধির উপরে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ বিচারিক কার্য শেষে তাদের বেকসুর খালাস দেন। এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ ন্যায় বিচার প্রতিষ্টা করায় আদালতের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। 

প্রেসক্লাবের পক্ষে এ মামলাটি পরিচালনা করেন জেলার সিনিয়র আইনজীবি রাধাপদ দেব সজল, মিছবাহ্ উদ্দিন আহমেদ, প্রণব কান্তি দাশ রাকু ও জাহেদুল হক কচি।  

উপজেলা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক বিকুল চক্রবর্তী বলেন, আমাদের প্রেসক্লাব, নিউজ কর্ণার ও মুক্তিযুদ্ধের প্রদর্শনী যেখানে আছে এটি শ্রীমঙ্গলে প্রাক্তন বাসিন্দা বিজরাজ পাটোয়ারীর শ্রীমঙ্গলে ফেলে যাওয়া ভূমি। বর্তমানে তা জেলা প্রশাসনের জিম্মায় রয়েছে। এই জমিটি বৈধভাবে বন্দোবস্ত পাওয়ার পক্ষে সমস্ত ডকুমেন্টসহ আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি। এই জমিটি তাদের (ভূমিখেকো চক্র) দখলে নিয়ে তাদের পক্ষে বন্দোবস্ত নেয়ার জন্য তারা মিথ্যা মামলা করে।

শুধু এই মামলা নয় তারা প্রেসক্লাবের একাধিক সাংবাদিকের উপর আরো একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে সে মামলার কপি প্রত্যেকের পত্রিকা ও টেলিভিশনের প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণ করে সাংবাদিকদের হয়রানি করা চেষ্টা করে। তাদের করা মিথ্যা মামলায় আমরা প্রায় দুই বছর ধরে আদালতে যেতে হয়েছে। আমরা সংবাদ কর্মীরা এমনিতেই অনেক ব্যস্ত থাকি আদালতকে সম্মান জানিয়ে আমরা মামলার তারিখে তারিখে যেতে হয়েছে। আমাদের প্রচুর সময়, অর্থ ও সম্মান নষ্ট হয়েছে এতে।

আইনিউজ/এস.এম/এসডিপি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়