ঢাকা, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৯ ১৪৩৩

মুজিবুর রহমান রঞ্জু

প্রকাশিত: ২২:৪৯, ১৫ অক্টোবর ২০২০
আপডেট: ২২:৫৭, ১৫ অক্টোবর ২০২০

করোনায় প্রধান ফটকে তালা, লাউয়াছড়ার প্রবেশ মুখে পর্যটকের আনাগোনা

উদ্যানের প্রবেশ মুখে পর্যটক

উদ্যানের প্রবেশ মুখে পর্যটক

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক ও বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধে পর্যটকের প্রবেশ ও ঘোরাঘুরি নিষেধ। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান প্রবেশ ফটক বন্ধ থাকায় ভিতরে প্রবেশ করতে না পারলেও উদ্যানের প্রবেশমুখে ও কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল পাহাড়ি সড়কে পর্যটকদের আনাগোনা করতে দেখা যাচ্ছে।

তবে, মাধবপুর চা বাগান লেক ও বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ ও যাদুঘর এলাকায় কোন প্রকার বাঁধা না থাকায় পর্যটকরা সে দুটি স্থানে প্রবেশ করছেন। সম্প্রতি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উদ্যানের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ থাকায় ও নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্কতায় সেখানে কোন পর্যটক প্রবেশ করতে পারেননি।

তবে বিভিন্ন স্থান থেকে মোটরসাইকেল,সিএনজি অটোরিক্সা, ব্যক্তিগত কার, মাইক্রোবাস ও পিকআপে করে আসা পর্যটকরা উদ্যানের বাহিরে কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের পাহাড়ি রাস্তা এলাকায় ঘোরাঘুরি করে ছবি তুলেন। পর্যটকরা লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রধানফটক এলাকা ঘুরে সেখানে ছবি তুলছেন।

এ সুযোগে কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ দোকানও বসেছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের কার পার্কিং এলাকায়। আগত পর্যটকরা সড়ক ধারের পাহাড়ি টিলার উপর উঠানামা করেন। ফুলবাড়ি চা বাগানের প্লান্টেশন এলাকায় প্রবেশ করে ছবি তুলতেও দেখা যায়। এসব পর্যটকরা আবার পরবর্তীতে মাধবপুর লেক এলাকায় প্রবেশ করছেন।

মাধবপুর চা বাগান লেক এলাকা গেলে দেখা যায় লেকে যাবার আগে ২টি স্থানে ফটক রয়েছে। ফটকে পর্যটকদের ব্যবহৃত যানবাহন আটকিয়ে পায়ে হেটে পর্যটকদের ভিতরে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। মাধবপুর চা বাগান কারখানা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার ভিতরে তিন দিকের উঁচুপাহাড়ি টিলা বেষ্টিত লেকে পর্যটকরা দল বেধে যাতায়াত করছেন।

পর্যটকরা আবার মাধবপুর ইউনিয়নের ধলই সীমান্তে বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহীহামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ ও হামিদুর রহমান যাদুঘর পরিদর্শন করছেন। ধলই বিজিবি ক্যাম্পের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত স্থান ও বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান শাহাদৎ বরণের স্থান পরিদর্শন করছেন পর্যটকরা।

লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির স্টুডেন্ট কাউন্সিলের নেতা ও ইকো ট্যুর গাইড সাজু মারছিয়াং বলেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ১৯ মার্চ থেকে জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এরপর থেকে জাতীয় উদ্যানে কোন পর্যটক প্রবেশ করতে পারছেন না। এ অবস্থায় আপন পরিবেশে রয়েছে এ বন ও বনের পশু পাখি। সম্পূর্ণরুপে কোলাহলমুক্ত অবস্থায় আছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লাউয়াছড়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেন বলেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধের কারণে সরকারি নির্দেশনায় গত ৬ মাস ধরে এ উদ্যানে পর্যটকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। করোনা সংক্রমণ কমে গেলে সরকারি নির্দেশনা আসলে আবারও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ফটক খুলে দেওয়া হবে পর্যটকদের জন্য। এ অবস্থায় এখন পর্যটকরা আসছেন আর ফটকের বাহিরে ঘোরাঘুরি করে ও পাহাড়ি রাস্তায় ঘুরে ছবি তুলছেন।

আইনিউজ/মুজিবুর রহমান রঞ্জু

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়