নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ১৮:১৪, ২২ অক্টোবর ২০২০
২০ কোটি টাকার কৃষি সেঁচ পাম্পের দাম ৫৫ কোটি টাকা, দুদকের মামলা
কাশিমপুর পাম্প হাউস
মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরে অবস্থিত কাশিমপুর পাম্প হাউজ। হাওরের জমির ধান চাষ পাম্প হাউজের সেঁচ প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল। সেঁচ পাম্প কাজ করলে কৃষকের ঘরে ধান ওঠে। পাম্প কাজ না করলে পানিতে তলিয়ে যায় হাওরের ধান।
হাওর জনপদের কৃষকরা এমন দুর্যোগের হাত থেকে বাঁচার জন্য বারবার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। হাওরের জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য পানি সেঁচের ব্যবস্থা থাকলেও যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রভাবশালীদের চাপ, বিদ্যুৎ সমস্যাসহ নানা কারণে হাওর থেকে পানি সেঁচ দেয়া হয়নি। এ অবস্থায় কাশিমপুর পাম্প হাউজ আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয় সরকার।
চলতি মৌসুমে কাশিমপুর পাম্পহাউজে ৮টি নতুন সেঁচ প্রাম্প স্থাপন করা হয়। এ বছর এলাকার কৃষকেরা তাদের অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনেন। নতুন মেশিন স্থাপন করায় স্থানীয় কৃষকেরা বেজায় খুশি। কিন্তু কৃষকের দীর্ঘ কাংখিত এই প্রকল্পে ঘটে গেছে বড় ধরনের দুর্নীতি। প্রকল্পে ২০ কোটি ৪১ লাখ টাকার পাম্প কেনায় দেখানো হয়েছে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা।
মনুনদী সেঁচ প্রকল্পের অধীনে মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরের ২৪ হাজার ১৭৮ হেক্টর এলাকার ১৯ হাজার ২২৮ হেক্টর চাষযোগ্য জমির বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থা প্রদান করার লক্ষ্য নিয়ে কাউয়াদীঘি হাওরের কাশিমপুর পাম্পহাউজে দ্বিতীয় বারের মতো স্থাপন করা হয়েছে নতুন পাম্প মেশিন।
এই প্রকল্পে ৮টি পাম্পের মূল্য দেখানো হয় ৫৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা যার প্রকৃত মূল্য পাওয়া যায় ২০ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এই ৩৪ কোটি ৪২লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী চৌধুরী নজমুল আলমসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।
দুদকের হবিগঞ্জ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালক কামরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, বুধবার দুদকের হবিগঞ্জ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে উপ-সহকারী পরিচালক সহিদুর রহমান মামলা করেন। এই মামলার বাদী দুদক।
‘মনু নদীর সেচ প্রকল্পের আওতাধীন কাশিমপুর পাম্প হাউস পুনর্বাসন’ প্রকল্পের আওতায় পাম্প কেনায় দুর্নীতির অভিযোগে এই মামলার আসামি, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিগমা ইঞ্জিনিয়ারস লিমিটেডের এমডি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, চেয়ারম্যান প্রকৌশলী সৈয়দ আরশেদ রেজা এবং জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী আব্দুস সালামকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে কাশিমপুর পাম্প হাউস পুনর্বাসন প্রকল্পের জন্য প্রকৃত দামের চেয়ে বেশি দামে পাম্প কিনেছেন। অনুসন্ধানে ৮টি পাম্পের প্রকৃত মূল্য পাওয়া যায় ২০ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
অথচ বিল হিসেবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সরকার থেকে আদায় করেছে ৫৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।’ এতে সরকারের ৩৪ কোটি ৪২ লাখ সতেরো হাজার একশ ছিয়ানব্বই টাকা বিশ পয়সা ক্ষতি হয়েছে। তারা দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
উল্লেখ্য, মামলার আগে দীর্ঘদিন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে দুদক।
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























