ঢাকা, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৯ ১৪৩৩

মুজিবুর রহমান রঞ্জু

প্রকাশিত: ২২:০৯, ২৪ অক্টোবর ২০২০
আপডেট: ২২:১৩, ২৪ অক্টোবর ২০২০

লোকচক্ষুর অন্তরালে কমলগঞ্জের দৃষ্টিনন্দন ডরমেটরী লেক

ডরমেটরী লেক

ডরমেটরী লেক

ঘন ঝোপ-ঝাড়ে আচ্ছাদিত চারদিকে উঁচু নিচু পাহাড়-টিলার বেষ্টনী। বেষ্টনীর মধ্যভাগটি জলে পরিপূর্ণ। জলের উপরে ভেসে উঠেছে মনোহরা লাল শাপলা ফুল। শুধুমাত্র যাতায়াত সুবিধা না থাকায় দৃষ্টিনন্দন এই ছোট লেকের কথা অনেকেরই অজানা। 

দীর্ঘদিন ধরে লেকটি রয়েছে লোক চক্ষুর অন্তরালে। লেকটির আয়তন প্রায় ছয় (৬)একর। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ৩ নং গেইট বাগমারা ক্যাম্প সংলগ্ন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান স্টুডেন্ট ডরমেটরী’র পিছনেই এই দৃষ্টিনন্দন লেকটির অবস্থান।

লেকটি মূলত প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্টি, তবে স্বল্প গভীরতা ও লেকের একপার্শ্বে বাঁধ না থাকায় লেকটি শুকনো মৌসুমে পানিশূন্য হয়ে যেত। বন্যপ্রাণীর খাবারের পানির সংকট নিরসন হয় দৃষ্টিনন্দন এই লেকটির দ্বারা। শুকনো মৌসুমে বন্যপ্রাণীর খাবারের পানি সঙ্কট দূর করার জন্য ২০১৬ সালে বন বিভাগের (বন্যপ্রানী) আর্থিক সহযোগিতায় লেকটিকে গভীরভাবে খনন করা হয় এবং লেক থেকে যাতে পানি বের না হয় সেজন্য এক পাশে মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে লেকটি পরিপূর্ণ হয় যাশুকনো মৌসুমেও বন্যপ্রাণীর জন্য একমাত্র জলের উৎস হিসেবে কাজ করে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জলে পরিপূর্ণ লেকটির উপর দিয়ে একটিলা থেকে অপর টিলায় যাওয়ার জন্য তৈরি করেছে দৃষ্টিনন্দন বাঁশের সাঁকো।

লেকের পানিতে চলার জন্য স্টুডেন্ট ডরমেটরির দায়িত্বে থাকা অফিস সহকারী মোহাম্মদ ওয়াহিদ মিয়ার একটি বাঁশের ভেলা তৈরি  করেছেন।
স্থানীয়দের দাবী লেকটির প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য যদি এখানে একটি নৌকা রাখা হয়, তাহলে ভ্রমনে আসা পর্যটকরা নৌকা ভ্রমন করে প্রকৃতির স্বাদ উপলব্ধি করতে পারবেন। সরকারী ভাবে উদ্যোগ গ্রহন করে যদি লেকটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয় তবে সরকার রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে এবং পর্যটকের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠবে দৃষ্টিনন্দন এই লেক।

মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লাউয়াছড়া বন রেঞ্জার মোনায়েম হোসেন জানান, লাউয়াছড়া স্টুডেন্ট ডরমেটরী লেকের উন্নয়নের জন্য আমরা (বন বিভাগ) একটি প্রকল্প নিয়েছি। লেকটির চার পাশ দিয়ে হাঁটার জন্য একটি ট্রেইল পথ (পায়ে হাঁটার পথ)তৈরি করা হবে, সেই সাথে লেকের উপর তিনটি ঝুলন্ত সেতু ও দুইটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করার পরিকল্পনা চলছে বলেও জানান। আধুনিক লেক হিসেবে গড়ে তোলার চিন্তাধারা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন শীগগীরই কাজ শুরু হতে পারে।

কমলগঞ্জ জীব বৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি মঞ্জুর আজাদ ও ইকো ট্যুর গাইড সাজু মারছিয়াং বলেন, ইতিমধ্যেই লেকটি পর্যটকদের আকৃষ্ট করেছে।ইকো ট্যুরিজম (পরিবেশ বান্ধব পর্যটন) এর আদলে লেকটির উন্নয়ন করলে যেমন পরিবেশের প্রতি প্রভাব ফেলবে না তেমনি ভ্রমণ পিপাসু প্রকৃতিপ্রেমীরাও প্রকৃতি উপলব্ধি করতে পারবেন।

লেকের পাশে যদি হিজল প্রজাতিরবৃক্ষ রোপন করা হয় তাহলে শীত মৌসুমে অনেক অতিথি পাখির আগমন ঘটবে যা পর্যটকদের কাছে পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত লাভ করবে প্রকৃতির বুকে সৃষ্টি দৃষ্টিনন্দন এই লেকটি।

আইনিউজ/মুজিবুর রহমান রঞ্জু 

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়