মুজিবুর রহমান রঞ্জু
চা বাগানে ভারী হচ্ছে বেকারত্বের বোঝা!
চা বাগান
দেশের গুরুত্বপূর্ণ চা শিল্পাঞ্চলের চা শ্রমিক পরিবারে শিক্ষিতের হার বাড়ার সাথে সাথে ভারী হচ্ছে বেকারত্বের বোঝা। এই বেকারত্ব এখন চা বাগানগুলোর সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিচ্ছে।
মা-বাবার স্বপ্নকে লালন করে এইচএসসি, বিএ ও এমএ পাস করে চাকুরী না পেয়ে চা বাগানের যুবক, যুবতীরা নানা যন্ত্রনার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। হতাশাগ্রস্ত জীবনযাপন করে মধ্যবয়সি ও শত শত যুবক যুবতীরা কাজের সন্ধানে বস্তি এলাকা ও নার্সারী সমূহে কাজের সন্ধানে ছুটে বেড়াচ্ছে।
পরিবারের সাত-আট সদস্যের মধ্যে একজনের দৈনিক ১২০ টাকা মজুরিতে কোন মতেই সংসার চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে ২২৮ টি চা বাগানের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ চা শ্রমিক জনগোষ্ঠী রয়েছে। এদের মধ্যে চা বাগানে স্থায়ী শ্রমিক হিসাবে রয়েছে প্রায় ৯১ হাজার এবং অস্থায়ী ৩২ হাজার মিলিয়ে কর্মরত আছেন প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার জনগোষ্ঠী।
এসএসসি, এইচএসসি, বিএ ও এম এ পাস চাশ্রমিক সন্তানরা চা বাগানে কাজ না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত নানা যন্ত্রণার জীবনযাপন করছেন। যুব সমাজের মধ্যে কেউ কেউ নেশাগ্রস্থও হয়ে পড়ছেন। চা বাগানের মধ্যবয়সী বেকার ও শিক্ষা গ্রহণ থেকে দূরে থাকা নারী-পুরুষ এবং কিছু যুবক-যুবতী বাগানে কাজ না পেয়ে বস্তি এলাকা, ভবন নির্মাণ কাজ, মাটি কাটা, লাকড়ি করা, কৃষিকাজ ও নার্সারী সমূহে গিয়ে কাজ করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন।
শমশেরনগর চা বাগানের শ্রমিক সবিতা নায়েক, শমশেরনগর চা বাগানের ফাঁড়ি দেওছড়া চা বাগানের বেকার নারী শ্রমিক শান্তি রবিদাস বলেন, আমরা স্বামী-স্ত্রীসহ পরিবারের ৫ থেকে ৮ জন সদস্যের মধ্যে একমাত্র স্বামীর দৈনিক ১২০ টাকা মজুরি দিয়ে কাজ করে সংসার চালাতে হচ্ছে।
শমশেরনগর চা বাগান এর নারী শ্রমিক কাঞ্চনী বাউরী বলেন, আমার একমাত্র মেয়ে আরতি বাউরী এসএসসি পাস করে ঘরে বসেই বেকার জীবন যাপন করছে।
চা শ্রমিক সন্তানদের সংগঠন শমশেরনগর জাগরণ যুব ফোরাম এর সভাপতিমোহন রবিদাস ও উত্তরণ বাংলাদেশ এর সভাপতি অনুময় বর্মা বলেন, আমাদের চা বাগানে বেকারত্বের বোঝা ভারী হচ্ছে। যুবকদের অনেকেই বিপথগামী হচ্ছে। কাজকর্ম না থাকায় বেকার মধ্যবয়সীরা নানা অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হয়ে দুঃখ-কষ্টে জীবনযাপন করছেন। তারা আরও বলেন, অভাবী সংসারের লাগাম টানতে কেউ কেউ বস্তি এলাকায় গিয়ে মাটি কাটা, লাকড়ি কাটাসহ কঠিন কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
শমশেরনগর চা বাগানের ফাঁড়ি কানিহাটি চা বাগানের ইউপি সদস্য সীতারাম বীন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ চা শিল্পে বাগানের পতিত জমিতে নতুন চা বাগান করা, কারিগরি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা গ্রুপ তৈরি, শিক্ষার হার বৃদ্ধির জন্য চা শ্রমিক, মালিক ও সরকার পক্ষকে একযোগে কাজ করে বেকারত্ব মুক্ত না করলে ভবিষ্যতে ভয়াল সমস্যা হয়ে দেখা দেবে।
চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাজভজন কৈরী জানান, চা বাগানে শ্রমিকদের ব্যাপক একটি অংশ বেকার রয়েছে। সারাদেশে চা বাগানের শিক্ষিত চা জনগোষ্ঠির সুনির্দিষ্ট জরিপ সম্পন্ন করা না হলেও প্রায় ৫০হাজারেরও বেশি শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী রয়েছে।
এছাড়া এসএসসি পর্যায়ে উত্তীর্ণ অনুত্তীর্ণদের মধ্যে রয়েছে শোচনীয় অবস্থা। তিনি আরও বলেন, এদের কর্মসংস্থানের জন্য মালিক পক্ষের সাথে আলোচনা চলছে শ্রমিকের ক্ষেত্রে শ্রমিক নিয়োগ, ৭টি ভ্যালিতে কারিগরি বিদ্যালয় স্থাপন ও সরকারি চাকুরীতে উচ্চ শিক্ষিতদের ক্ষেত্রে কৌটা সুবিধার দাবি জানানো হয়েছে।
আইনিউজ/মুজিবুর রহমান রঞ্জু
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























