মুজিবুর রহমান রঞ্জু
আপডেট: ২২:৪৮, ২৯ অক্টোবর ২০২০
পৌরসভা নির্বাচন
কমলগঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু, বিএনপি কৌশলী প্রচারণায়
ফাইল ছবি
নির্বাচন কমিশন অফিস সূত্রে প্রকাশিত খবরে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানা গেছে। এ খবরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভায় সম্ভাব্য মেয়র, কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে তৎপরতা শুরু করে দিয়েছেন।
করোনাকালীন সময়ে প্রার্থীরা লোকজনের পাশে গিয়ে সাহায্য-সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে ভোটারদের মন জয় করতে চাইছেন। তবে এখন নির্বাচনী মাঠে অনেক প্রার্থীই তৎপর থাকলেও মূল লড়াই এর এক তৃতীয়াংশই প্রার্থী থাকবে না। কারণ ২০১৫ সালের পৌরসভা নির্বাচনে দেশে প্রথম বারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তাই মূল নির্বাচনের পূর্বেই দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের দলের মধ্যে লড়াই করে প্রার্থী হতে হবে।
তফসিল ঘোষণার আগেই পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। ইতিমধ্যে পৌর এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পোষ্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ড টাঙিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
শুধু তাই নয় হাট-বাজারে ও বিভিন্ন দোকানে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন থেকেই গ্রামে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, মসজিদে ও বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানে যোগদানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন।
ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে ঘোরাঘুরি ও দৌড়ঝাঁপও চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থীত প্রার্থীরা ভোটের আগেই দলীয় মনোনয়ন পাওয়াকেই বেশী প্রধান্য দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তুলনায় বিএনপির প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ কিছুটা কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিগত কমলগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৫ সালের ৩১ডিসেম্বর। তখন পৌর চেয়ারম্যান পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছিলেন ৭ জন। প্রথমবারের মতো তরুন প্রার্থী মো. জুয়েল আহমেদ আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে ৩৯৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়ে কমলগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদটি দখলে নেন।
অন্যদিকে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া হাবিব বিপ্লব (তালগাছ) ভোট পেয়েছিলেন ২৮০৪ ও বিএনপির প্রার্থী আবু ইব্রাহিম জমসেদ (ধানের শীষ) ২১৩৩ ভোট পেয়েছিলেন । বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী হাছিন আফরোজ চৌধুরী( জগ) ৪২৬ ভোট, রফিকুর আলম ভোট পেয়েছিলেন ৮০টি, নজরুল ইসলাম ভোট পেয়েছিলেন ৮০টি এবং মাসুক আহমদ ভোট পেয়েছিলেন ২৩টি।
এবার ২০২০ সালের নির্বাচনে কমলগঞ্জ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার হচ্ছেন ১৫২০৩ জন। তার মধ্যে পুরুষ ৭৬০০ এবং মহিলা ৭৬০৩ জন।
একাধিক জনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এবারও কমলগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমলগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে এক প্রকার প্রকাশ্যই বিভেদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবারের কমলগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেন।
আরো জানা যায়, পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য ৪ জন ও বিএনপির সম্ভাব্য ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন। জাতীয় পার্টির তৎপরতা এখনও চোখে পড়েনি।
বর্তমানে প্রার্থীতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং নির্বাচনি মাঠে কাজ করছেন- বর্তমান পৌর মেয়র, সাবেক ছাত্র নেতা কমলগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ বিদ্যুৎসাহী ও সমাজকর্মী মো. জুয়েল আহমদ, কমলগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পৌর কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন, কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও বর্তমান পৌর কাউন্সিলর রাসেল মতলিব তরফদার ফখরু, কমলগঞ্জ উপজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের আহবায়ক ও ঠিকাদার মো. হেলাল মিয়া।
অপরদিকে বিএনপি থেকে প্রার্থীতা হিসাবে মাঠে কাজ করছেন- কমলগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র আবু ইব্রাহিম জমসেদ, মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানী তৈমুর ও জাকারিয়া হাবিব বিপ্লব প্রমুখ। তারা ইতিমধ্যেই নানান প্রতিশ্রুতি নিয়ে আগে ভাগেই ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষনের কার্যক্রমে লেগে পড়েছেন।
বর্তমান পৌর মেয়র মো. জুয়েল আহমদ বলেন,বিগত নির্বাচনের সময় আমি ভোটারদের কাছে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তার সিংহভাগই
পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। আবারো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। আশাকরি ভোটাররা অবশ্যই বিগত দিনের আমার কাজের মূল্যায়ন করে পুণরায়
নির্বাচিত করে তাদের সেবা করার সুযোগ করে দিবে।
অপর প্রার্থী কমলগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন,দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে মানুষের কাছে আছি। তাই মানুষের সেবা করার জন্য প্রার্থী হতে যাচ্ছি।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও বর্তমান পৌর কাউন্সিলর রাসেল মতলিব তরফদার ফখরু বলেন, জনসেবাকে ইবাদত মনে করি। জনসেবায় নিয়োজিত আছি,আরো বেশী সেবায় নিয়োজিত থাকতে প্রার্থী হচ্ছি।
ঠিকাদার হেলাল মিয়া বলেন, আমি অনেক দিন ধরেই মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছি। আরো ব্যাপক ভাবে মানুষের সেবা করার জন্য নির্বাচনে প্রার্থী হতে যাচ্ছি। আশা করি ভোটাররা অমাকে বিজয়ী করবেন।
অপর প্রার্থী আবু ইব্রাহিম জমসেদ বলেন, আমি ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের সেবায় নিজেকে সবসময় নিয়োজিত রেখেছিলাম। তাই এই কাজে নিজেকে আরো নিবিড়ভাবে জড়ানোর ইচ্ছায় প্রার্থী হচ্ছি।
জাকারিয়া হাবিব বিপ্লব বলেন, আমার পরিবার সবসময়ই জনগণের সেবায় নিয়োজিত ছিল। তাদের উত্তরসূরি হিসাবে আমি মানুষের সেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চাই।
তরুণ প্রার্থী মৌলভীবাজার জেলা যুব দলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানী তৈমুর বলেন, শহরবাসী পরির্বতন চায়। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের হাত থেকে মুক্তি পেতে চায়। তাই উন্নত নাগরিক সেবা ও আধুনিক পৌরসভা গঠনে কাজ করার ইচ্ছা থেকে প্রার্থী হচ্ছি।আশাকরি জনগণ তাদের সেবা করার সুযোগ তৈরী করে দিবেন।
আইনিউজ/মুজিবুর রহমান রঞ্জু
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























