মুজিবুর রহমান রঞ্জু
আপডেট: ২২:৪৩, ৩১ অক্টোবর ২০২০
কমলগঞ্জে ইউএনও পরিচয় দিয়ে অভিনব উপায়ে প্রতারণা
ফাইল ছবি
মুঠোফোনে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) পরিচয় দিয়ে শমশেরনগরে একটি বেকারি থেকে অভিনব উপায়ে প্রতারণা করে বিকাশে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে । এছাড়াও ওই প্রতারক বিভিন্ন মিষ্টি, ফাস্ট ফুড, বেকারি দোকানের তালিকাসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা দাবি করেছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে মুঠোফোনে একজন ইউনিয়নের দফাদারকে ব্যবহার করে ইউএনও'র পরিচয় দিয়ে শমশেরনগর বাজারে এই প্রতারণা করে প্রতারক। শনিবার (৩১ অক্টোবর) আরও একটি বেকারীতে প্রতারণা করার চেষ্টাকালে এ বিষয়টি প্রকাশ পায়।
শমশেরনগর বাজারের কাজী বেকারির মালিক সোয়াব উল্ল্যা বলেন, শমশেরনগর ইউনিয়ন দফাদার মনু মিয়া বাজারের বেকারি ও মিষ্টি দোকানে এসে ইউএনও পরিচয় দিয়ে একটি মুঠোফোন নম্বরে কথা বলতে অনুরোধ জানায়। এ সময়ে ০১৭৩১৫৯৯৪৬৬ নম্বরে কল দিলেই নিজেকে কমলগঞ্জের ইউএনও পরিচয় দিয়ে বিএসটিআইসহ সব ধরণের লাইসেন্স আছে কিনা জানতে চায়। লাইসেন্স আছে জানার পরেও রোববার অভিযান পরিচালনা করা হবে ও নানা ধরণের ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে লাইসেন্স না থাকলে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে বলে ভীতি প্রদর্শণ করে।
পরে যেকোন মূল্যে ১০ হাজার টাকা পাঠাতে হুমকি দেয় এবং প্রতারক তার রকেট নাম্বার ০১৭৯৩৬৬৯০০৩ দিয়ে টাকা পাঠাতে বলে। ব্যবসায়ী ওই নাম্বারে ৫ হাজার টাকা পাঠান। পরে সন্তুষ্ট না হয়ে পরবর্তীতে কাজী বেকারির মালিক সোয়াব উল্ল্যাকে আবারও ধমক দিলে পুনরায় প্রতারকের বিকাশ নাম্বার ০১৮১৩০১৫৮৭১ তে বাকি টাকা পাঠাতে বলে। ফলে বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ী বিকাশ নম্বরে আরও ৫ হাজার টাকা প্রেরণ করেন।
শনিবার শমশেরনগর বাজারের ঢাকা বেকারীর মালিক জাকির হোসেনের সাথে ০১৭৩১৫৯৯৪৬৬ নাম্বারে ইউএনও পরিচয় দিয়ে টাকা দিতে দাবি করলে বিকাশে না দিয়ে সরাসরি এসে টাকা নিতে অনুরোধ করেন বেকারির মালিক। বিষয়টি জানাজানি হলে শমশেরনগর বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক ইউএনও’র নম্বর যাচাই করতে গিয়ে প্রতারণার বিষয়টি ফাঁস হয়।
শমশেরনগর ইউনিয়নের দফাদার মনু মিয়া বলেন, শমশেরনগর ইউনিয়নের সদস্য ইয়াকুব মিয়াকে ফোন দিয়ে তার (দফাদারের) ফোন নম্বর সংগ্রহ করে প্রতারক। পরে ০১৭৩১৫৯৯৪৬৬ নম্বর থেকে ফোন দিয়ে নিজেকে ইউএনও পরিচয় দিয়ে শমশেরনগর বাজারের প্রতিটি বেকারি ও মিষ্টি দোকানের নাম, মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে উনার সাথে কথা বলিয়ে দিতে বলেন।
পরবর্তীতে ফোন কলের নির্দেশ মোতাবেক আমি প্রতিটি দোকানের তালিকা করি এবং তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নম্বরে উনাকে কথা বলে দেই। পরে কাজী বেকারির মালিক সোয়াব উল্ল্যার কাছ থেকে ঐ ব্যক্তি টাকা নিয়েছে।
শমশেরনগর ইউনিয়নের সদস্য ইয়াকুব মিয়া বলেন শুক্রবার দুপুরে ঈদে মিলাদুন্নবীর শোভাযাত্রা চলাকালে ০১৭৩১৫৯৯৪৬৬ নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে ইউএনও পরিচয় দিয়ে দফাদার মনু মিয়ার ফোন নম্বর নিয়েছে। শোভাযাত্রার ব্যস্ততার পরে তিনি আর এ নিয়ে কোন খোঁজখবরও নিতে পারেননি।
শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ বলেন, বিষয়টি ইউএনও'র কাছ থেকে জেনে ইউনিয়নের দফাদারকে ডেকে এনে শাসিয়ে দিয়ে ওই ব্যবসায়ীর ১০ হাজার টাকা ফেরত দিতে এবং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করার জন্য বলেছি। ভবিষ্যতে যেন আর এ ধরণের কোন ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছি।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, এটি অভিনব প্রতারনা। ওই দফাদারকে এনে জবাবদিহিরতার মধ্যে রাখতে হবে। শমশেরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।
আইনিউজ/মুজিবুর রহমান রঞ্জু
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























