নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার
আপডেট: ১২:১৬, ৬ নভেম্বর ২০২০
মাল্টা চাষ করে স্বচ্ছল অর্ধশতাধিক বেকার যুবক
মাল্টা চাষে অনেক বেকাররাই এগিয়ে আসছেন
রসালো ফল মাল্টা চাষ করে মৌলভীবাজারের অর্ধশতাধিক বেকার যুবক আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়েছেন। গেল কয়েক বছরে সরকারের আর্থিক সহায়তা ও মাঠ পর্যায়ে নানা প্রশিক্ষণই তাদের জীবনের গতি পাল্টে দিয়েছে। ফলন ভালো হওয়াতে এবছর সাড়ে সাত কোটি টাকার মাল্টা বিক্রির আশা স্থানীয় কৃষি বিভাগের।
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার নন্দিউড়া গ্রামের মাল্টা চাষী আল-আমীন। তিনিকৃষি বিভাগের পরামর্শে ২০১৭ সালে ৩ বিঘা জমিতে বারি-১ জাতের মাল্টা বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেছেন। প্রথম বারের মতো ফল এসেছে গাছে। সম্প্রতি সেই বাগানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি গাছে গড়ে ৫০ টির মতো ফল এসেছে। ইতোমধ্যে তিনি ফল বিক্রি শুরু হয়েছে।
আল-আমীন জানালেন, কৃষিবিভাগের অনুপ্রেরণায় তিনি অনেকটা শখের বসে বাগান তৈরি করেন। কিন্তু ফল দেখে এখন অভিভূত তিনি। প্রায় দুই লক্ষ টাকার মাল্টা বিক্রির আশা করছেন তিনি। ফলের ভালো আকার এবং স্বাদের জন্য বাজারেও সাড়া মিলছে।
বাগান মালিক আল-আমীনের বাগানের ফলন দেখে প্রতিবেশী ও পরিচিত অনেকে মাল্টা বাগান করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেশী একজন জানালেন, মাল্টা বাগানের পাশে তিনি মৌচাষ করেছেন। যখন ফুল ফুটে তখন তার চাষের মৌমাছি চলে যায় মাল্টা বাগানে। এবং মধু নিয়ে আসে। সেই ফুলের মধু অনেক ভালো এবং এবছর তিনি বেশি মধু পেয়েছেন।

সদর উপজেলার আকবরপুর এলাকার আব্দুল হাদি কয়েক বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে ছোট একটি মাল্টা বাগান গড়েছেন। তিনি জানালেন, এটি একটি লাভজনক চাষ। এখানকার মাটিতে ভালো মাল্টা ফলছে। স্বাদও ভালো। এখানকার উৎপাদিত প্রতিকেজি মাল্টা ১৪০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি মাল্টায় পাঁচ থেকে ছয়টি ফলে ধরে। বেকারদের এই চাষের পরামর্শ দেন তিনি।
মৌলভীবাজার কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলার সাত উপজেলায় ১০০ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ হয়েছে। ছোট-বড় ৩০০টি মাল্টা বাগান গড়ে উঠেছে এখানে। নতুন বাগানগুলোতে এবছর ফল আসে নি। যেসব বাগানে ফল এসেছে সেগুলো হিসেব করলে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন মাল্টা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাহেদুল ইসলাম জানান, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সাইট্রাস প্রকল্পের আওতায় রাজনগরে কয়েকটি মাল্টাবাগান তৈরি করা হয়েছে। বাগান তৈরি , গাছের যত্ন, পানি নিষ্কাশন, সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগসহ সকল ধরণের পরামর্শ ও সহযোগিতা করছে স্থানীয় কৃষিবিভাগ।
ফল পোক্ত হবার পর বাজারে বিক্রি নিয়ে চাষীরা চিন্তিত ছিলেন। তারা সেইফল বিক্রির লিংকটাও তৈরি করে দিয়েছেন। এখন আর কোনো সমস্যা নেই। তিনি বলেন, এটা পরীক্ষিত এখানকার আবহাওয়া ও মাটি মাল্টা চাষের উপযুক্ত। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদিত মাল্টা রসালো, সুস্বাদু এবং অধিক মিষ্টি হয় বলে জানালেন মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী।
তিনি বলেন, নতুন নতুন চাষী আগ্রহী হচ্ছেন। প্রতিবছর বাড়ছে বাগানের সংখ্যা। মৌলভীবাজারের প্রতিটি উপজেলায় নতুন বাগান তৈরিসহ বসতভিটায় মাল্টা চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতিবছর মাল্টার চাহিদা প্রায় ৩ কোটি ৬৭ লাখ কেজি। যা পুরোটাই আমদানি নির্ভর। সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় মাল্টা চাষে উৎসাহিত করা হলে একদিন আর আমদানি করতে হবে না।
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























