নিজস্ব প্রতিনিধি
আপডেট: ১২:৪৬, ৬ নভেম্বর ২০২০
মৌলভীবাজারে অবাধে সিলিকা বালু উত্তোলন
পাহাড়ি ছড়াবেষ্টিত মৌলভীবাজারের নদী ও ছড়াগুলো থেকে অবৈধভাবে অবাধে তোলা হচ্ছে বালু। এতে হুমকিতে পড়েছে পরিবেশ-প্রতিবেশ এবং নদী-ছড়ার পাড়সহ স্থানীয় বসতি।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ২৮টি মূল্যবান সিলিকা বালু মহাল রয়েছে। বিভিন্ন আইনি জটিলতায় প্রায় চার বছর ধরে সিলিকা বালু মহালগুলো ইজারা দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু ইজারা দেওয়া না হলেও থেমে নেই বালু উত্তোলন। প্রভাবশালীদের সিন্ডিকেট বছরের পর বছর বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। যা থেকে বছরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
ইজারাবিহীন বালুর মহাল থেকে বালু তুলতে গিয়ে বেশি বালু উত্তোলন করতে ব্যবহার করা হচ্ছে বোমামেশিন এবং পরিবহনে চালাতে হচ্ছে বড় বড় ট্রাক। এতে স্থানীয় অবকাঠমো, ফসলের জমি ও আশপাশের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যার আর্থিক ক্ষতির কোনো পরিসংখ্যান কোথাও নেই। এমনকি প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না। মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও এতে থাকে জনবলের অভাব।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপলাছড়া, শিয়ালছড়া নামের দুটি সাধারণ বালুমহাল এবং বড়ছড়া, লাংলীছড়া, ফুলছড়া, বিলাসছড়া, পুটিয়াছড়া, ভুরভুরিয়াছড়া, শাওনছড়া, জৈনকাছড়া, খাইছড়া, নুলুয়াছড়া, ঝলমছড়া, হুগলিছড়াসহ ২৮টি ছড়ায় মূল্যবান সিলিকা বালুসহ ৩০টি বালুমহাল রয়েছে। আইন মেনে ইজারা নিলে এসব মহাল থেকে পরিবেশ বিধি মেনে বালু উত্তোলনের নির্দেশনা রয়েছে খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু বিভিন্ন আইনি জটিলতায় প্রায় চার বছর ধরে সিলিকা বালুমহালগুলো ইজারা দেওয়া হচ্ছে না। প্রভাবশালীরা এ সুযোগে প্রভাব খাটিয়ে শত শত কোটি টাকার বালু তুলে নিয়েছে। এতে হুমকির মুখে রয়েছে পাহাড়ি ছড়াগুলো। ছড়া ও ছোট ছোট নদীগুলোর পানি প্রবাহ বিঘিœত হচ্ছে। এসব ছড়ার প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বসতি প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সেই সঙ্গে আশঙ্কা রয়েছে ভূমিধসের। বোমামেশিন দিয়ে মাটির ১০০ থেকে ২০০ ফুট তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করা হয়। সেই সঙ্গে রাত-দিনে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত মেশিন ও বালু বহনে জড়িত ট্রাকের অবিরাম শব্দে এলাকার মানুষ শব্দদূষণের কবলে পড়েছে। বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী হওয়াতে কেউই প্রকাশ্যে এ নিয়ে অভিযোগ দিতে নারাজ।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপার মৌলভীবাজারের আহ্বায়ক আ স ম ছালে সোহেল বলেন, প্রাকৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা শ্রীমঙ্গলে বালু উত্তোলন একেবারে বন্ধ করা হোক।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, অভিযান চালালে তৎপরতা কমে আসে কিন্তু এরপর আবার শুরু হয়। কেউ রাতে কেউ সকালে অর্থাৎ যতভাবে প্রশাসনকে ফাঁকি দেওয়া যায় ততভাবেই তারা বালু উত্তোলন করে। ইদানীং ঘন ঘন অভিযান করার ফলে বালু উত্তোলন কমেছে। প্রতিদিন অভিযান করা যায় না জানিয়ে তিনি বলেন, একটি অভিযানে সারা দিন চলে যায়, তাই প্রতিদিন করা সম্ভব নয়। তবে আমরা আগের থেকে অভিযানের হার বাড়িয়েছি।
মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মল্লিকা দে বলেন, তদন্ত করে বালু তোলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























