ঢাকা, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৮ ১৪৩৩

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:১৫, ৮ নভেম্বর ২০২০

লাউয়াছড়ার ক্ষতিকর আশ্রয়ণ প্রকল্প স্থানান্তরের দাবিতে মানববন্ধন

মানববন্ধন

মানববন্ধন

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠির শতবছরের কৃষি জমি থেকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত বাতিল ও লাউয়াছড়া বনের জন্য ক্ষতিকর আশ্রয়ণ প্রকল্প অন্যত্র স্থানান্তরের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৮নভেম্বর) দুপুরে শ্রীমঙ্গল চৌমোহনা চত্ত্বরে লাউয়াছড়া বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলন কমিটির আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

লাউয়াছড়া বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলনের আহবায়ক জলি পালের সভাপতিত্বে ও প্রিতম দাশের সঞ্চালনায় আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ নেতা এডভোকেট আবুল হাসান, জাবেদ ভুইয়া, এসকে দাশ সুমন, কাজী সামছুল হক, সৈয়দ আমিরুজ্জামান। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন, অপি চন্দ, বৃষ্টি চন্দ, অনন্ত দূর্বা, সোহেল শ্যাম, ছায়েদ আহমেদ প্রমূখ।

মানববন্ধনে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন ও সরকারকে উদ্দেশ্য করে লাউয়াছড়া বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব এডভোকেট আবুল হাসান বলেন, সরকারের এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবীদার, তবে আপনাদের জায়গা নির্বাচন করা ভুল। আপনারা শ্রীমঙ্গলে  উন্নয়ন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আদিবাসী মানুষ ও প্রকৃতিকে বিপন্ন করতে পারেন না, ডলুবাড়িতে ১২০ টি ত্রিপুরা আদিবাসী পরিবার রয়েছে, ৩৮২ একর জমির ব্যাপারে ১৯৭৮ সালে মহামান্য হাইকোর্টের একটি রায় রয়েছে এবং সরকারের প্রতি আদালতের নির্দেশনা রয়েছে ত্রিপুরাদের জমির মালিকানা যেনো দেওয়া হয় কিন্তু আজও আদালতের রায় বাস্তবায়ন হয়নি।

বক্তারা বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য থেকে প্রশাসনিক আমলা যারাই এই সিদ্ধান্তের সাথে জড়িত তারা নিশ্চয়ই আমাদের যৌক্তিক দাবী পর্যালোচনা করে ইতিমধ্যে নেওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন এবং অন্যত্র জায়গা নির্ধারণ করবেন। নৌকা মার্কার সরকার ক্ষমতায়, আপনারাই  ‘নৌকা মার্কার ভোটারদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছেন, ওরা তো, বিএনপি - জামাত, বাসদ, কমিউনিস্টকে ভোট দেয় না, তাহলে আপনারা সেটা করার চেষ্টা করছেন কার ইশারায়?

ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী নেতা জনক দেববর্মা বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে আমরা এখানে বসবাস করছি, আমরাও চাই ভূমিহীন মানুষেরা জমি ও গৃহ পাক, বাংলাদেশ এগিয়ে যাক, তবে তা হতে হবে পরিকল্পিত এবং পরিবেশ, প্রকৃতি এবং বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা টিকিয়ে রেখে।

কিন্তু আমরা লক্ষ করছি, সরকারের পদক্ষেপ এক প্রকার স্ববিরোধি হয়ে যাচ্ছে, একদিকে ঘর দেওয়ার পদক্ষেপ অন্যদিকে আমাদের কৃষিজমি বেহাত হওয়ার আশঙ্কা। এটা অনস্বীকার্য যে, শ্রীমঙ্গলের ইউএনও অত্যন্ত চমৎকার মানুষ, তিনি আদিবাসীদের জন্য ব্যাপক কাজ করেছেন যা আগে কখনো আমরা পাইনি। আমরা তার কাছে অনুরোধ করব, আমাদের জীবন ও জীবিকা যাতে হুমকীর সম্মুখীন না হয় সেটি লক্ষ রেখে, আপনি কতিপয় তথাকথিত প্রভাবশালীদের নিকট থেকে সরকারি খাস জমি উদ্ধার করেন, শ্রীমঙ্গলবাসী আপনার পাশে থাকবে।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নেছার উদ্দিন জানান, আমরা আন্দোলনকারীদের একটি স্মারকলিপি পেয়েছি, এখন আমরা সেটি বিশদভাবে পর্যালোচনা ও আলাপ আলোচনা করে দেখব। খাস জমি উদ্ধারের ব্যাপারে তিনি বলেন, উপজেলার সমস্ত সরকারি খাস জমি এবং কি অবস্থায় রয়েছে সেরকম এটা তালিকা আমরা করে ফেলেছি। বন্দোবস্ত দেওয়ার জন্য যোগ্য জমির শ্রেণী আমরা খুঁজে খুঁজে সমস্ত ভূমিহীনদের দেওয়ার প্রক্রিয়া গ্রহণ করছি। অবৈধ দখলদারদের কাছে কি পরিমান সরকারি জায়গা অপদখলে আছে সেটিরও তালিকা করা হচ্ছে এবং সেগুলো উদ্ধারকাজ চলমান প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতে তা আরো জোরদার করা হবে।

আইনিউজ/এস.এম/এসডিপি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়