ঢাকা, বুধবার   ১০ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২৬ ১৪৩৩

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫:৫৯, ৭ জুলাই ২০২১
আপডেট: ১৬:৪২, ৭ জুলাই ২০২১

এতো সংক্রমণ আগে দেখেনি মৌলভীবাজার, ৭ দিনে আক্রান্ত তিন শতাধিক

মৌলভীবাজারে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে। প্রতিদিন জেলাটিতে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলাটিতে ৯৪ জনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। একদিনে দৈনিক শনাক্তের এতো সংখ্যা এর আগে দেখেনি মৌলভীবাজার।

এর আগে গত ৫ জুলাই সর্বোচ্চ ৬১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল মৌলভীবাজারে। কিন্তু আজ সেই রেকর্ড ভেঙে দৈনিক শনাক্ত প্রায় একশ এর কাছাকাছি চলে এসেছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুসারে, ১ জুলাই থেকে ৭ জুলাই এই সাতদিনে জেলায় ৩৩৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে জেলায় তিনজন করোনা রোগীর মৃত্যুও হয়েছে। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন ১০৮ জন। এ থেকে বোঝা যায়, জেলায় সুস্থতার চেয়ে সংক্রমণ বেশি।

মৌলভীবাজার সীমান্তবর্তী এলাকা। ঈদুল ফিতরের পর থেকে এই জেলাটিতে সংক্রমণ বাড়ছে। বর্তমানে লকডাউন চললেও স্বাস্থ্যবিধি মানছে না মানুষ। রাস্তায় ঘোরাঘুরি করার কারণে বাড়ছে সংক্রমণ।

করোনার এই ভয়ংকর রূপ আরও বাড়বে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, রোগতাত্ত্বিক নিয়ম অনুযায়ী ১ জুলাইয়ের সর্বাত্মক লকডাউনের আগের অবস্থার কারণে চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত করোনার এই ভয়ংকর রূপ দেখতে হবে। তারপর অবস্থার কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে আবার নাও হতে পারে।

করোনা সংক্রমণ রোধে দেশব্যাপী চলছে কঠোর বিধিনিষেধ। এ লকডাউন বাস্তবায়ন করতে মৌলভীবাজারে প্রতিদিনই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জরিমানার পাশাপাশি অনেককেই আটক করা হচ্ছে। কিন্তু এতে করেও করোনা সংক্রমণে লাগাম টানা যাচ্ছে না।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, মাস্ক পরলে করোনা সংক্রমণ অনেকটাই রোধ করা যায়। তাই শুরু থেকেই বলা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধির পাশাপাশি মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তবে এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষের অনীহাই বেশি। দিন যত যাচ্ছে, লোকজন ততই মাস্ক ব্যবহারে উদাসীন হচ্ছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়াসহ নানা মাধ্যমে প্রচার চালানো হলেও তেমন কাজ হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

১ জুলাই থেকে সর্বাত্মক বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে। এর প্রভাব দেখতে আমাদের অন্তত ১৪ জুলাই পর্যন্ত যাবে। ১৪ জুলাই পর্যন্ত করোনার সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে জানিয়ে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এর উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বিশেষ করে ৭ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত। এরপরে হয়তো একটা স্থিতিশীল অবস্থা আসতে পারে আবার নাও আসতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গঠিত পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য অধ্যাপক আবু জামিল এ বিষয়ে বলেছেন, করোনার এই ভয়ংকর রূপ এটাই শেষ না, আরও দেখাবে… আরও দেখাবে, অবশ্যই দেখাবে… অবশ্যই দেখাবে।

মানুষকে মাস্ক পরাতে, প্রতিটি মানুষকে, একশ শতাংশ মানুষকে মাস্ক পরাতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ছাড়া আর কোনও কিছুতেই পরিত্রাণ হবে না।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন চৌধুরী জালাল উদ্দিন মোর্শেদ বলেন, মৌলভীবাজারে সংক্রমণ আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এমন অবস্থায় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বাইরে বের হলে মাস্ক পরতে হবে। অন্যথায় আমাদের জন্য বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।

জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান আইনিউজকে বলেন, করোনা প্রতিরোধে আমরা প্রতিদিনই  মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়