ঢাকা, সোমবার   ১১ মে ২০২৬,   বৈশাখ ২৮ ১৪৩৩

সাজু মারছিয়াং

প্রকাশিত: ২০:২৬, ২৯ আগস্ট ২০২১
আপডেট: ২১:১৭, ২৯ আগস্ট ২০২১

কুলাউড়ার খাসি পুঞ্জিতে পানগাছ কাটা ও হামলার বিচার দাবি ৮ সংগঠনের

মৌভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার খাসি পুঞ্জিতে আদিবাসী খাসিদের জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন পানগাছ কেটে ফেলা ও হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এতে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে আটটি সংগঠন।

বিবৃতিদাতা সংগঠনগুলো হলো- সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), অ্যাসোশিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্মস অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (এএলআরডি), নাগরিক উদ্যোগ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

আজ রোববার (২৯ আগস্ট) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৪ আগস্ট রাতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নের বেলুয়া খাসিয়াপুঞ্জিতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন পানগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ২৫ একর জমির পানজুমের ২৮০০ পানগাছ হারিয়ে এখন নিস্ব পাঁচ খাসিয়া ও গারো পরিবার। তাদের ১৮ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত আদিবাসীদের জীবিকার নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া কথিত সামাজিক বনায়নের নামে আদিবাসীদের পানজুম দখলের অপচেষ্টায় বনবিভাগের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ।

পুঞ্জিবাসীরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার ঘটনায় বেলুয়া পুঞ্জির মান্রী, হেনরী তালাং আটজনকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। আসামিরা সবকটি টিলার পানজুমের ভূমি সামাজিক বনায়নের দাবি করে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। এছাড়া হামলায় আক্রান্ত আদিবাসীদের যারা সহায়তা দিয়েছে এবং নিরাপত্তাহীন পুঞ্জিগুলোর পাশে যেসব মানবাধিকারকর্মী দাঁড়িয়েছেন, তাদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সভাপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেছেন, একটি সভ্য দেশের কোনো জনগোষ্ঠি আতঙ্কে বসবাস করতে পারে না। যদি হয়, তাহলে সেটাই প্রমাণ করে যে,সেই দেশে মারাত্মকভাবে মানবাধিকারের লঙ্ঘন হচ্ছে। প্রাকৃতিক বন ধ্বংস, পুঞ্জিবাসীদের ওপর হামলা ও উচ্ছেদ ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ করে সুলতানা কামাল বলেন, কতজন বনবাসী কোটিপতি হয়েছেন, আর কতজন বন বিভাগের কর্মকর্তা কোটিপতি হয়েছেন। পত্রিকায় দেখলে মনে হয়, বন বিভাগের লোকজনই তো কোটিপতি হয়েছেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, 'বাংলাদেশে বন বিভাগ না থাকলেও চলে। কারণ বন বিভাগের মাধ্যমে প্রকৃতি বা বন উপকৃত হয়েছে এমন নজির নেই।' রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, 'বন বিভাগের আইন তো বাংলাদেশের না, সেটাতো ১৯২৭ সালের ব্রিটিশ আইন। তাহলে সেই আইন থেকে কোনো উপকার কীভাবে পাবো।'

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, পুঞ্জির আদিবাসীদের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বিবৃতিদাতা সংগঠনগুলো।

আইনিউজ/সাজু মারছিয়াং/এসডি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ