ঢাকা, শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১ ১৪২৮

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:১৪, ২ সেপ্টেম্বর ২০২১
আপডেট: ০১:০৫, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

মৌলভীবাজার: খাসি জনগোষ্ঠীর পানজুম ধ্বংস ও শারীরিক আঘাতের প্রতিবাদ

খাসি জনগোষ্ঠীর পানজুম ধ্বংস ও শারীরিক আঘাতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ। ছবি: রনজিৎ জনি।

খাসি জনগোষ্ঠীর পানজুম ধ্বংস ও শারীরিক আঘাতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ। ছবি: রনজিৎ জনি।

খাসি জনগোষ্ঠীর পানজুম বারবার ধ্বংস ও শারীরিক আঘাতের প্রতিবাদ হয়েছে মৌলভীবাজারে। খাসিরা প্রকৃতির সন্তান উল্লেখ করে তাঁদেরকে ভূমির মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি উঠেছে।  

সহস্রাধিক মানুষের অংশগ্রহণে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ৯ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এবং গণসাক্ষর সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন নেতৃবৃন্দ ।

পুঞ্জিতে খাসি আদিবাসীদের বসবাস আদিকালের

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন পুঞ্জিতে খাসি আদিবাসীদের বসবাস আদিকালের। সম্প্রতি বন বিভাগ প্রাকৃতিক বনের জায়গায় সামাজিক বনায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ অবস্থায় বারবার হামলার শিকার হচ্ছে খাসিরা। দাবি উঠেছে সামাজিক বনায়ন বন্ধ করে খাসিদের ভূমির মালিকানা প্রদানের। 

সম্মিলিত নাগরিক সমাজের প্রতিবাদী মানববন্ধন

বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব সম্মুখে সম্মিলিত নাগরিক সমাজ প্রতিবাদী মানববন্ধনের আয়োজন করেন। সিলেট বিভাগে ৭০টি পুঞ্জি থেকে নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠীর লোকজন অংশগ্রহণ করেন। সংহতি প্রকাশ করেন বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরাম, বৃহত্তর সিলেট ত্রিপুরা উন্নয়ন পরিষদ, খাসি সোসিয়াল কাউন্সিল, খাসি স্টুডেন্ট ইউনিয়ন, শ্রীচুক যুব গারো  সংগঠন, চা জনগোষ্ঠী আদিবাসী ফ্রন্টসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। 

আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে অ্যাডভোকেট ডাডলি ডেরিক প্রেন্টিসের সভাপতিত্বে ও অ্যাডভোকেট আবুল হাসানের সঞ্চালনায়  বক্তব্য রাখেন আদিবাসি নেত্রী ও মানবাধিকার কর্মী, হীরামন হেলেনা তালাং; বৃহত্তর সিলেট  আদিবাসী ফোরাম, মহাসচিব ফিলা পতমি; মাগুরছড়া পুঞ্জির মন্ত্রী,  খাসি সোসিয়াল কাউন্সিলের সভাপতি জিডিসন প্রধান সুচিয়াং; মেঘাটিলা খাসি পুঞ্জি, কুলাউড়ার নারী মন্ত্রী  মনিকা খংলা; বাপা সমন্বয়ক আসম সালেহ সোহেলসহ বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। 

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, ডলুছড়া ও ভেলুয়া পুঞ্জিতে সামাজিক বনায়নের নামে খাসি উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তাদেরকে উচ্ছেদ করতে বার বার হামলা হচ্ছে। শিশু সন্তানের সামনে পিতাকে পিটিয়ে আহত করা হচ্ছে। খাসিয়া আদিবাসীদের চলাচলে বাঁধার সৃষ্টির মাধ্যমে আতংকিত করে তোলা হচ্ছে। যা স্বাধীন একটি দেশের জন্য লজ্জার। এমনকি স্বাধীন দেশে খাসিয়াদের এমন পরাধীন করে রাখা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন।

বাপা মৌলভীবাজার সমন্বয়ক আসম সালেহ সোহেল বলেন, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। যার মাধ্যমে বড় হুমকিতে রয়েছেন খাসিয়ারা। আর এর মূল কারণ বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের নামে প্রাকৃতিক বন ধংসের পায়তারা। তাই যে জায়গায় প্রাকৃতিক বন রয়েছে সেখানে সামাজিক বনায়নের কোন যৌক্তিকতা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৃহত্তর সিলেট  আদিবাসী ফোরাম এর মহাসচিব ফিলা পতমি বলেন, সামাজিক বনায়নের একটি নিয়ম আছে। কিন্তু এখানে বন বিভাগ কোন নিয়মই রক্ষা করছে না। যার কারণে ভূমিখেকো ও বনখেকোদের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে।

মেঘাটিলা খাসি পুঞ্জি, কুলাউড়ার নারী মন্ত্রী  মনিকা খংলা বলেন চলমান বিরোধের জেরে কর্মধা ইউনিয়নের ভেলুয়াপুঞ্জিতে পাঁচটি খাসি–গারো পরিবারের দুই হাজার আটশতাধিক পানগাছ কাটা হয়, কিন্তু দুঃখজনক হলো এ বিষয়ে কোন জোরালো পদক্ষেপ আমরা দেখছি না।

আদিবাসি নেত্রী ও মানবাধিকার কর্মী, হীরামন হেলেনা তালাং বলেন, করোনা মহামারীর  সময় জীবন জীবিকার একমাত্র অবলম্বন পান গাছ কাটার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পুঞ্জিবাসী পরিবারগুলো আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয় এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। এ ঘটনায় ভেলুয়াপুঞ্জির হেডম্যান আটজনকে অভিযুক্ত করে কুলাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ উত্থাপিত উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হচ্ছে-

• মুড়ইছড়া বিট কর্মকর্তাকে অপসারণ করা।

• এ ঘটনায় দখলবাজ রফিক আলী গংদের আইনের আওতায় আনা।

• পানজুম ধ্বংসের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা।

 • ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ প্রদান।

• হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা।

• উপকারভোগকারীদের সামাজিক চুক্তি বাতিল করতে হবে।

• খাসি জনগোষ্ঠীসহ সকল আদিবাসীদের ভূমির মালিকানা এবং শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলের অধিকার দিতে হবে।

আইনিউজ/এআর/এসডিপি 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়