ঢাকা, বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ১৮ ১৪৩৩

সিলেট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:০৭, ১২ ডিসেম্বর ২০২০
আপডেট: ২২:১৯, ১২ ডিসেম্বর ২০২০

আইন অমান্য করে সিলেটের পাঁচ কাউন্সিলরের পাখিভোজ, হতবাক বন বিভাগ

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনকে অমান্য করে সিলেটের পাঁচ কাউন্সিলর পাখির মাংস দিয়ে ভূরিভোজ করেছেন। তাদের ভূরিভোজ আড্ডা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন ভাইরাল কন্টেন্টে পরিণত হয়েছে।

জনপ্রতিনিধি হয়ে এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন কর্মকান্ডে হতবাক বন বিভাগ। বনবিভাগ বলছে পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা যায়, সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর পরগনার একটি রেস্তোরাঁয় শুক্রবার রাতে শিকার করা পাখি জবাই করে এ ভূরিভোজে অংশ নিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলাররা।

তারা হলেন- সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ তৌফিক বকস, ১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রকিবুল ইসলাম, ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল মুহিত জাবেদ এবং ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেক উদ্দিন তাজ। তাঁদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রায়হান আহমদ ছিলেন।

ফেসবুক লাইভে দেখা গেছে, সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় লাইভের বর্ণনায় সদ্য শিকার করা ডাহুক, বক, বালিহাঁস জবাই করে রান্না করার কথাও বলা হয়। এরপর গরম পাতে তা পরিবেশন করে খাবার খেতে খেতে বর্ণনা দেওয়া হয়। তরতাজা পাখির মাংস খেতে চাইলে রেস্তোরায় মানুষজনকে আসার আহ্বান জানানো হয়। খেতে খেতে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মতামত নেওয়া হয়।

শুক্রবার রাত ১১টা ১০ মিনিটে রায়হান আহমদ তার ফেসবুক আইডি থেকে ‘লাইভে’ আসেন। ২ মিনিট ৯ সেকেন্ডের এ ভিডিওতে দেখা যায়, হরিপুরের একটি রেস্তোরার নাম উল্লেখ করে পাখির মাংস রান্না করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

ভিডিওতে পাখির মাংস খাওয়ার বর্ণনা করা হলেও শনিবার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেক উদ্দিন দাবি করেন, তারা মাংস দিয়ে খেয়েছেন ঠিক, কিন্তু পাখির মাংস ছিল কি না, নিশ্চিত নন। 

আর ফেসবুকে ভিডিও আপলোড করা রায়হান আহমদ বলেন, সব হাঁসের মাংস ছিল, তিনি না জেনে পাখির মাংস বলেছিলেন। তবে শনিবার দুপুর ১২টার পর রায়হানের আইডি থেকে  লাইভ ভিডিওটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

এ বিষয়ে কাউন্সিলর তারেক উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ওই এলাকায় তারা একটি বিশেষ কাজে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে ক্ষুধার্ত হয়ে রাস্তার পাশের ওই রেস্তোরায় ভাত খেয়েছেন। তিনি খাসির মাংস দিয়ে খেয়েছেন।

ভিডিওতে সব মাংস পাখির উল্লেখ করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা যে ভিডিও করেছে, মনে হয় সে খেয়েছে।

সিলেট বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “তারা যে কর্মকাণ্ড করেছেন তা অবশ্যই অপরাধ। সমাজের এই শ্রেণীর মানুষ যদি এই ধরণের কাজ করেন তাহলে প্রাণী শিকারীরা উৎসাহ পাবে। বন বিভাগ পরিকল্পনা অনুযায়ী এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে”।

জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা পারভিন বলেন, আমি কয়েকদিন আগেও এই এলাকায় অভিযান করেছি। আমরা আগেও বলেছি এখনও বলছি প্রশাসন তথ্য পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিবে। আর যারা আইন অমান্য করে এই ধরণের কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশের বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ অনুযায়ী, কোনো পাখি বা পরিযায়ী পাখি বা মাংস ক্রয়-বিক্রয় অপরাধ এবং এতে ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। এ আইনের তফসিল অনুযায়ী দেশের স্থানীয় বন্য পাখি ধলাবুক ডাহুক, বক ও বালিহাঁস নিষিদ্ধ পাখির অন্তর্ভূক্ত।

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়