Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, শুক্রবার   ০৯ জানুয়ারি ২০২৬,   পৌষ ২৬ ১৪৩২

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪:২৩, ৮ জানুয়ারি ২০২৬

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে শ্রীমঙ্গল, নেমেছে ৭ ডিগ্রিতে

শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া চা বাগান। ছবি: আই নিউজ

শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া চা বাগান। ছবি: আই নিউজ

দেশের শীতলতম অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ‘চায়ের রাজধানী’ শ্রীমঙ্গলে চলতি শীত মৌসুমে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। কনকনে ঠাণ্ডা ও হাড়কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এখানকার স্বাভাবিক জনজীবন। বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ মৌসুমে অন্যতম সর্বনিম্ন।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ও ১১টায় এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। একই সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতা ও ঘন কুয়াশা শীতের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

শহর ও গ্রামাঞ্চলজুড়ে শীতের প্রভাব স্পষ্ট। বিশেষ করে চা-বাগান অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ঠাণ্ডার প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে। ভোরবেলায় কাজে বের হওয়া খেটে খাওয়া মানুষ পড়ছেন চরম দুর্ভোগে। তীব্র শীতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের জন্যও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।

সকালে ঘন কুয়াশার কারণে সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শীতের এই দাপটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, চা-শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ। কাজ বন্ধ থাকলে তাদের সংসার চলে না, আবার কাজে বের হলেও ঠাণ্ডার তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে। ফলে জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করেই বের হতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন মানুষজন, আবার কেউ আশ্রয় নিচ্ছেন চায়ের দোকানে।

এদিকে তীব্র শীতের প্রভাবে বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মৌমিতা বৈদ্য জানান, প্রতিদিন সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, হাঁপানি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী নিয়ে হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড অতীতেও রয়েছে। ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি এখানে তাপমাত্রা নেমেছিল মাত্র ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এছাড়া ১৯৬৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি, ১৯৯৫ সালের ৪ জানুয়ারি ও ২০০৭ সালের ১৭ জানুয়ারি ৪ ডিগ্রি, ২০০৩ সালের ২৩ জানুয়ারি ৫ ডিগ্রি এবং ২০০৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর ৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

চলমান এই তীব্র শীতে জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়