কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
৪২ বছর পর মনসা দেবীর ঐতিহ্যবাহী নৌকা পূজা, ভক্তদের ঢল
৪২ বছর পর মনসা দেবীর ঐতিহ্যবাহী নৌকা পূজা, ভক্তদের ঢল। ছবি: আই নিউজ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ধীতেশ্বর গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে শ্রীশ্রী মনসা দেবীর ঐতিহ্যবাহী নৌকা পূজা। দীর্ঘ ৪২ বছর পর এ পূজার পুনরায় আয়োজনকে ঘিরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ভক্তদের ব্যাপক অংশগ্রহণে এটি পরিণত হয়েছে এক প্রাণের মিলনমেলায়।
গত ২২ মার্চ রাতে শুভ অধিবাসের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। সোমবার (২৩ মার্চ) মূল পূজার দিনে ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পূজা-অর্চনা, আরতি, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকা মুখর হয়ে ওঠে।
এদিন বিকেলে পূজা পরিদর্শনে আসেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার শ্রী অনিরুদ্ধ দাশ। রাতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে পূজারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)।
পূজাকে ঘিরে আয়োজন করা হয়েছে মহিষ বলি ও গ্রামীণ মেলা, যা দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। আয়োজকরা জানান, কয়েক হাজার ভক্তের জন্য পর্যাপ্ত প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং আগত সবার মাঝে তা বিতরণ করা হচ্ছে।
হবিগঞ্জ থেকে আগত ভক্ত উত্তম কুমার পাল হিমেল বলেন, “নৌকা পূজা আমি জীবনে এই প্রথম দেখলাম। এর আগে কখনো দেখিনি। এখানে এসে খুব ভালো লেগেছে। হাজার হাজার ভক্ত দেখে মনটা আরও আনন্দে ভরে উঠেছে।”
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি শ্যামল চন্দ্র দাশ বলেন, “দীর্ঘ ৪২ বছর পর নৌকা পূজার এই আয়োজন আমাদের ঐতিহ্যকে নতুন করে জীবিত করেছে। এটি ধর্মীয় চেতনা ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের দ্বিতীয় দিনে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে এবং শেষ দিন মঙ্গলবার বিভিন্ন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পূজার সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।
শ্রীশ্রী মনসা দেবীর নৌকা পূজা বাংলার প্রাচীন লোকজ ধর্মীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাপের দেবী হিসেবে পূজিত মনসা দেবীর কাছে ভক্তরা কল্যাণ, সুরক্ষা ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। নদীমাতৃক বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে এই পূজার রয়েছে গভীর সম্পর্ক। নৌকার মাধ্যমে দেবীর আরাধনার মধ্য দিয়ে ভক্তরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা, ভালো ফসল এবং জীবনের নিরাপত্তা প্রার্থনা করেন।
ধর্মীয় এ আয়োজন কেবল পূজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি গ্রামীণ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন, সবার অংশগ্রহণে এবারের নৌকা পূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।
ইএন/এসএ
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার

























