ঢাকা, বুধবার   ১৫ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ২ ১৪৩৩

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২:৪১, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

কালী মন্দিরে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট

ছবি: আই নিউজ

ছবি: আই নিউজ

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন কালী মন্দিরে গভীর রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

ডাকাত দল মন্দিরের পাহারাদারকে হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে প্রতিমার স্বর্ণালঙ্কার, দানবাক্সের নগদ অর্থ এবং পূজার মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ও মন্দির কমিটি সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার মধ্যে ৭–৮ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল মন্দিরের পেছনের প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। ডাকাতরা প্রথমেই মন্দিরের পাহারাদার ভানু দাশকে আক্রমণ করে এবং একপর্যায়ে তার হাত-পা বেঁধে মন্দিরের বারান্দায় ফেলে রাখে। এরপর তারা প্রধান ফটকের তালা কেটে মূল মন্দিরে প্রবেশ করে প্রতিমার গয়না ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে।

মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাধব দেব জানান, ডাকাতরা প্রতিমার গলার স্বর্ণের হার, কানের দুল, হাতের বালা, কপালের টিপসহ বিভিন্ন অলঙ্কার নিয়ে যায়। এছাড়া দানবাক্সের অর্থ ও পূজার সামগ্রীও লুট করা হয়েছে। সব মিলিয়ে লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা।

তিনি আরও জানান, মন্দিরে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও ডাকাতরা ডাকাতির আগে এর সংযোগ লাইন কেটে দেয়। এ ঘটনায় থানায় জিডি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি।

ডাকাতির খবর পেয়ে সকালে মন্দিরে ভিড় জমান স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ধর্মীয় উপাসনালয়ে এ ধরনের জঘন্য ঘটনায় তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবি জানান।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, পাহারাদারকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে মন্দির এলাকায় পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা। পূজা উদযাপন পরিষদের স্থানীয় নেতৃবৃন্দও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

তাদের মতে, উপাসনালয়ে চুরি বা ডাকাতি কেবল একটি অপরাধ নয়, এটি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের শামিল। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে সকালে থানা পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ জানান, খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পাহারাদারকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তার জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, “ডাকাতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।”

ইএন/এসএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়