ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৪ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ১ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:১৫, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি সংকটে ভাটা পড়েছে চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্প

পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাধানগর গ্রাম। ছবি: আই নিউজ

পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাধানগর গ্রাম। ছবি: আই নিউজ

জ্বালানি সংকটের প্রভাব এবার সরাসরি আঘাত হেনেছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র শ্রীমঙ্গলে। ‘চায়ের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলটি সারা বছরই পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর থাকে। বিশেষ করে ঈদ-পরবর্তী সময় ও ছুটির মৌসুমে এখানে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে এবার সেই চেনা দৃশ্য অনেকটাই ম্লান। কোলাহলপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রটি এখন যেন নীরব।

শ্রীমঙ্গলের রাধানগর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যেখানে আগে ছুটির দিনে পর্যটকদের ভিড়ে মুখর থাকত চারপাশ, সেখানে এখন বিরাজ করছে এক ধরনের নিস্তব্ধতা। অধিকাংশ হোটেল ও রিসোর্টে কক্ষ ফাঁকা পড়ে আছে। আগে যেখানে আগাম বুকিং ছাড়া রুম পাওয়া যেত না, এখন সেখানে পর্যটকের অভাব স্পষ্ট।

প্যারাগন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ সৈয়দ নাসিম বলেন, “আগে আমাদের প্রায় ৮০ শতাংশ রুম বুকিং থাকত, কিন্তু বর্তমানে তা নেমে এসেছে ২৫ শতাংশে। এমনকি কিছু রুমের ভাড়া কমিয়ে দেওয়ার পরও তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। বিগত বছরগুলোতে পহেলা বৈশাখের সময় কোনো রুম ফাঁকা থাকত না, কিন্তু এবার সেই চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।”

একই অবস্থা স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোরও। পর্যটকনির্ভর এসব ব্যবসা এখন লোকসানের মুখে পড়েছে। রাধানগর এলাকার চামুং রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক দিলীপ পাশি বলেন, “জ্বালানি সমস্যার কারণে এখন প্রায় পর্যটকশূন্য অবস্থা। আমাদের ব্যবসা সম্পূর্ণ পর্যটকনির্ভর। পর্যটক না থাকলে লোকসান গুনতেই হয়। এর পাশাপাশি লোডশেডিং বেড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু জেনারেটর চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহ করাও এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।”

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, শ্রীমঙ্গলে আগত অধিকাংশ পর্যটক পরিবার নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে ভ্রমণ করেন। জ্বালানি সংকটের কারণে সেই ভ্রমণ এখন অনেকটাই কমে গেছে। 

রাধানগর ট্যুরিজম এন্ট্রাপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি তাপস দাশ বলেন, “শ্রীমঙ্গলে বেশিরভাগ পর্যটকই ব্যক্তিগত গাড়িতে আসেন। জ্বালানি সংকটের কারণে তারা আসতে পারছেন না। সাধারণত ছুটির দিনে পর্যটকের চাপ বেশি থাকে, কিন্তু ঈদের পর থেকে পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। সার্বিকভাবে শ্রীমঙ্গলের পর্যটনে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে।”

এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি সেলিম আহমেদ। তিনি বলেন, “জ্বালানি সংকটের কারণে পর্যটন খাত প্রায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। বিগত সময়ে ঈদ ও পরবর্তী ছুটির মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেত, কিন্তু এ বছর সেই প্রবণতা নেই। পহেলা বৈশাখের ছুটির সময়েও পর্যাপ্ত বুকিং হয়নি। অধিকাংশ রিসোর্টে কক্ষ ফাঁকা পড়ে আছে, যা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট চলতে থাকলে অনেকের জন্য ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্প আবারও তার প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে।

ইএন/এসএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়