নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেট বিএনপি: ঈদের পর আহ্বায়ক কমিটি
ছবি: আই নিউজ
ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরেছে বিএনপি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবার অনেক সতর্ক দলটি। কোনোভাবেই আওয়ামী লীগের ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি চায় না বিএনপির হাইকমান্ড। বিশেষ করে, সরকারের সঙ্গে দলের একীভূত হয়ে যাওয়ার পক্ষে নন কোনো নেতাই। সে কারণে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের পর এবার মিশন— দল গোছানো। জানা গেছে ঈদের পর সকল সাংগঠনিক ইউনিটের কাউন্সিলের পর তারা কেন্দ্রীয় কমিটিও করতে যাচ্ছে।
ঢেলে সাজানো হচ্ছে সিলেট বিভাগের বিএনপি’র অধীন ইউনিটগুলোকে। ঈদের পর থেকে শুরু হবে এর কার্যক্রম। সিলেট জেলা বিএনপির কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। মহানগর বিএনপি’র মেয়াদও শেষের পথে। মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ বিএনপি চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে।
সাংগঠনিক গতিশীলতাই কেবল নয়, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলটির ভালো করার লক্ষ্য। দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় আসার কারণে বিগত দিনের সাংগঠনিক কার্যক্রমহীনতাকে পুষিয়ে নিতে চায় তারা নতুন কমিটি দিয়ে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে কাউন্সিলের আগে দলটি করতে যাচ্ছে আহ্বায়ক কমিটি।
আহ্বায়ক কমির লক্ষ্যে এরিমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে দলটি। তৃণমূলের কাছেও গেছে এ বার্তা। ফলে বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের পদপ্রত্যাশী নেতারা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। মন্ত্রী-এমপি এবং স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রশাসকদের কমিটি থেকে দূরে রাখার বার্তাও দেওয়া হয়েছে। এতে করে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার হওয়া অনেক নেতা আশাবাদী হতে শুরু করেছেন।
নতুন কমিটির প্রক্রিয়া শিগগির শুরু হচ্ছে—এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী। তিনি বলছেন, কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও কাউন্সিল ডিসেম্বরে হতে পারে। তার আগে বিএনপি’র জেলা ও নগর কমিটি গঠনের কাজ শেষ করা হবে। যেহেতু তিনটি জেলায় আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে সেখানে খুব দ্রুতই সম্মেলন ও কাউন্সিল করা যাবে। আর সিলেটের দু’টি ইউনিটকে নতুন করে সাজানো হতে পারে।
সিলেট জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে। এ কমিটির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বর্তমানে সিলেট সিটি করপোরেশনের সরকার নিযুক্ত প্রশাসক। কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) সংসদীয় আসনের এমপি। ২০২২ সালে সর্বশেষ কাউন্সিল হয় এবং এ কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ফলে জেলা বিএনপির কমিটি খুব সহসাই ভেঙে যেতে পারে জানিয়েছেন একাধিক নেতা।
আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন জেলার সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী এবং কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম। তবে বিএনপি যদি মন্ত্রী-এমপি-প্রশাসকদের শেষ পর্যন্ত কমিটি থেকে দূরে রাখে, তবে এখানে নতুন মুখের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে এখানে দেখা যেতে পারে কেন্দ্রীয় সহ-ক্ষুদ্র ও ঋণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক অথবা জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ফয়সল আহমদ চৌধুরীর মতো নেতাদের কাউকে।
এ ইউনিটের সদস্য সচিব হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা কামরুল হাসান চৌধুরী শাহিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল, জেলার যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু। এরবাইরে আলোচনায় আরও কয়েকজন থাকলেও তাদের নিয়েই আলোচনা বেশি। তন্মধ্যে আন্দোলন সংগ্রামে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায় কামরুল হাসান চৌধুরী শাহিন ও আব্দুল আহাদ খান জামালকে এগিয়ে রাখছেন তাদের অনুসারীরা। জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সরকারের পতনের পর সিদ্দিকুর রহমান পাপলুর বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ এবং পুরনো নারী নির্যাতনের মামলার প্রসঙ্গ সামনে আনছেন তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা। এসবকে উপেক্ষা করে তার দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রয়েছে। একজন মন্ত্রীর সুনজরে তিনি রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতেও এসেছে অনেক নেতার নাম। এখানে আহ্বায়কের তালিকায় এসেছে সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর নামও। এছাড়া আহ্বায়ক পদে মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালি পংকি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদি ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর নাম আলোচনায় রয়েছে।
সদস্য সচিব হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে নগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক নজিবুর রহমান নজিব, জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম সম্পাদক ইশতিয়াক সিদ্দিকী, নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাহবুবুল হক চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ সাফেক মাহবুবের নাম।
কাইয়ুম চৌধুরী বলছেন, তিনি কোথায় যাবেন, কোথায় কাজ করবেন সেটি নির্ধারণ করবে কেন্দ্র। কেন্দ্র থেকে যেখানে নির্দেশ আসবে তিনি সেখানেই কাজ করবেন। আপাতত তাকে সিটি প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দল ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠন-পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। এজন্য চেয়ারম্যান তারেক রহমান দায়িত্বশীল নেতাদের নিয়ে কাজ করছেন। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই অঙ্গসংগঠনগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হবে।
ইএন/এসএ
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























