ঢাকা, সোমবার   ২৫ মে ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:৪০, ২৪ মে ২০২৬

কোরবানির হাটে জমে উঠছে বেচাকেনা, চাহিদার চেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত

ছবি: আই নিউজ

ছবি: আই নিউজ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন পশুর হাটে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। জেলার আদমপুর, টেংরা, ব্রাহ্মণবাজার, শমশেরনগর ও ভৈরব বাজারসহ বিভিন্ন হাটে দেশীয় গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার সরবরাহ বাড়লেও এখনো প্রত্যাশিত ক্রেতাসমাগম দেখা যায়নি।

বিক্রেতাদের দাবি, গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। ফলে তারা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, ছোট ও মাঝারি গরুর দাম এখনো তুলনামূলক বেশি রাখা হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার মৌলভীবাজারে কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ৭৪ হাজার ৫৮৪টি। এর মধ্যে রয়েছে ৩৯ হাজার ৪৮১টি গরু, ১ হাজার ৪৪৬টি মহিষ, ৩০ হাজার ৮২২টি ছাগল এবং ২ হাজার ৮৩৫টি ভেড়া। অথচ জেলার মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৭১ হাজার ৪৭২টি পশু। ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করেও অতিরিক্ত পশু দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খামারি ও কৃষকদের উপস্থিতি থাকলেও বিক্রি তুলনামূলক কম। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি গরুর সামনে ক্রেতাদের ভিড় বেশি দেখা গেলেও দরদামে মিলছে না সমঝোতা। বড় গরুর বাজার তুলনামূলক ধীরগতির হলেও গ্রামীণ জনপদে মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদাই বেশি।

শমশেরনগর পশুর হাটে গরু কিনতে আসা সিদ্দিকুর রহমান সাদেক বলেন, “প্রথমে একটি গরুর দাম ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। পরে দরদাম করে ৯৫ হাজার টাকায় কিনেছি। বাজারমূল্য অনুযায়ী এটি প্রায় ৯০ হাজার টাকার মতো হওয়া উচিত ছিল।”

ক্রেতাদের মতে, গত বছরের তুলনায় বাজার কিছুটা সহনীয় হলেও এখনো বিক্রেতারা বাড়তি দাম প্রত্যাশা করছেন। ফলে অনেকেই শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরিকল্পনা করছেন, যাতে দাম আরও কমে আসে।

অন্যদিকে খামারিদের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, গত এক বছরে গো-খাদ্য, ভুসি, খৈল, খড় ও ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে প্রতিটি পশু লালন-পালনে ব্যয় বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ফলে কম দামে বিক্রি করলে লাভ তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে মূলধন ফেরত পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় খামারি মুজিবুর রহমান বলেন, “আমার খামারে আটটি গরু ছিল। এর মধ্যে দুটি বিক্রি করেছি, কিন্তু আশানুরূপ দাম পাইনি। ক্রেতারা অনেক কম দাম বলছেন। খামার চালাতে এখন খুব কষ্ট হচ্ছে।”

প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে খামারভিত্তিক দেশীয় পশু উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় কোরবানির বাজারে এখন আর আমদানিনির্ভরতা নেই। এতে একদিকে যেমন স্থানীয় খামারিরা উৎসাহিত হচ্ছেন, অন্যদিকে ভোক্তারাও তুলনামূলক নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু পাচ্ছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান জানান, “এবার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। প্রতিটি পশুর হাটে মেডিকেল টিম রয়েছে, যাতে অসুস্থ বা ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ করা পশু শনাক্ত করা যায়। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত পশু দেশের অন্যান্য জেলাতেও পাঠানো হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, “হাটগুলোতে ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি টিম, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যাতে ক্রেতারা নিরাপদ পশু কিনতে পারেন এবং কোরবানির পশু পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় থাকে।”

এদিকে জেলার বিভিন্ন পশুর হাটে স্থানীয় পাইকারদেরও ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে। তারা গ্রামের ছোট হাট থেকে গরু কিনে বড় বাজারে নিয়ে বিক্রি করছেন। ফলে বাজারে দামের তারতম্য তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।

ইএন/এসএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়