ঢাকা, বুধবার   ১৭ জুন ২০২৬,   আষাঢ় ৩ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:০৬, ১৭ জুন ২০২৬

৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রুপান্তরিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

তারেক রহমান বলেছেন, আমরা দেখেছি বিভিন্ন সময়ে যখন দেশে জনগণ যখন ফুঁসে উঠেছে গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য, আমরা বিভিন্ন সময়ে দেখেছি বিভিন্নজনকে বিদেশে চলে যেতে। খালেদা জিয়া আপনাদেরকে রেখে কোথাও যায় নাই। খালেদা জিয়া আপনাদেরকে রেখে কখনো কোথাও যায় নাই। খালেদা জিয়া বলেছিল, বাংলাদেশই হচ্ছে আমার প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই হচ্ছে আমার শেষ ঠিকানা। প্রিয় ভাই-বোনেরা, আমরা হচ্ছি খালেদা জিয়ার সৈনিক। কাজেই বাংলাদেশই হচ্ছে আমাদের প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই হচ্ছে আমাদের শেষ ঠিকানা। আমাদের একটাই কাজ, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন, আমাদের একটাই কাজ, বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন। কাজেই আসুন, এই দেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে। এই দেশ আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। তাহলেই আমরা এই বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারব।

বুধবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তৃতীয় ধাপের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এরা বলে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে, কৃষক কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে? আপনাদের সবাইকে সাক্ষী রেখে তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই, এই যে আজকে এখানে শ্রমিকদেরকে, চা শ্রমিকদেরকে ঘর নির্মাণের জন্য ২ লক্ষ টাকা দেওয়া হলো, চা শ্রমিকদের পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়ার করার জন্য ১০,০০০ করে টাকা দেওয়া হলো তাদের বৃত্তি হিসেবে, এই যে মানুষের চিকিৎসার জন্য ৫০,০০০ করে টাকা দেওয়া হলো, এগুলা কখনো আগে শুনেছেন আপনারা, দেখেছেন? এর আগের সরকার দিয়েছিল? দেয় নাই। এটি কার অর্থ? জনগণের অর্থ। আমরা দেখেছি কিভাবে জনগণের অর্থ বিগত এক যুগ ধরে, ১৭ বছর ধরে আমরা দেখেছি, কিভাবে জনগণের অর্থ এই দেশ থেকে পাচার হয়ে গিয়েছিল। জনগণের অর্থ জনগণকে না দিয়ে একটি দল বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল।”

তিনি বলেন, “যারা বলে কোত্থেকে আসবে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা, কোত্থেকে আসবে তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এই জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না আমরা। জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করা হবে, জনগণের অর্থ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করা হবে, দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে, জনগণের জন্য কাজ করা হবে। কাজেই ইনশাল্লাহ টাকার কোনো অভাব হবে না। আসুন, যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে, যারা এই দেশ থেকে টাকা বাইরে পাঠাতে চায়, জনগণের অর্থ টাকা বিদেশে পাঠাতে চায়, আমরা আজ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব। আমরা যদি সকলে চোখ-কান খোলা রাখি, তাহলে এই দেশের মানুষের অর্থ-সম্পদ কেউ বিদেশে পাচার করতে পারবে না। এবং সেই টাকা দিয়ে আমরা সকলে মিলে পরিশ্রম করব এবং সেই অর্থ দিয়ে আমরা দেশ এবং দেশের মানুষের ভাগ্যে পরিবর্তন করব। আছেন নাকি আমার সাথে সবাই এই কাজে? ইনশাল্লাহ।”

তারেক রহমান বলেন, “যখন নির্বাচনের প্রথম প্রচার অভিযান শুরু হয়, আমি সিলেটের পবিত্র মাটি থেকে সেই প্রচার অভিযান কাজ শুরু করেছিলাম এবং সেইদিনই সিলেটের জনসভা শেষ করে, আমি হবিগঞ্জে যখন জনসভা করছি, সেই সময় আমি হবিগঞ্জের জনসভার মঞ্চ থেকে বলেছিলাম যে, বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয় ইনশাল্লাহ, তাহলে আমরা আমাদের চা বাগান শ্রমিকে যে সকল মায়েরা কাজ করে তাদের জন্য আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেব। আজকে আল্লাহর কাছে আমি হাজারো শুকরিয়া জানাই, লক্ষ শুকরিয়া জানাই যে আল্লাহ আমাকে এই তৌফিক দিয়েছেন আজকে যে আমি আমার কথা আজকে রাখতে পেরেছি।”

তিনি বলেন, “আমরা হয়তো আজকে সবাইকে দিতে পারিনি, কিন্তু ইনশাল্লাহ আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা প্রায় সকল নারী শ্রমিকের কাছে, চা বাগানের সকলের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব ইনশাল্লাহ।”

তারেক রহমান বলেন, “বিগত ১২ তারিখের নির্বাচনে এই বাংলাদেশের মানুষ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে নির্বাচিত করেছিল। কেন? কারণ, আমরা সেই সময়ে মানুষকে বলেছিলাম যে আপনারা যদি আমাদেরকে নির্বাচিত করেন, আমরা জনগণের জন্য কাজ করব। প্রথম একটি কাজের কথা বলেছিলাম, সেটি হচ্ছে যে আমরা বিশ্বাস করি, এই আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে সকলকে একসাথে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে, সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে এবং সেজন্যই আমরা মনে করি যে পুরুষদের পাশাপাশি আমরা যদি নারীদেরকে সাহায্য করতে না পারি স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য, তাহলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় এবং সেজন্যই নারীদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছিলাম। বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটির মতন পরিবার রয়েছে। আমরা বলেছিলাম যে আমরা যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হই ১২ তারিখের নির্বাচনে, তাহলে পর্যায়ক্রমিকভাবে সকল পরিবারের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। বিশেষ করে নারী প্রধানদের কাছে, পরিবারের যে নারী প্রধান তার কাছে। আমরা নির্বাচন হওয়ার সাথে সাথে এক মাসেরও কম সময়ের ভেতরে আমরা আমাদের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছিলাম।”

তারেক রহমান বলেন, “আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার, বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। এবং সেকারণেই আপনারা দেখেছেন যে আজকে শুধু ফ্যামিলি কার্ডই নয়, ফ্যামিলি কার্ড দেবার পাশাপাশি এই যে চা বাগানের শ্রমিক, নারী শ্রমিক যারা, তাদের কাছে আমরা, অনেকের কাছে আমরা ঘর প্রদানের জন্য ২ লক্ষ টাকা আমরা দিয়েছি ৫০ জন শ্রমিককে। ২ লক্ষ টাকা করে দিয়েছি ৫০ জন। আমি এখানে স্টেজের মধ্যে তিনজনের হাতে সেই ২ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিয়েছি। আর বাকি আমরা প্রশাসনের মাধ্যমে বাকি যারা পেয়েছেন আজকে, সকলের কাছে ইনশাল্লাহ আমরা সেই টাকা পৌঁছে দেব, আপনারা পেয়ে যাবেন সেই টাকা ২ লক্ষ। যাতে চা শ্রমিকরা অত্যন্ত কষ্টে থাকে আমরা জানি, সেই ধীরে ধীরে তাদেরকে একটি একটু ভালো অবস্থায় যাতে আনা যায়, সেইজন্য আমরা ২ লক্ষ টাকা করে দিয়েছি। এর বাইরেও চা শ্রমিকদের সন্তানরা যাতে লেখাপড়া শিখতে পারে, সেইজন্য আমরা তাদেরকে আমরা বিশেষ স্কলারশিপ দিয়েছি, তাদের সন্তানদেরকে স্কলারশিপ দিয়েছি। প্রায় ১৫০ জনের মতন, ১৫০ জনের মতন চা শ্রমিক পরিবারের সন্তানদেরকে আমরা স্কলারশিপ দিয়েছি। এর বাইরে আমরা এখানে দেখেছেন আপনারা, এই হাজার হাজার মানুষ দেখেছেন যে প্রতিবন্ধী মানুষ কয়েকজন এসেছেন এই মঞ্চে, তাদের হাতে তাদের চিকিৎসার জন্য আমরা ৫০,০০০ কাউকে ১০,০০০ কাউকে আমরা টাকাটা তুলে দিয়েছি, চেক তুলে দিয়েছি। বাকিগুলো আমি কয়েকজনের হাতে দিয়েছি, বাকি টাকাগুলো প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে, আমরা বলেছিলাম এই কাজগুলোর পাশাপাশিও আমরা এই দেশের কৃষকদের পাশেও দাঁড়াতে চাই। এবং এই যে বর্তমান বাজেট, যেটা আমরা কয়েকদিন আগে বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেছি, সেই বাজেটে আমরা অর্থ বরাদ্দ করেছি আগামী বছর, এই যে সামনে এখন জুলাই মাস থেকে আগামী এক বছর পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশের ৪০ লক্ষ কৃষক ভাইয়ের হাতে আমরা কৃষক কার্ড তুলে দেব। ঠিক একইভাবে আগামী এক বছরে ৪০ লক্ষ পরিবারের কাছে যেমন ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেব, ৪০ লক্ষ কৃষকের কাছে আমরা কৃষক কার্ড তুলে দেব।”

তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম যে আমরা এই বাংলাদেশে, আমি মুসলমান, আরেকজন আছেন হিন্দু ভাই, আরেকজন আছেন বৌদ্ধ, আরেকজন আছেন খ্রিস্টান, আমরা বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিতে এই বাংলাদেশে বসবাস করি। হাজার বছরের ঐতিহ্য আমাদের। কিন্তু এই যে আমাদের ধর্মীয় শিক্ষক বা ধর্মীয় গুরু যারা, মসজিদ-মাদ্রাসাই হোক, গির্জাই হোক ও মন্দির হোক, এখানে যারা আছেন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বা ধর্মীয় গুরু, এই মানুষগুলো মানবতর জীবনযাপন করেন অনেকেই। আমরা বলেছিলাম, বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে এই মানুষগুলোকে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানের ব্যবস্থা করব। প্রিয় ভাই-বোনেরা, আপনারা দেখেছেন আমাদের সেই প্রতিশ্রুতিও আমরা রক্ষা করেছি। যেভাবে আমরা মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিচ্ছি ধীরে ধীরে, যেভাবে আমরা কৃষক ভাইদের কাছে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছি ধীরে ধীরে, আমরা একইভাবে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ অন্যান্য ধর্মের যারা ধর্মীয় গুরু আছেন তাদের হাতেও সম্মানের ব্যবস্থা তুলে দিচ্ছি। আপনারা আজকে আপনাদের স্বচক্ষে দেখলেন যে আমরা যারা মেধাবী স্টুডেন্ট, যারা কিন্তু অর্থনৈতিক কারণে ঠিকভাবে বই কিনতে পারে না, পড়াশোনা করতে পারে না, এরকম চা শ্রমিক পরিবারের যারা সন্তান, তাদের হাতেও আমরা তুলে দিয়েছি অর্থ সরকারের পক্ষ থেকে। অর্থাৎ, আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই, মানুষকে সহযোগিতা করতে চাই।”

তারেক রহমান বলেন, “আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে চাই, দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই, মানুষকে, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই। প্রিয় ভাই-বোনেরা, কিন্তু, কিন্তু প্রিয় ভাই-বোনেরা, আপনারা কি মনে করেন যেই কাজগুলো যেই বিষয়গুলো আপনাদের চোখের সামনে দেখেছেন, আগামী ৫ বছর বিএনপি এই কাজগুলো অব্যাহত রাখুক আপনারা কি এটা চান? হে মায়েরা, আপনারা কি চান বাংলাদেশের সকল মায়েদের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেই? বাজেট ইস্যু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখছি আমরা যেই বাজেট উপস্থাপন করেছি, সেই বাজেটের মধ্যে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। আমরা যেই বাজেট উপস্থাপন করেছি সংসদে, সেই বাজেটের মধ্যে আমরা কৃষক কার্ডের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। আমরা যেই বাজেট উপস্থাপন করেছি, সেই বাজেটে আমরা আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা, স্টুডেন্টরা যাতে স্কুল-কলেজে ভালো করে লেখাপড়া করতে পারে, যাতে খেলাধুলা করতে পারে, তার জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। আমরা যেই বাজেট পেশ করেছি জাতীয় সংসদে, সেখানে এই যে হাজার হাজার আপনারা মানুষ, সারা বাংলাদেশে যে কোটি কোটি মানুষ, তারা যাতে সঠিকভাবে চিকিৎসা পেতে পারে, সেইজন্যই প্রত্যেক উপজেলা পর্যায়ে যে ৫০ বেডের হসপিটাল আছে, সেটিকে ইনশাল্লাহ আগামী ৫ বছরে আমরা ১০০ বেড করব, তার জন্য আমরা অর্থ বরাদ্দ রেখেছি, যাতে করে এলাকার মানুষ, উপজেলার মানুষ, গ্রামের মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে, মিনিমাম স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে অন্তত।”

তিনি বলেন, “কিন্তু বাজেটের পরে নিশ্চয়ই আপনারা দেখেছেন, যেই বাজেটে আমরা সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি, অনেকে বলেছে, অনেকে বলেছে সেই বাজেট বলে তারা মানে না। দেখেছেন না পত্রিকায়, সংবাদে? আবার অনেকে বলেছে, যেই বাজেটে আমরা মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ বরাদ্দ রেখেছি, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের বরাদ্দ রেখেছি, প্রতিবন্ধী মানুষ, শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি, যেই বাজেটে আমরা মানুষের স্বাস্থ্য সুবিধার জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি, সেই বাজেট নাকি চানাচুরের মতন। শুনেছেন এই কথা? কিছু কিছু লোক বলেছে। প্রিয় ভাই-বোনেরা, যেই বাজেট জনগণের বাজেট, যেই বাজেটের মাধ্যমে অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে আমরা জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই, সেই বাজেটকে যারা চানাচুরের সাথে তুলনা করে, যেই বাজেটে আমরা জনগণের জন্য স্বাস্থ্য সুবিধার অর্থ বরাদ্দ রেখেছি, কৃষক ভাইদের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি, যেই বাজেটে আমাদের সন্তানরা যাতে ভালোভাবে লেখাপড়া শিখতে পারে তার জন্য সর্বোচ্চ বাজেট রেখেছি, সেই বাজেটকে বলে তারা গণবিরোধী বাজেট। দেখেছেন না? আমরা এই বাজেটের মধ্যে অর্থ বরাদ্দ রেখেছি এবং একই সাথে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য চাল, ডাল, তেল, নুন, চিনি এইসবের উপরে যে শুল্ক আগে ছিল, সেই শুল্ক আমরা, যে ট্যাক্স ছিল, সে ট্যাক্সও আমরা উঠিয়ে নিয়েছি যাতে জিনিসের দাম না বাড়ে। জনগণের কথা চিন্তা করে আমরা ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের উপর থেকে আমরা শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছি এই বাজেটে। এখন প্রিয় ভাই-বোনেরা, যেই বাজেটে ৬০টি পণ্যের উপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, সেই বাজেটকে একটি দল বলে গণবিরোধী বাজেট। এখন জনগণের জন্য যেই বাজেটে সকল ব্যবস্থা রেখেছি, সেই বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে, তারা কি কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে? তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না প্রিয় ভাই-বোনেরা। কাজেই, যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায় প্রিয় ভাই-বোনেরা, সেটি সংসদের ভেতরেই হোক, সেটি সংসদের বাইরেই হোক, তাদের ব্যাপারে আপনাদেরকে সচেতন থাকতে হবে। কারণ এইসকল লোকেরা, এইসকল দলগুলো দেশে যদি অশান্তি করার সুযোগ পায়, তাহলে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করতে পারব না। এই লোকগুলো, এই দলগুলো যদি দেশে অশান্তি সৃষ্টি করে, তাহলে এই যে আজকে প্রতিবন্ধী মানুষদেরকে যে আমরা সহযোগিতা করলাম, এই যে গরিব ছাত্র-স্টুডেন্টগুলোকে যে আমরা সহযোগিতা করলাম, এই যে আমরা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের উপর থেকে ৬০টি দ্রব্যের উপর থেকে যে আমরা ট্যাক্স তুলে নিতে পারলাম, এটি আমরা তাহলে কন্টিনিউ করতে পারব না। কাজেই, যারা এসব কাজে বাধা দিবে, কি ব্যবস্থা করা উচিত তাদের বিরুদ্ধে? সতর্ক থাকতে হবে তাদের বিরুদ্ধে এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

শিল্পউদ্যোক্তাদের নিয়ে তারেক রহমান বলেন, “আমরা যাতে এই দেশের যারা শিল্পউদ্যোক্তারা আছে, যারা মিল-ফ্যাক্টরি তৈরি করতে পারে, তার ফলে আমাদের বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারি, সেইজন্য এই দেশে বাংলাদেশে যেসকল দ্রব্য তৈরি হয়, একই দ্রব্য কেউ যদি বিদেশ থেকে আমদানি করে, তার উপরে আমরা শুল্ক বাড়িয়ে দিয়েছি, যাতে করে বাংলাদেশের মিল-কারখানাগুলো রক্ষা পায়। যাতে করে সেই মিল-কারখানাগুলো যদি চলে, তাহলে আমাদের ছেলেমেয়েরা সেখানে চাকরিবাকরি করতে পারবে। একই জিনিস যদি বিদেশ থেকে আসে, তখন আমাদের মিল-কারখানা চলবে? বন্ধ হয়ে যাবে। সেইজন্য আমাদের মিল-কারখানাগুলোকে আমরা প্রোটেকশন দিয়েছি, সেই ব্যবস্থা আমরা এই বাজেটের মধ্যে রেখেছি।”

তিনি বলেন, “বিএনপি হচ্ছে জনগণের দল। যতবারই এই দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে, যতবারই এই বাংলাদেশে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছে, প্রত্যেকবার মানুষ ধানের শীষকে বিজয় করেছে। এবং এবং এই যে মৌলভীবাজারের যতগুলো বড় বড় রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ দেখেছেন, খোঁজ করে দেখুন, এগুলো সব বিএনপির সাইফুর রহমান সাহেবের সময়ে এই কাজগুলো হয়েছিল। কাজেই প্রিয় ভাই-বোনেরা, কথা সাফ কথা। যদি দেশের উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে হয়, যদি মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছাতে হয়, কৃষক ভাইদের হাতে যদি কৃষক কার্ড পৌঁছাতে হয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেটি আছে সেটিকে ৫০ বেড থেকে যদি ১০০ বেডে করতে হয়, যদি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হয়, তাহলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে পারবে না। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কেউ নষ্ট করতে পারবে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কারা নষ্ট করেছিল, আমরা সেটি ভালো করে জানি। আমরা দেখেছি দেশ স্বাধীনের সময়, দেশ স্বাধীনের আগে এবং পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র বিনষ্টকারী, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী সবগুলো একসাথে ছিল। মুখে মুখে বলত আমরা একসাথে নাই, কিন্তু ভেতরে ভেতরে এরা সবসময় একসাথে কাজ করেছে। এবং সকল সময়, প্রত্যেকটি সময় বিএনপি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সবসময় জনগণের কাতারে ছিল। সেজন্যই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের শক্তি। সেজন্যই বিএনপি সকল সময় বলে থাকে জনগণই আমাদের সকল ক্ষমতার উৎস।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তারেক রহমান ১৫৫ জনের মধ্যে ১০ জন উপকারভোগীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন। পাশাপাশি ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত পাঁচজনকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা ও নৃগোষ্ঠীর পাঁচজনকে জীবনমান উন্নয়নের জন্য ১০ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক সহায়তা, পাঁচজন শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে শিক্ষা অনুদান এবং দুঃস্থ, অসহায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন ১০০ জনকে ১০ হাজার টাকা করে বিশেষ অনুদানের চেক তুলে দেন। এ ছাড়া টেকসই আবাসন নিশ্চিত করতে পাঁচজন চা-শ্রমিকের হাতে দুই লাখ টাকা করে আর্থিক বরাদ্দপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

আজ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই অনুষ্ঠান হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। এদিকে প্রধান মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রচুর জনসমাগম হয়। বৃষ্টিরমধ্যে ভিজে সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠান দেখেন।

ইএন/এসএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়