ঢাকা, সোমবার ১৩ জুলাই ২০২৬,   আষাঢ় ২৯ ১৪৩৩

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:০৩, ১৩ জুলাই ২০২৬

নবীনগরের শীর্ষ সন্ত্রাসী শফিক ডাকাত গ্রেফতার

ছবি: আই নিউজ

ছবি: আই নিউজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে র‍্যাব সদস্যদের ওপর সশস্ত্র হামলার মূলহোতা এবং হত্যা, ডাকাতি, ধর্ষণ, মাদকসহ ১৫টি মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী শফিক ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। সোমবার (১৩ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ঝাউলাহাটি শহিদ কাওসার রোড এলাকা থেকে র‍্যাব-৯ ও র‍্যাব-১০-এর যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গত ১১ মে বিকেল ৪টার দিকে র‍্যাব-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি গোয়েন্দা দল তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নবীনগর হয়ে বাঞ্ছারামপুর থানায় যাওয়ার পথে নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতুয়া বলিয়ারা গ্রামে পৌঁছালে শফিক ডাকাত ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে র‍্যাব সদস্যদের মোটরসাইকেল থামিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

এ সময় র‍্যাব সদস্যরা নিজেদের পরিচয় দিলেও হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারা র‍্যাব সদস্যদের একটি বাড়িতে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে র‍্যাবের আরেকটি আভিযানিক দল স্থানীয় গ্রামবাসীর সহায়তায় অবরুদ্ধ সদস্যদের উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় র‍্যাবের এক সদস্য বাদী হয়ে ১৩ মে নবীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই র‍্যাব-৯ তদন্ত শুরু করে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে ব্যাপক গোয়েন্দা তৎপরতা চালায়।

এর ধারাবাহিকতায় গত ১২ মে, ১৮ মে এবং ১৬ জুন পৃথক অভিযানে ওই মামলার নয়জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে একটি বিকাশ অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাতে র‍্যাব-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং র‍্যাব-১০, সিপিএসসি, লালবাগের যৌথ দল অভিযান চালিয়ে মামলার অন্যতম আসামি ও হামলার মূলহোতা শফিক ডাকাতকে গ্রেফতার করে।

র‍্যাবের তথ্য অনুযায়ী, শফিক ডাকাতের বিরুদ্ধে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে নবীনগর থানা পুলিশের ওপর দুটি এবং ২০২৬ সালের ১১ মে র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলার একটি মামলা রয়েছে।

এ ছাড়া হত্যা, ডাকাতি, চুরি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফিসহ মোট ১৫টি মামলার আসামি তিনি। র‍্যাবের দাবি, চুরি দিয়ে অপরাধজীবন শুরু করলেও পরে শফিক এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলে এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের দিন প্রকাশ্যে মাসুদ নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করার পর এলাকায় তার প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়।

গ্রেফতার শফিক ডাকাতকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

র‍্যাব জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইএন/এসএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়