ঢাকা, শুক্রবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ২ ১৪২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

প্রকাশিত: ২২:০৭, ৩১ জুলাই ২০২১
আপডেট: ২২:১৮, ৩১ জুলাই ২০২১

সিলেট বিমানবন্দরে প্রবাসী নারীকে হয়রানি, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্রিটিশ নাগরিক জামিলা চৌধুরীকে হয়রানির অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। 

গত বুধবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ওই ব্রিটিশ নাগরিক বিমান কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে নির্ধারিত ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যে যেতে পারেননি। এ ঘটনায় শনিবার (৩১ জুলাই) দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ। তবে শাস্তির আওতায় আনা ওই দুই কর্মকতার নাম প্রকাশ করা হয়নি।

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিমানের স্টেশন ব্যবস্থাপক চৌধুরী ওমর হায়াত শনিবার বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকতার নাম প্রকাশ প্রকাশ করেননি তিনি।

চৌধুরী ওমর হায়াত বলেন, এ ঘটনায় দুইজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের ঢাকায় গিয়ে রিপোর্ট করার জন্য বলা হয়েছে। 

জানা যায়, বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে যুক্তরাজ্যে সন্তানদের রেখে দেশে এসেছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক জামিলা চৌধুরী। গত বুধবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০১ ফ্লাইটে দুপুর ২টা ৪০মিনিটে তার যুক্তরাজ্য ফেরার কথা ছিল। সেখানে কোয়ারেন্টাইনের জন্য হোটেলও বুকিং করা ছিল। ওইদিন নির্ধারিত সময়ের তিনঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে আসেন তিনি। বিমানবন্দরে চেকইনের সময় তার কাছে তিনটি লাগেজ ছিল। লাগেজগুলোর ওজন নির্ধারিত ওজনের চেয়ে বেশি ছিল। অতিরিক্ত লাগেজের কারণ দেখিয়ে তাকে বোর্ডিং পাস না দেওয়ায় নির্ধারিত ফ্লাইটে তিনি গন্তব্যে যেতে পারেননি।

জামিলা চৌধুরীর ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি বিমানবন্দরের অভিযোগ বক্সে অভিযোগ করতে যান। সেখানে এক কর্মকর্তার কাছে অভিযোগপত্র চাইলে সেই কর্মকর্তা তাকে স্টেশন ম্যানেজারের সঙ্গে আলাপ করার পরামর্শ দেন। সেই সময় তিনি স্টেশন ম্যানেজারের সঙ্গে আলাপ করতে গেলে তিনি তিনতলায় রয়েছেন বলে আরেক কর্মকর্তা জানান। এমনকি আরও বেশ কয়েকজনের সঙ্গে এ বিষয়ে সাহায্য চাইলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করার কথা জানানো হয়।

জামিলা চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, আমার তিনটি লাগেজের ওজন বেশি ছিল। তবে আমি একটি লাগেজ নিতে চাইলে তারা আমাকে বলেন যে গেট ক্লোজ হয়ে গেছে। এর আগে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আমাকে বলেছে, আমি যাতে মোট ৫৩ কেজি ওজনের লাগেজ নেই। এর জন্য আমাকে ২৬ হাজার টাকা পরিশোধের কথা বলা হয়েছিল। তবে আমি তা দিতে অস্বীকার করি এবং একটি লাগেজ নেওয়ার কথা জানাই। সেই সময় কর্তৃপক্ষ আমাকে জানায় যে কাউন্টার ক্লোজ হয়ে গেছে। আমি আর যেতে পারব না।

জামিলা চৌধুরী আরও বলেন, আমি বিমানবন্দরে অনেকের কাছেই সাহায্য চেয়েছিলাম। কিন্তু কেউই আমাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেননি। আমি তিন ঘণ্টা আগেই বিমানবন্দরে প্রবেশ করি। তবুও আমি যুক্তরাজ্য ফেরত যেতে পারিনি। এমনকি ডেস্কে বসা একজন কর্মকর্তা আমার মুখের ওপর পাসপোর্ট ফেলে দিয়ে আমাকে পাগল বলেও মন্তব্য করেছেন।

আইনিউজ/এসডি

 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়