ঢাকা, শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৯ ১৪২৭

মুজিবুর রহমান রঞ্জু

প্রকাশিত: ২২:২১, ১৭ অক্টোবর ২০২০

দুর্ভোগের অপর নাম মৌলভীবাজার-শমশেরনগর- চাতলা সড়ক

সংগৃহীত

সংগৃহীত

ভারতের ত্রিপুরার সাথে মৌলভীবাজার জেলা সদরের যোগাযোগ রক্ষাকারী মৌলভীবাজার-শমমেরনগর-চাতলাপুর চেকপোস্টে যাওয়ার সড়কটি সংস্কারের অভাবে গত ৪ বছর ধরে ভেঙ্গে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। এর মাঝে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটির পিচঢালা উঠে স্থানে স্থানে ভয়ানক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে গত চার বছর যাবৎ এই সড়ক দিয়ে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

গত বছরের নভেম্বর থেকে ঠিকাদারের তত্ত্বাবধানে বড় ধরণের সংস্কার কাজ শুরু হলেও চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে কাজের সময় সীমা শেষ হয়ে গেলেও এতদিনে প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ আংশিক শেষ হয়ে বৃষ্টিপাতের কারণে সড়কে বড় বড় গর্ত ও পাথরের ঝাঁকুনিতে অতিষ্ঠ যাত্রীরা।

সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও যানবাহন চালকদের অভিযোগে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মৌলভীবাজার-শমশেরনগর--চাতলাপুর চেকপোস্ট সড়কের ৩৪ কি.মি. এর মধ্যে ২০ কি.মি. সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয় এক বছর আগে। সড়কের প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ হওয়ার পর বাকি কাজ হচ্ছে খুবই ধীর গতিতে। এরমাঝে বৃষ্টিপাত ও যানবাহনের চাপে সড়কের বালু, পাথর সিটকে পড়ে পুরোসড়ক জুড়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রীরা সারাক্ষণই থাকেন ঝাঁকুনির মধ্যে।  যানবাহনের ঝাঁকুনিতে অতিষ্ট হচ্ছেন যাত্রীরা। কেউ কেউ অসুস্থ হয়েও পড়ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন।

চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারতের উত্তর ত্রিপুরার কৈলাশহরের মনু স্থল শুল্ক স্টেশনের মধ্য দিয়ে দুই দেশে বিভিন্ন ধরণের পণ্য আমদানি-রপ্তানী করা হয় এ সড়ক ব্যবহার করে। মৌলভীবাজার জেলা সদরের কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও রাজনগর তিন উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক লোকের যাতায়াত রয়েছে এ পথে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানসম্পন্ন করায় ক্ষুব্দ এলাকাবাসী।

শমশেরনগরের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম খান, ব্যাংকার নুপুর বৈদ্য, সংস্কৃতি কর্মী অমলেশ শর্ম্মা, বলেন- এতদিনেও রাস্তার সংস্কার কাজ হয়নি। অথচ অসুস্থ কিংবা গর্ভবতী রোগীদের নিয়ে এই রাস্তায় যাতায়াত করা সম্ভব হয় না। অনেকে বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ২০ কিলোমিটার ঘুরে শ্রীমঙ্গল শহর হয়ে মৌলভীবাজারে আসা যাওয়া করেন। 

সিএনজি অটোরিকশাচালক রতন দে, বিল্লাল মিয়া বলেন, এই সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে এখন গাড়ির নাম হয়েছে “ভাঙ্গা গাড়ি” আর যাত্রীদের দুর্ভোগের কারণে নাম দিয়েছেন “রোগী বানানোর সড়ক”। আমাদের গাড়ি বিকল ও যাত্রীদের অসহনীয় দুর্ভোগ নিয়েই চলাচল করছি। 

সওজ সূত্রে জানা যায়, ৪২ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে এ কাজে দায়িত্ব পায় কুমিল্লার টিকাদারী প্রতিষ্ঠান রেব আরসি প্রাইভেট কোম্পানী। তবেএ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এ কাজের দায়িত্বভার গ্রহন করেকুলাউড়ার এম.আর ট্রেডিং –এর মুহিবুর রহমান। ৪২ কোটি ১১ লাখ টাকা
ব্যয়ে কাজ শুরু হলেও পরে দফায় দফায় সড়কের সংস্কার কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে। ৩৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়কের ২০ কি.মি. এলাকার বিভিন্ন অংশে কাজ হবে। এর মধ্যে সড়কে যেসব বাজার এলাকা রয়েছে, সেসব স্থানে কাজ হবে না। বাজার এলাকায় পরবর্তীতে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ হবে। অন্যদিকে যেসব স্থান বন্যায় তলিয়ে যায় সেসব স্থানেও কাজ হচ্ছে না। সেসব স্থানে উঁচু করে পুনঃনির্মাণ করা হবে।

স্থানীয়ভাবে এ সড়কের উন্নয়ন কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত এম.আর ট্রেডিংএর ঠিকাদার মুহিবুর রহমান (কোকিল) বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পুনরায় সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। তবে এখনও নতুন করে কাজের সময় সীমা বাড়ায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তারপরও এ সড়কে উন্নয়নকাজ অব্যাহত রয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার আলম বলেন, গত কয়েক মাস ধরে টানা বৃষ্টির জন্য কাজ সম্পন্ন হয়নি। সড়কের ২০ কি.মি. কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে। ঠিকাদারের পক্ষ থেকে কাজের সময় চেয়ে আবেদন করেছেন।

মৌলভীবাজার- ৪ আসনের সাংসদ উপাধ্যক্ষ ড. এম এ শহীদ গত ৬ অক্টোবর এ সড়কের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করে যাত্রী ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রকৌশলীসহ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে।

আইনিউজ/মুজিবুর রহমান রঞ্জু  

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়