ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১৫ ১৪২৭

নিজস্ব প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ২০:০৩, ৫ ডিসেম্বর ২০২০
আপডেট: ২০:৪০, ৫ ডিসেম্বর ২০২০

ভাস্কর্য বিতর্কের সমাধান হবে এক সপ্তাহের মধ্যেই: ধর্মমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

দেশে চলমান ভাস্কর্য বিতর্ক ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করেছে। আজও এক বৈঠকে হেফাজতের আলেমরা ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছেন। তারা বলছেন, যে কোন উদ্দেশ্যেই ভাস্কর্য নির্মাণ ‘ইসলামে নিষিদ্ধ’। এদিকে এই বিতর্কের সমাধান এক সপ্তাহের মধ্যেই হবে বলে জানিয়েছেন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান।

শনিবার দুপুরে জামালপুর সার্কিট হাউসে আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেছেন, ভাস্কর্যের ব্যাপারে আলোচনা চলছে, সমাধান এক সপ্তাহের মধ্যে হবে।

ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেন, সাম্প্রদায়িকতার চিহ্ন রেখে বাংলাদেশ কোনো কাজ করে না। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য যা করা দরকার, সে বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ভাস্কর্য নিয়ে সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হবে বলে বিশ্বাস করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

পরে প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক। উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান, জামালপুর-৩ আসনের সাংসদ ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সাংসদ মোজাফফর হোসেন, পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মেদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ, জামালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হান প্রমুখ।

মতবিনিময় অনুষ্ঠান শেষে নিজ এলাকা ইসলামপুরে এক গণসংবর্ধনায় অংশ নেন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক।

আলেমদের ভাস্কর্য বিরোধী অবস্থান

চলমান এই বিতর্কের মাঝেই দেশটির ইসলামী ধারার একাংশ ভাস্কর্য নিয়ে তাদের নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।

শনিবার (৫ ডিসেম্বর) যাত্রাবাড়ি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হাসানের আয়োজনে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দেশের অনেক আলেমরা অংশ নেন।  

যাত্রাবাড়ি মাদ্রাসায় বৈঠকের পর আলেমদের দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "মানবমূর্তি ও ভাস্কর্য যে কোন উদ্দেশ্যে তৈরি করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এমনকি কোন মহৎ ব্যক্তি ও নেতাকে মূর্তি বা ভাস্কর্য স্থাপন করে শ্রদ্ধা জানানো শরিয়তসম্মত নয়।"

কোন ব্যক্তিকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য "কুরআন-সুন্নাহ সমর্থিত কোন উত্তম বিকল্প সন্ধান করাই যুক্তিযুক্ত" বলে বিবৃতিতে জানান আলেমরা।

গতকাল (শুক্রবার) কয়েকটি ইসলামপন্থী সংগঠনের ডাকা ভাস্কর্য বিরোধী বিক্ষোভ মিছিলটি ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে বের হবার পর পুলিশ সেটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

আজ বৈঠকে আলেমরা অনেকগুলো বিষয়ে প্রস্তাব রেখেছেন সরকারের কাছে। তাঁর মধ্যে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইসলামের নবীর প্রতি অবমাননাকর আচরণের ওপর কঠোর নজরদারি ও দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এছাড়াও তাদের আন্দোলনে অংশ নিয়ে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের নিঃশর্ত মুক্তিদান, তাদের বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধ ও দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানিয়েছেন।

ভাস্কর্য ইস্যুতে আওয়ামী লীগের অবস্থান

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যকে কেন্দ্র করে হেফাজতের বর্তমান আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর বক্তব্যের পর আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় আওয়ামী লীগেও। ভাস্কর্য তৈরির পক্ষে সরকারের কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এছড়া প্রগতিশীল চিন্তার মানুষেরাও ভাস্কর’র পক্ষে মতামত ও অবস্থান ব্যক্ত করেন। যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠকেরা ভাস্কর‘র পক্ষে রাজপথে নেমেছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে একটি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অনভিপ্রেত ও উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্য দিচ্ছে" এবং তিনি আরও বলেন তারা "ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মপ্রিয় মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ তৈরির চেষ্টা করছে"।

আইনিউজ/এইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়