ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৩ ১৪২৭

রাকিবুর রহমান

প্রকাশিত: ১৫:৫৩, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১
আপডেট: ২৩:৪৯, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আজকের দিনে ঘটেছিল খন্দকের যুদ্ধ

খন্দকের যুদ্ধ প্রতীকী

খন্দকের যুদ্ধ প্রতীকী

ইসলামের ইতিহাসে সংঘটিত হওয়া যুদ্ধগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল খন্দক বা পরিখার যুদ্ধ। ৬২৪ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে ওহুদের যুদ্ধকে কেন্দ্র করেই এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।

পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন মুহাম্মদ (সা.)। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে থাকা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এ ব্যবস্থা যুক্ত করে নিষ্ক্রিয় করে ফেলা হয় আক্রমণকারীদের। দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করতে মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কুরাইজা গোত্রকেও নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসে জোটবাহিনী।

খন্দক শব্দের অর্থ পরিখা বা গর্ত। এ যুদ্ধে অনেকগুলো গর্ত খনন করা হয়েছিল বলেই এর নাম রাখা হয় খন্দকের যুদ্ধ। আহজাবের যুদ্ধ বা জোটের যুদ্ধও বলেও এটিকে অভিহিত করা হয়।

এ যুদ্ধে মুসলমানদের ওপর ঝাপিয়ে পড়েছিল মক্কার কুরাইশ, মদিনার ইহুদি, বেদুইন ও পৌত্তলিকেরা। এক বছর ধরে চলা উপর্যুপরি সামরিক অভিযান ও কর্মকাণ্ডের ফলে আরব উপদ্বীপে সৃষ্টি হয়েছিল শান্তি ও স্বস্তির বাতাবরণ। সর্বত্র বিরাজমান ছিল সুখ-শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশ।

তবে নিজেদের দুষ্কর্ম ও চক্রান্তের কারণে যেসব ইহুদীরা অপমান ও লাঞ্ছনার স্বীকার হয়েছিল, তখনো তাদের চৈতন্যোদয় হয়নি। অঙ্গীকারভঙ্গ, বিশ্বাসঘাতকতা, ধোঁকাবাজি, শত্রুতা ও আমানতের খেয়ানতসহ নানা অপকর্মের ফল থেকে কোন শিক্ষাই তাদের হয়নি।

কাজেই, মদিনা থেকে বহিস্কৃত হয়ে খায়বার যাওয়ার পর মুসলিম ও মুসলিম বিরোধীদের মধ্যে যে সামরিক টানাপোড়েন চলছিল তার ফলাফল প্রত্যক্ষ করার অপেক্ষায় ছিল তারা। কিন্তু যখন দেখে- পরিস্থিতি ক্রমেই মুসলিমদের অনুকূলে চলে যাচ্ছিল এবং তাদের শাসন ক্ষমতা বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করতে শুরু করে, তখনই তারা নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। শুরু হয় শেষ বারের মতো মুসলিমদের ওপর চরম এক আঘাত হানার প্রস্তুতি।

২৭ দিন ধরে মদিনা অবরোধ করে রাখে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলো। জোট বাহিনীর প্রায় ১০ হাজার সেনা সদস্য ও ৬ শতাধিক ঘোড়া-উটের বিপরীতে মদিনার বাহিনীর সেনা সদস্য ছিল মাত্র ৩ হাজার।

পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন মুহাম্মদ (সা.)। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে থাকা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এ ব্যবস্থা যুক্ত করে নিষ্ক্রিয় করে ফেলা হয় আক্রমণকারীদের। দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করতে মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কুরাইজা গোত্রকেও নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসে জোটবাহিনী। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে সেই জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের শক্ত অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত আক্রমণে ব্যর্থ হয় তারা।

আরবীয় যুদ্ধকৌশলে পরিখা খনন প্রচলিত ছিল না। ফলে মুসলিমদের খননকৃত পরিখার কারণে অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে জোটবাহিনী। পরিখা পার হওয়ার কোনো ব্যবস্থা তাদের ছিল না। এমনকি অশ্বারোহীদের সহায়তায়ও সেই বাধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা। শেষে পরিখার দুই পাশে দাঁড়িয়ে শুরু হয় দুই বাহিনীর তীর নিক্ষেপ। এভাবেই চলতে থাকে দিনের পর দিন।

এ পরিস্থিতিতে অধৈর্য হয়ে পড়ে কুরাইশ সেনারা। একপর্যায়ে ঘোড়ায় চড়ে একটি সংকীর্ণ স্থান দিয়ে পরিখা পার হতে সক্ষম হন আমর ইবনে আবদ উদ, ইকরিমা ইবনে আবি জাহল ও জারার বিন খাত্তাবসহ আক্রমণকারীদের একটি দল। ওই সময় আলী ও অন্য কয়েকজন সাহাবি সেখানে অবস্থান নিয়ে তাদের গতিরোধ করেন। আমরের আহ্বানে দ্বন্দ্বযুদ্ধের জন্য এগিয়ে যান আলী। সেই দ্বন্দ্বযুদ্ধে আমর নিহত হলে আতঙ্কিত হয়ে পিছু হটে বাকিরা।

১০ হাজার লোকের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা তাদের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। তার ওপর ছিল প্রচণ্ড শীত। এরই মধ্যে একদিন প্রচণ্ড বেগে বয়ে যাওয়া ঝড় উড়িয়ে দিল কাফেরদের সব ছাউনি। ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল তাদের সৈন্যসামন্ত। আল্লাহর আজাব নেমে এলো তাদের ওপর। এ অবস্থায় আগেই সরে পড়েছিল ইহুদিরা। পরে কুরাইশদেরও ফিরে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় রইল না।

খন্দকের যুদ্ধে মুসলিমদের ৮ জন শহীদ হয়েছিলেন। অন্যদিকে শত্রুপক্ষে মারা যায় ৪ জন। এ যুদ্ধ সম্পর্কে মহান আল্লাহতায়ালা সূরা আহজাবে ৯ থেকে ২৭ পর্যন্ত ১৯টি আয়াত নাজিল করেন। যাতে এ যুদ্ধের বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

আইনিউজ/আরআর

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়