ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৭ জুলাই ২০২২,   আষাঢ় ২৩ ১৪২৯

স্বাস্থ্য ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৫৪, ১৩ জুন ২০২২

অতিরিক্ত পেইন কিলার শরীরের যেসব ক্ষতি করে

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ রোববার একটি অনুষ্ঠানে মানুষকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ব্যথা নিরাময়ের জন্য এলোমেলোভাবে ওষুধ খাওয়া যাবে না। খেয়ালখুশি মতো ব্যথার ওষুধ খেলে কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। ব্যথার ওষুধে অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। 

অনেকেরই অভ্যাস আছে একটু মাথাব্যথা, জ্বর, গায়ে হাতে ব্যথা হলেই পেইন কিলার খেয়ে নেন। এতে সাময়িক স্বস্তি আসতে পারে, কিন্তু এর পেছনে লুকিয়ে আছে ভয়ানক বিপদ। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথার ওষুধ না খাওয়াই ভালো।

অতিরিক্ত পেইন কিলার শরীরের কী কী ক্ষতি করতে পারে দেখে নেওয়া যাক- 

লিভারের ক্ষতি

ব্যথা উপশমকারী ওষুধ, বিশেষ করে প্যারাসিটামল লিভারের ক্ষতি করতে পারে। তাই, প্যারাসিটামল পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত। প্রতিদিন ৮টি ট্যাবলেট (৫০০ মিলিগ্রাম) খেলে লিভারের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। তাই ঠান্ডা লাগা, গা হাত ব্যথা, জ্বর, যাই হোক না কেন, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই প্যারাসিটামল খাওয়া উচিত। 

পেটে ব্যথা এবং আলসার

ব্যথানাশক ওষুধ বা পেইন কিলার যেমন আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন এবং ন্যাপ্রোক্সেন গ্রহণের ফলে পেটে ব্যথা, জ্বালা এবং অন্যান্য ক্ষতি হতে পারে। এমনকি ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণের কারণে পেটে আলসারও হতে পারে। আর যাদের আগে থেকেই আলসার আছে, তাদের রক্তপাত হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। 

ডিপ্রেশন

পেইন কিলার ডিপ্রেশনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা হ্রাস করে। তাই যারা বিষণ্ণতায় ভুগছেন এবং অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট গ্রহণ করছেন, তাদের ঘন ঘন ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ এড়িয়ে চলা উচিত। 

কিডনি ফেলিওর

উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা আইবুপ্রোফেন এবং ন্যাপ্রোক্সেনের মতো ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ করলে কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এর থেকে কিডনি ফেলিওর বা ড্যামেজ হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া, যারা ইতিমধ্যেই কিডনির রোগে ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকির মাত্রা অনেকটাই বেশি। 

গর্ভপাত

গর্ভাবস্থার প্রথম ২০ সপ্তাহে যদি কেউ ব্যথা নাশক ওষুধ (যেমন NSAIDs) ব্যবহার করেন, তাদের গর্ভপাত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেশি থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, পেইন কিলার ওষুধগুলো হরমোনের কার্যকারিতায় হস্তক্ষেপ করে। তাই গর্ভাবস্থায় যদি আপনি কোনো কারণে ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহারের পরিকল্পনা করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 

রক্তপাত হওয়া

যাদের রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা এবং হার্টের সমস্যা আছে, তাদের জন্য অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন এবং নেপ্রোক্সেনের মতো ওষুধগুলো অনেকক্ষেত্রে উপকারী। তবে যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের যে কোনও ব্যথা নাশক ওষুধ (NSAIDs) এড়িয়ে চলা উচিত। এতে রক্ত অতিরিক্ত পাতলা হয়ে যেতে পারে এবং অত্যাধিক রক্তপাত হওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। 

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে

গবেষণায় দেখা গেছে যে, ননস্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। যারা এই ওষুধ ব্যবহার করেন, তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। 

সূত্র : বোল্ডস্কাই 

আইনিউজ/এসডিপি 

আইনিউজ ভিডিও

চলন্ত ট্রেনে আগুন

রাস্তা পাড়ি দিচ্ছে অজগর, গাড়ি থামিয়ে চালকদের অপেক্ষা

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়