ইমরান আল মামুন
ঘরে বসেই অনলাইন চালান ভেরিফিকেশন
পাসপোর্ট ফি, বিআরটিএ ট্যাক্স-টোকেন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, জমি রেজিস্ট্রেশন কিংবা সরকারি চাকরির আবেদন—নানা ক্ষেত্রে সরকারি ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করতে হয়। পূর্বে ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে ম্যানুয়াল চালান কাটতে হতো, যাতে জালিয়াতি বা ভুয়া চালানের আশঙ্কা থাকত। তবে বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘অটোমেটেড চালান সিস্টেম’ (এ-চালান বা A-Challan) চালুর পর সবকিছু ডিজিটাল ও সুরক্ষিত হয়েছে।
অর্থ পরিশোধ করার পর চালানটি সরকারি কোষাগারে সঠিকভাবে জমা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে অনলাইন চালান ভেরিফিকেশন অত্যন্ত জরুরি। মাত্র ১ মিনিটে যেকোনো স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থেকে চালানের সত্যতা যাচাই ও মূল কপি ডাউনলোড করা যায়।
চালান ভেরিফিকেশন কেন করবেন?
-
ভুয়া চালান থেকে সুরক্ষা: বিভিন্ন দালাল বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ফি জমা দিলে অনেক সময় নকল চালান রশিদ ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। অনলাইন যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় চালানটি শতভাগ আসল কি না।
-
সেবা প্রাপ্তিতে জটিলতা এড়ানো: পাসপোর্ট অফিস বা বিআরটিএ-তে আবেদনপত্র জমার সময় সার্ভারে চালান মিসম্যাচ দেখালে ফাইল আটকে যেতে পারে। আগে থেকেই ভেরিফাই করে রাখা নিরাপদ।
-
হারিয়ে যাওয়া চালান পুনরুদ্ধার: মূল চালানের কপি হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে গেলে ভেরিফিকেশন পোর্টাল থেকে পুনরায় অফিসিয়াল কপি ডাউনলোড ও প্রিন্ট করা যায়।
-
লেনদেনের স্বচ্ছতা: অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কেন্দ্রীয় ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে (TSA) টাকা সরাসরি জমা হয়েছে কি না তা লাইভ ট্র্যাকিং করা যায়।
অনলাইন চালান ভেরিফিকেশন করতে যা যা প্রয়োজন
চালান চেক করার জন্য নিচের তথ্যগুলোর যেকোনো একটি বা দুটি প্রয়োজন হবে:
-
চালান ট্র্যাকিং নম্বর / চালান নম্বর (Challan No / Tracking ID): চালানের উপরের অংশে থাকা নির্দিষ্ট শনাক্তকারী নম্বর।
-
চালান জমার তারিখ (Challan Date): যে তারিখে ব্যাংকে বা অনলাইনে টাকা জমা দেওয়া হয়েছিল।
-
ব্যাংক ও শাখার নাম: সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংকের শাখার মাধ্যমে জমা হলে।
-
পেমেন্টের মাধ্যম (Payment Method): নগদ ক্যাশ, চেক নাকি ই-পেমেন্ট (বিকাশ/নগদ/কার্ড)।
ধাপে ধাপে এ-চালান (A-Challan) যাচাই পদ্ধতি
অর্থ বিভাগের অফিশিয়াল পোর্টাল ব্যবহার করে খুব সহজেই চালানের তথ্য যাচাই করা যায়:
[সরকারি ভেরিফিকেশন পোর্টালে প্রবেশ]
↓
[চালানের তারিখ ও জমার মাধ্যম নির্বাচন]
↓
[ব্যাংক ও ব্রাঞ্চ নির্বাচন / ট্র্যাকিং নম্বর প্রদান]
↓
[Verify বাটনে ক্লিক]
↓
[চালানের বিস্তারিত তথ্য প্রদর্শন ও PDF ডাউনলোড]
বিস্তারিত ধাপসমূহ:
ধাপ ১: অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ
ইন্টারনেট ব্রাউজার থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ-চালান ভেরিফিকেশন লিংক (ibas.finance.gov.bd/acs অথবা challanverification.finance.gov.bd/echalan/) বা হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের (CGA) অভ্যন্তরীণ ই-সেবা পেজে যান।
ধাপ ২: চালানের ধরন ও তারিখ নির্বাচন
-
স্ক্রিনে থাকা ক্যালেন্ডার থেকে চালানের সঠিক তারিখ নির্বাচন করুন।
-
জমার মাধ্যম নির্বাচন করুন: যদি সরাসরি ব্যাংকে ক্যাশ জমা দেন তবে Cash, চেকে দিলে Cheque, আর বিকাশ/নগদ/রকেট বা কার্ডে দিলে e-Payment সিলেক্ট করুন।
ধাপ ৩: ব্যাংক ও চালান নম্বর এন্ট্রি
-
ব্যাংকের নাম (যেমন: সোনালী ব্যাংক পিএলসি) এবং সংশ্লিষ্ট ব্রাঞ্চের নাম সিলেক্ট করুন।
-
নির্ধারিত বক্সে চালানের মূল নম্বর বা ট্র্যাকিং আইডি সঠিকভাবে লিখুন।
ধাপ ৪: ভেরিফাই ও ফলাফল যাচাই
সব তথ্য পূরণ করে ‘Verify’ বা ‘যাচাই করুন’ বাটনে ক্লিক করুন।
চালানটি বৈধ ও সঠিক হলে স্ক্রিনে তাৎক্ষণিকভাবে নিচের তথ্যগুলো ভেসে উঠবে:
-
সেবাপ্রত্যাশী ব্যক্তির নাম ও এনআইডি/পাসপোর্ট নম্বর
-
যে সরকারি অফিসের অনুকূলে টাকা জমা দেওয়া হয়েছে তার নাম ও কোড
-
পরিশোধিত টাকার পরিমাণ
-
ব্যাংক ট্রানজেকশন রেফারেন্স এবং জমার নিশ্চিতকরণ স্ট্যাটাস (Success/Settled)
ধাপ ৫: পিডিএফ কপি সংরক্ষণ
স্ক্রিনের নিচে থাকা ‘Download/Print’ অপশনে চাপ দিয়ে কিউআর কোডসহ চালানের ভেরিফাইড ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ করে রাখুন।
অফলাইন বনাম ডিজিটাল চালানের তথ্য যাচাই
| বৈশিষ্ট্য | অনলাইন এ-চালান (A-Challan) | সনাতন ব্যাংক ড্রাফট/ম্যানুয়াল চালান |
| ভেরিফিকেশন স্পিড | তাৎক্ষণিক (Instant Live Check) | ব্যাংক রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে ম্যানুয়াল যাচাই |
| জালিয়াতির ঝুঁকি | নেই (কেন্দ্রীয় সার্ভার ও কিউআর কোড ভিত্তিক) | সীল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির ঝুঁকি থাকে |
| পেমেন্ট চ্যানেল | বিকাশ, নগদ, রকেট, কার্ড ও সব তফসিলি ব্যাংক | নির্দিষ্ট সোনালী বা বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা |
| কপি রিকভারি | যেকোনো সময় অনলাইনে ডাউনলোডযোগ্য | হারিয়ে গেলে জিডি করে দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় ডুপ্লিকেট সংগ্রহ |
ভেরিফিকেশন ফেইল বা "Data Not Found" দেখালে কী করবেন?
অনলাইনে যাচাইয়ের সময় কোনো রেকর্ড খুঁজে না পেলে নিচের বিষয়গুলো পরীক্ষা করুন:
-
তারিখ ও পেমেন্ট মেথড ভুল: অনেক সময় চালানের ইস্যু তারিখ এবং ব্যাংকে সেটেলমেন্ট হওয়ার তারিখে পার্থক্য থাকে। রশিদে থাকা সঠিক ভাউচার তারিখ ও পেমেন্ট মেথড নিশ্চিত করুন।
-
সার্ভার আপডেট বিলম্ব: সাধারণ ব্যাংকিং আওয়ারের শেষভাগে ম্যানুয়াল ক্যাশ জমা দিলে কেন্দ্রীয় সার্ভারে ডাটা সিনক্রোনাইজ হতে কয়েক ঘণ্টা বা পরবর্তী কার্যদিবস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
-
ভুল ট্র্যাকিং কোড: বড় হাতের ও ছোট হাতের অক্ষর (Case-sensitive) অথবা সংখ্যা টাইপে কোনো ভুল হচ্ছে কি না মিলিয়ে দেখুন।
-
ভুয়া চালানের সন্দেহ: যদি ২-৩ কার্যদিবস পরও কোনো রেকর্ড না আসে এবং টাকা কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়ে থাকে, তবে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখায় যোগাযোগ করে রশিদের সত্যতা নিশ্চিত করুন।
সরকারি সেবা গ্রহণকে ঝামেলামুক্ত ও স্বচ্ছ রাখতে অনলাইন চালান ভেরিফিকেশন একটি অত্যন্ত কার্যকরী ডিজিটাল সুবিধা। পাসপোর্ট, লাইসেন্স বা অন্যান্য সরকারি দপ্তরে কাগজপত্র জমা দেওয়ার আগেই মাত্র কয়েক ক্লিকে চালান ভেরিফাই করে নিলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়ানো সম্ভব।
- আমেরিকান ডিভি লটারি ২০২৪ বাংলাদেশ
- ফেসবুক মনিটাইজেশন আপডেট ২০২৩
- বাংলাদেশে কম দামে ভালো মোবাইল ফোনের দাম
- মোবাইল নাম্বার দিয়ে লোকেশন বের করার নিয়ম
- অনলাইনে কানাডা ভিসা চেক করার নিয়ম ২০২৩
- অনলাইনে বিধবা ভাতা আবেদন করার নিয়ম ২০২৩
- সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস ডেলিভারি চার্জ
- পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম ২০২৪
- দৈনিক ৫০০ টাকা ইনকাম করার উপায় ২০২৩
- মৌলভীবাজারের যুবকের কৌশল উদ্ভাবন রেললাইন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন



















