ঢাকা, রোববার   ১৯ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ৬ ১৪৩৩

ইমরান আল মামুন

প্রকাশিত: ১৪:০৩, ১৭ মার্চ ২০২৬

হামলার মাঝেই অলৌকিকভাবে বাঁচলেন মোজতবা খামেনি

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে এক নজিরবিহীন সামরিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় কেঁপে ওঠে ইরানের রাজধানী তেহরান। হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বাসভবন-সহ অফিস কমপাউন্ড—যা একইসঙ্গে তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কেন্দ্র।

এই ভয়াবহ হামলার মধ্যেই অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তার ছেলে মোজতবা খামেনি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই ঘটনার রুদ্ধশ্বাস বিবরণ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার মাত্র কয়েক মিনিট আগে হঠাৎ করেই নিজের কক্ষ ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে যান মোজতবা। কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তিনি বাগানে হাঁটতে যান—একটি সিদ্ধান্ত যা হয়তো তার জীবন বাঁচিয়ে দেয়।

সংবাদমাধ্যমটি একটি অডিও রেকর্ডিং সংগ্রহ করেছে, যেখানে এই হামলার বিস্তারিত বর্ণনা দেন আয়াতুল্লাহর কার্যালয়ের প্রটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি। ওই অডিওতে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডাররা।

হোসেইনির বর্ণনায় উঠে আসে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে ইসরায়েলের ‘ব্লু স্প্যারো’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি মোজতবার বাসভবনে আঘাত হানে। বিস্ফোরণের সময় তিনি ঘরে ছিলেন না, তবে ফেরার পথে সিঁড়িতে ওঠার সময় আঘাতের ধাক্কায় আহত হন।

এই হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে নিহত হন তার স্ত্রী ও সন্তান। ভয়াবহ বিস্ফোরণে তার শ্যালক মিসবাহ আল-হুদা বাঘেরি কানি নির্মমভাবে প্রাণ হারান। এমনকি খামেনির সামরিক ব্যুরোর প্রধান মোহাম্মদ সিরাজিও ঘটনাস্থলেই নিহত হন—যার মরদেহ শনাক্ত করাও ছিল কঠিন।

ঘটনার সময় কমপাউন্ডের বিভিন্ন অংশে একযোগে হামলা চালানো হয়। বিশ্লেষকদের মতে, হামলার উদ্দেশ্য ছিল একসঙ্গে পুরো খামেনি পরিবার ও শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্মূল করা।

সেদিন ওই কমপাউন্ডেই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল। হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং আইআরজিসি প্রধান মোহাম্মদ পাকপৌর নিহত হন বলে দাবি করা হয়।

ঘটনার কয়েকদিন পর, ১২ মার্চ তেহরানের কিয়োলহাক এলাকায় এক গোপন বৈঠকে এসব তথ্য তুলে ধরেন হোসেইনি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ ধর্মীয় ও সামরিক নেতারা।

হোসেইনি জানান, “সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছাতেই মোজতবা ওই সময় কক্ষ থেকে বের হয়েছিলেন। নাহলে ফলাফল আরও ভয়াবহ হতে পারত।”

তবে এই হামলার পর থেকেই জনসম্মুখে আর দেখা যায়নি মোজতবা খামেনিকে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তার নামে বার্তা প্রচার করা হলেও তিনি নিজে কোথাও উপস্থিত হননি। এতে করে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা।

এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মন্তব্য করেন, ইরান হয়তো তার আঘাতের প্রকৃত অবস্থা গোপন করছে। তিনি বলেন, “আমরা নিশ্চিত নই—তিনি বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন।”

অন্যদিকে, ইরানের ভেতর থেকেও নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এমনকি সামরিক কমান্ডারদের কাছেও তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই।

পশ্চিমা গোয়েন্দা বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। তাদের মতে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জীবদ্দশায় মোজতবাকে তার উত্তরসূরি হিসেবে চাননি। তাকে ‘অযোগ্য’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

তবে বাস্তবতা এখন ভিন্ন। নানা বিতর্ক, গুঞ্জন আর অনিশ্চয়তার মাঝেই ধারণা করা হচ্ছে—বর্তমানে ইরানের নেতৃত্বে আছেন মোজতবা খামেনি।

কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে—তিনি কি আদৌ সুস্থ আছেন, নাকি পর্দার আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও বড় কোনো সত্য?

আরো পড়ুনঃ যুক্তরাজ্যে গ্র্যাজুয়েশন করার খরচ কত ২০২৬

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়