ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ২৯ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৫৮, ২৪ জুলাই ২০২০

স্পেনে আবারো করোনা আতঙ্ক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড পুরোবিশ্ব। মৃত্যুর সংখ্যায় প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। স্পেনেও তার কম নয়। সম্প্রতি এ ভাইরাসের ভয়াবহ আক্রমণ থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে ইউরোপের দেশ স্পেন।

টানা তিনমাসের বন্দীজীবন কাটিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন বুনেছিলো দেশটি। কঠিন শ্বাসরুদ্ধকর এই পরিস্থিতি থেকে উঠে আসতে না আসতেই আবার পড়েছে করোনার ভয়াল থাবা। নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে হাজারও মানুষ।

স্পেনের অনেক শহরে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় রাজ্য কেন্দ্রিক আবারো এসেছে নতুন ঘোষণা। দেশটির কাতালোনিয়া প্রদেশের (Lelida, Lugo Mariña) শহর বেশি আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যটন নগরী বার্সেলোনায় গত ১ সপ্তাহে ২০ জনের বেশি বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এদের প্রায় সবাই বাসায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কেউ আশঙ্কাজনক অবস্থায় নেই।

আক্রান্তের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন। লক্ষ্মীপুরের রেদওয়ান আহমেদের স্ত্রী শাহজাদী বেগম (২৬), ভাগিনা শুভ উদ্দিন, ভগ্নিপতি সালাহ উদ্দিনের রক্ত পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছে। তার ভগ্নিপতি সালাহ উদ্দিন এক সপ্তাহ আগে লন্ডন থেকে বিমানযোগে বার্সেলোনায় আসার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মেডিকেল পরীক্ষার পর তার করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। পরে পরিবারের বাকি সদস্যরা কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত হন।

এছাড়া শরিয়তপুরের রাজু আহমেদ, গোপালগঞ্জের শামিম আরা বেগম, নোয়াখালীর একই পরিবারের দুইজন, মৌলভীবাজারের একজনসহ মোট ২০ জনের অধিক বাংলাদেশির শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশিদের মধ্যে অনেকেই করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে পরীক্ষা করিয়েছেন, যাদের অনেকের পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।

স্পেনে করোনামহামারির প্রথম সংক্রমণের সময় বার্সেলোনার বাংলাদেশিদের আক্রান্তদের সেবা ও খাদ্য সহযোগিতা দানকারী সংগঠন হেল্পিং হ্যান্ডস। সংগঠনটির সমন্বয়ক সদস্য শফিক খান জানিয়েছেন, তারা এরইমধ্যে বার্সেলোনার বাংলাদেশি কনস্যুলেটর রামন পেদ্রোর সঙ্গে সংগঠনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করেছেন। আক্রান্ত বাংলাদেশিদের জন্য আলাদা বাসার ব্যবস্থা করে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করাসহ আক্রান্তদের সেবা সুশ্রুষা ও অন্যান্য সহযোগিতার জন্য তারা এগিয়ে এসেছেন বলে জানান তিনি।

গত দুই সপ্তাহ ধরে স্পেনে দ্বিতীয় বারের মতো করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে প্রায় ২ শতাধিক স্থানে কোভিড-১৯ সক্রিয় আছে। পর্যটন নগরী বার্সেলোনা তথা কাতালোনিয়া প্রদেশে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় পুরো স্পেনে আক্রান্তের সংখ্যার অর্ধেকের কাছাকাছি।

Green Tea
সর্বশেষ