ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ২৮ ১৪৩৩

বিশ্ব

প্রকাশিত: ১১:২৭, ২২ আগস্ট ২০২০

সেনাবাহিনীর অস্ত্র আছে গুলি নেই

এশিয়ায় তাইওয়ান নিজের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নিতে শুরু করেছে। নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা বলে যেকোনো সহায়তার আশ্বাস তাইপে সরকার নিয়েছে ওয়াশিংটন প্রশাসন থেকে। এক্ষেত্রে ওয়াশিংটন সরকারের স্বার্থ, এশিয়ায় তার বিরুদ্ধ শক্তিগুলোকে মোকাবেলায় শক্তিশালী মিত্র তৈরি করা। মিত্র তৈরির নামে কূটনৈতিক, রাজনৈতিকপ৪, অর্থনৈতিক ও সমরাস্ত্র সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ওয়াশিংটন তাইপেকে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তাইওয়ানের সেনাবাহিনীর সমরাস্ত্রের যেমন অভাব রয়েছে, তেমনি আছে পর্যাপ্ত গোলাবারুদের অভাব।

তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী এমন বাস্তবতায় বিদেশি শক্তির হাতে ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। ইতিমধ্যেই তাইওয়ানের জনগণের টাকায় তাইপে সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সমরাস্ত্র ক্রয় করেছে। সেই অস্ত্র ক্রয়ের পর তা ঠিক করতে গিয়ে হুয়াং ঝি জিয়ে নামে এক তরুণ সৈনিকও মারা গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সমরাস্ত্র কেনা নিয়ে ইতিমধ্যেই তাইপে সরকারের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি শুরু হয়েছে। সম্প্রতি তাইপের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়েন তেহ ফা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন,

‘তাইওয়ানের মানুষের আয়করের টাকায় কেনা অস্ত্র দিয়ে আমাদের সৈনিক মারা যাবে এটা আমাদের নিয়মনীতির পরিপন্থী। সমরাস্ত্রের কোনো কিছু যদি নষ্ট হয় বা ত্রুটি থাকে, সেক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তা ঠিক করে দেওয়ার দাবি করতে পারি। কিন্তু কোনো সৈনিককে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিতে পারি না।’ গোটা সামরিক বাহিনীর অস্ত্র মজুদেই আছে বড় ধরনের সমস্যা। সম্প্রতি এক পরিদর্শকের রিপোর্টে বেশ কিছু অস্ত্র খোয়া যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে কর্র্তৃপক্ষ কোনো বক্তব্য দেয়নি। দেশটির ২৬৯ মেকানিক ব্রিগেডের মজুদাগার থেকে এমন অস্ত্র খোয়া যাওয়ার বিষয়টি অন্য ব্রিগেডগুলোর অবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবে দেশটির বিভিন্ন মিডিয়ার রিপোর্টে বলা হচ্ছে, সামরিক বাহিনীর কাছে থাকা সমরাস্ত্রের ৮৫ শতাংশ কর্মক্ষম। বাকি অস্ত্র ত্রুটিযুক্ত। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল জেমস হুয়াং আন্তর্জাতিক মিডিয়াকে বলেন, ‘ত্রুটিযুক্ত অস্ত্রের যে সংখ্যার কথা বলা হচ্ছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।’ তবে সেনাবাহিনীতে এখন কত সংখ্যক ট্যাংক আছে বা কতগুলো ট্যাংক গোলা ছুড়তে সক্ষম এমন রেকর্ড খোদ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছেও নেই। বিশ্লেষকরা তাইওয়ানের সামরিক বাহিনীর এই অবস্থার জন্য স্থানীয় রাজনীতিকে দায়ী করছেন। তাদের মতে, চীন প্রশ্নে দেশটির সামরিক বাহিনী দ্বিধাবিভক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আঁতাতের ফলে চীন তাইপের ওপর আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে এমন শঙ্কা দেখছেন সেনাবাহিনীর একাংশ। অপর অংশ চীনকে ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

১৯৯০ ও ২০০০ সালের দিকে তাইওয়ান সরকার সেনা সক্ষমতা কমিয়ে অর্ধেক করার পক্ষে সায় দেয়। তৎকালীন সময় সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল দুই লাখের বেশি। কিন্তু রাষ্ট্রীয় নীতির কারণে তা কমিয়ে আনা হয়। আর এই কমিয়ে আনার পেছনের কারণও রাজনৈতিক। তাইওয়ানের নিজেদের নেওয়া সামরিক নীতির কারণে বর্তমান অঞ্চলিক রাজনীতিতে তাদের খেসারত দিতে হতে পারে এমন আশঙ্কার কথা আরও আগে থেকেই বলে আসছিলেন বিশ্লেষকরা। কিন্তু তাতে তাইপে সরকার কর্ণপাত করেনি। কিন্তু যখন বাস্তবেই সামরিক শক্তির প্রয়োজন হয়েছে, তখন নিজেদের উন্নয়নের পথে না হেঁটে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দেশটি। বিশ্লেষকরা একে তাইপের জন্য ফাঁদ হিসেবে বিবেচনা করছেন

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়