ঢাকা, রোববার   ২৬ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ১৩ ১৪৩৩

এ. জে লাভলু, বড়লেখা

প্রকাশিত: ১৬:৪৮, ৪ নভেম্বর ২০২১

বড়লেখায় শপথ নিয়েও কথা রাখেননি ১৫ আ. লীগ নেতা!

দলীয় মনোনয়ন না পেলে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে শপথ করেছিলেন চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ৫৩ জন। তাদের মধ্যে ১০ জন দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ১৫ জন ঠিকই বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে মৌলভীবাজারের বড়লেখার ১০ ইউনিয়নের মধ্যে ৮ ইউনিয়নে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হিসেবে ১৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নে ২ জন, দাসেরবাজার ইউনিয়নে ২ জন, উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নে ২ জন, দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নে ১ জন, বড়লেখা সদর ইউনিয়নে ১ জন, তালিমপুর ইউনিয়নে ২ জন, দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নে ৪ জন, দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নে ১ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ অক্টোবর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে একটি বিশেষ সভায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে এক নারীসহ ৫৩ জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন চেয়ে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের কাছে জীবন বৃত্তান্ত জমা দেন। এদিন দলীয় মনোনয়ন না পেলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে তাদের শপথবাক্য পাঠ করিয়েছিলেন পরিবেশ মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। এদিকে গত ২৫ অক্টোবর আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ড ১০টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলের একক প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর ৮ ইউনিয়নে ১৫ জন আওয়ামী লীগ নেতা শপথ ভঙ্গ করে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসাবে প্রার্থীতা ঘোষণা করেন। এরইমধ্যে তারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ১৫জন বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। 

বর্ণি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত জোবায়ের হোসেনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শামীম আহমদ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং তাঁতী লীগ নেতা আব্দুল মুহিত।

দাসেরবাজার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মাহতাব উদ্দিন ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার চক্রবর্তী।

 
উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত রফিক উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি মো. আতাউর রহমান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. মুমিনুর রহমান টনি।

দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত নাহিদ আহমদ বাবলুর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন।

বড়লেখা সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত সালেহ আহমদ জুয়েলের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সিরাজ উদ্দিন।

 
তালিমপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত বিদুৎ কান্তি দাসের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি বীর মুক্তিযুদ্ধা এখলাছুর রহমান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুনাম উদ্দিন।

দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত এনাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সদস্য আব্দুল জলিল ফুলু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাহিদ আহমদ ও ইউনিয়ন তাঁতী লীগের আহ্বায়ক আশরাফ হোসেন।

দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত সুলতানা কোহিনুর সারোয়ারীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আজির উদ্দিন।

 
বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুন্দর বুধবার (৩ নভেম্বর) রাতে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের আমরা বোঝানোর চেষ্টা করছি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত এটা অব্যাহত থাকবে। এরপরও তারা যদি না মানেন; তবে তাদের বিরুদ্ধে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাই ৪ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ১১ নভেম্বর।

আইনিউজ/এজেএল 

আরও পড়ুন
Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়