ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৬ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ২ ১৪৩৩

সৈয়দ মুহিবুল আমিন

প্রকাশিত: ০৯:৩৪, ৩১ জানুয়ারি ২০২২
আপডেট: ১০:৪৪, ৩১ জানুয়ারি ২০২২

মৌলভীবাজারের মঞ্চ সংস্কৃতি, পুরনো দিনের কথা-১

সৈয়দ মুহিবুল আমিন

সৈয়দ মুহিবুল আমিন

সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে বৃটিশ রাজত্বকাল থেকেই মৌলভীবাজারের ইতিহাস অতি সমৃদ্ধ। আনুমানিক ১৩১০ বাংলায় ঢেউপাশা গ্রামের শ্রী রমনীমোহন ভট্টাচার্য্য গোস্বামী মহাশয় কীর্তনে বিশেষ সুনাম অর্জন করেন। তিনি নিজে গান রচনা করতেন ও সঙ্গীদের নিয়ে গাইতেন।

একটা সমাজের মানুষের চিন্তা- চেতনার সুকৌশল সৌন্দর্য্যমন্ডিত প্রকাশই তার সংস্কৃতি। 'হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি' গ্রন্থের প্রণেতা অধ্যাপক গোলাম মুরশিদ বইটির সূচনা পর্বে লিখেছেন, ' জন্মের সময়ে আমরা জন্তু হয়ে জন্মাই। কিন্তু সংস্কৃতিই আমাদের মানুষে পরিণত করে। পরিণত করে সামাজিক জীবে। সংস্কৃতি দিয়েই একটা মূল্যবোধ, মন-মানসিকতা, ধ্যান-ধারণার অধিকারী হই। বিদগ্ধ রুচির সুশীল মানুষে পরিণত হই। ' 

সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে বৃটিশ রাজত্বকাল থেকেই মৌলভীবাজারের ইতিহাস অতি সমৃদ্ধ। আনুমানিক ১৩১০ বাংলায় ঢেউপাশা গ্রামের শ্রী রমনীমোহন ভট্টাচার্য্য গোস্বামী মহাশয় কীর্তনে বিশেষ সুনাম অর্জন করেন। তিনি নিজে গান রচনা করতেন ও সঙ্গীদের নিয়ে গাইতেন। তাঁর রচিত নাটক 'রাই ত্রিলোচন' 'একাঙ্গ মিলন' 'সন্যাস ' 'রাধাযজ্ঞ' ইত্যাদি তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন গ্রামে মঞ্চস্থ হয়। তিনি পদাবলি কীর্তনও রচনা করতেন এবং মৌলভীবাজারেই তা মঞ্চস্থ হতো। রমনীমোহন ভট্টাচার্য্য মহাশয়ের পিতামহ শ্রী রঘুনাথ ভট্টাচার্য্য গোস্বামীও গান রচনা করতেন। তাঁর অনেক গান এখনও গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে আছে। শোনা যায় সাধক রাধা রমন ছিলেন এই রঘুনাথ গোস্বামী মহাশয়ের শিষ্য। 

ঢেউপাশা গ্রামের রমনী মোহন ভট্টাচার্য্য গোস্বামী মহাশয়ের সাথে তখন যারা অভিনয় করেছেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য শ্রী রাম কুমার সেন, শ্রী কুঞ্জ গোবিন্দ পাল, শ্রী কুঞ্জ গোবিন্দ দত্ত, শ্রী গগণ মালাকার, শ্রী তিলক পাটনী  প্রমুখ। এই গগন মালাকার পরবর্তীতে যাত্রাদলে বিশেষ প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। সে সময়ে সৈয়ারপুরের শ্রী লোকনাথ পাল সঙ্গীত শিল্পী এবং অভিনেতা হিসেবে বিশেষ সুনাম অর্জন করেছিলেন।

সৈয়দ মুহিবুল আমিন, লেখক

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়