ঢাকা, সোমবার   ১৫ জুন ২০২৬,   আষাঢ় ১ ১৪৩৩

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২:৫৭, ৭ ডিসেম্বর ২০২০
আপডেট: ২৩:২১, ৭ ডিসেম্বর ২০২০

সরকারের পুষ্টি পরিকল্পনায় মৌলভীবাজারে যা কিছু আছে

পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্তকরণ বিষয়ক কর্মশালা

পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্তকরণ বিষয়ক কর্মশালা

মৌলভীবাজারে শেষ হলো দুইদিনব্যাপী অংশগ্রহণমূলক বহুখাতভিত্তিক জেলা বার্ষিক পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা ২০২০-২০২১ পর্যালোচনা এবং চূড়ান্তকরণ বিষয়ক কর্মশালা।

স্থানীয় একটি হোটেলে ৬ ও ৭ ডিসেম্বর পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে চূড়ান্তকরণ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। জেলা পুষ্টি সমন্বয় কমিটি এ আয়োজন করে। সহযোগিতা করে বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল, কেয়ার বাংলাদেশ, সিভিল সার্জন অফিস এবং সূচনা কর্মসূচি। জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ  আহসানের সভাপতিত্বে দুইদিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় পুষ্টি পরিষদ মহাপরিচালক ডা. খলিলুর রহমান।  

বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুষ্টি সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব ও সিভিল সার্জন ডা. তউহীদ আহমদ, পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, সূচনা কর্মসূচির চীফ অব পার্টি ডা. শেখ শাহেদ রহমান, জাতীয় পুষ্টি পরিষদ লিড কনসাল্টেন্ট ডা. ইকবাল কবির , কেয়ার বাংলাদেশ পরিচালক আমানুর রহমান।

এছাড়াও কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন সূচনা মৌলভীবাজারের কো-অর্ডিনেটর কাজী আলম এবং ট্যাকনিক্যাল ম্যানেজার কানিজ ফাতিমা।

দ্বিতীয় জাতীয় পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা (২০১৬-২০২৫) এর সফল বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পরিচালিত সকল কার্যক্রমের সমন্বয়ের জন্য পুষ্টি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ১২ আগস্ট স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জারিকৃত সরকারি প্রজ্ঞাপনে জেলা কমিটির জন্য একটি বার্ষিক পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কথা সুস্পষ্ট ভাবে বলা আছে। তারই আলোকে জেলা পুষ্টি সমন্বয় কমিটি সকল বিভাগ, স্থানীয় সরকার, এনজিও, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলার জন্য যপ্রথমবারের মতো সমন্বিত অংশগ্রহণমূলক বহু খাতভিত্তিক বার্ষিক পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা (খসড়া) ২০২০-২০২১ প্রণয়ন করেছে।

এ কর্মশালায় পর্যালোচনা এবং ফিডব্যাকের মাধ্যমে কর্মপরিকল্পনাটি চূড়ান্তকরণ করা হয়। এবং মৌলভীবাজার জেলার বার্ষিক পুষ্টি কর্ম পরিকল্পনাটি প্রণয়ন করা হয়।

বহু খাতভিত্তিক পুষ্টি প্যাকেজে থাকছে, ১৫-৪৯ বছর বয়সী প্রজননক্ষম নারীদের মধ্যে রক্ত স্বল্পতার হার কমানো, নবজাতক শিশুদের মধ্যে কম জন্ম ওজন (২৫০০ গ্রাম) এর হার কমানো, জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করার হার বৃদ্ধি, ০-৬ মাসের বয়সী শিশুদের মধ্যে শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ পান করার হার বৃদ্ধি, ৬-২৩ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য খাবার গ্রহণের হার বৃদ্ধি, হাত ধোয়ার যথাযথ নিয়ম মেনে চলে এমন শিশু-পরিচর্যাকারীর শতকরা হার বৃদ্ধি, ১০-১৯ বছর বয়সী কিশোরীদের মধ্যে রক্ত স্বল্পতার হার কমানো,  ১৫-১৯ বছর বয়সী কিশোরীদের মধ্যে কম উচ্চতার (১৪৫ সেমি) হার কমানো, ১৫-১৯ বছর বয়সী কিশোরীদের মধ্যে শীর্ণকায়তা এর হার কমানো, মাথপিছু লবণ এবং চিনি গ্রহণের হার পরিবর্তন/নিয়ন্ত্রণ করা, ১৫-৪৫ বছর বয়সী মহিলাদের যারা বেশি ওজনযুক্ত বা স্থুলকায় (বিএমআই ২৩) তাদের শতাংশ, ১৫-২৪ বছর বয়সী গর্ভধারণকারী কিশোরী/নারীর শতকরা হার, ২০-২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ১৮ বছরে প্রথম বিয়ে হয়েছে এরকম নারীর শতকরা হার, মাধ্যমিক বা উচ্চশিক্ষা শেষ করেছে এমন নারীর শতকরা হার, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী শিশুদের (৩৬-৫৯মাস) শতকরা হার, নিরাপদ খাবার পানি ব্যবহারকারী জনসংখ্যার শতকরা হার, উন্নতমানের স্যানিটারি ল্যাট্রিন ব্যাবহারকারী জনসংখ্যার শতকরা হার, মাথাপিছু ফল ও শাকসবজি খাওয়ার হার, মাথাপিছু মাছ, মাংস, দুধ এবং ডিম খাওয়ার হার, শস্যজাত খাবার থেকে প্রাপ্ত মোট শক্তির শতকরা হার, মারাত্মক তীব্র অপুষ্টি ব্যবস্থাপনা সরবরাহকারী স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সংখ্যা (রোগীর বিছানা সহ),কমিউনিটি ভিতিক তীব্র অপুষ্টি সেবা পরিচালনা সরবরাহ করে এমন কমিউনিটি ক্লিনিকের শতাংশ।

আইনিউজ/ওমর ফারুক নাঈম

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়