ঢাকা, সোমবার   ১৫ জুন ২০২৬,   আষাঢ় ১ ১৪৩৩

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২:২১, ১৬ ডিসেম্বর ২০২০
আপডেট: ০০:১৯, ২১ ডিসেম্বর ২০২০

‘ডেখা মাইর’-এ মুখোমুখি ‘কিং’-‘বাংলা ভাই’

‘কিং’ ও ‘বাংলা ভাই’ এর লড়াই

‘কিং’ ও ‘বাংলা ভাই’ এর লড়াই

‘ডেখা মাইর’-এ মুখোমুখি ‘কিং’-‘বাংলা ভাই’। দুই ষাঁড়ের মধ্যে টানটান উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই। অবশেষে বাংলা ভাইয়ের কাছে হার মানতে বাধ্য হলো ‘কিং’ ষাঁড়।

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই ‘ডেখা মাইর’-এ (ষাঁড়ের লড়াই) আয়োজন হয় মৌলভীবাজারে। প্রতি বছর বিজয় দিবসে এই লড়াইয়ের আয়োজনের মধ্য দিয়ে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন মৌলভীবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর মাসুদ আহমদ। 

মৌলভীবাজারের আঞ্চলিক ভাষায় এই খেলাকে বলা হয় “ডেখা মাইর”। বৃহত্তর সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক ষাঁড়ের মালিক তাদের লড়াকু ষাঁড় নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।

বাংলা ভাই

এ বছর লড়াইয়ে জিতে যায় কাউন্সিলর মাসুদের ষাঁড় “বাংলা ভাই”। রানার্সআপ হয় সিলেটের দক্ষিণ ‘সুরমার কিং’ নামক ষাঁড়।

ডেখা মাইর-এর আয়োজক মাসুদ আহমদ জানান, প্রতিবছর বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এর ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে তিনি তার এলাকায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের লড়াই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। এতে মানুষ আনন্দিত হয়।

ডেখা মাইর-কে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

অতীতে বাংলাদেশে ষাঁড়ের লড়াই ছিল প্রসিদ্ধ খেলা। লড়াই করার জন্য ষাঁড়-গরু আলাদাভাবে লালন পালন করা হতো। এর দ্বারা হাল চাষ বা অন্য কোন ধরনের কাজ করা হতো না। ষাঁড়টিকে মোটা তাজা করা হতো শুধু লড়াই করার জন্য। শুকনো মৌসুমে গ্রামের বাজারে ঢোল পিটিয়ে ষাঁড়ের লড়াই দেখার আমন্ত্রণ জানানো হতো।

যে ষাঁড়টি প্রথম স্থান পেত তাকে পুরস্কার দেয়া হতো। সে পুরস্কার বাজারে বাজারে দেখানো হতো গলায় ঝুঁলিয়ে। বর্তমানে এই শৌখিন প্রথা বিলুপ্তির পথে।

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়