কমলগঞ্জ প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে শমশেরগর ডাক বাংলো ও বটবৃক্ষ
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের পর থেকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর মুক্তি সংগ্রামের আন্দোলনে সোচ্চার ছিল।
শমশেরনগর নামক ছোট্ট এই শহরের আনাচে কানাচে মুক্তিকামী লোকজন বিক্ষোভ প্রদর্শন করতেন পাকিস্তানি শোসকদের বিরুদ্ধে।
মাঝ মার্চে পাক বাহিনীর বাঙ্গালী সেনা কর্মকর্তা মেজর খালেদ মোশাররফকে (পরবর্তীতে ব্রিগেডিয়ার) নকশাল দমনের নামে শমশেরনগর পাঠানো হয়। তবে নকশাল না পেয়ে তিনি এসে স্থানীয় ডাকাবংলোয় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে বৈঠক করে পরিকল্পিত হামলার উপদেশ দিয়েছিলেন।
২৬ মার্চ ১৯৭১ সাল, শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়িতে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে সেখানে প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ খবর পাকবাহিনীর কানে গেলে ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ তারা শমশেরনগরে অতর্কিত হামলা চালায়।
বিভিন্ন জায়গা থেকে ধরে আনা বাঙালিদের ডাক বাংলোর সামনের এই বট গাছের ডালে ঝুলিয়ে নির্মম নির্যাতন করতো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী
এ সময় পালাতে গিয়ে একজন ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধ কলার ছিলায় পা ফোঁসকে পড়ে যাব। তার নাম ছিলো যাদুকর সিরাজুল ইসলাম। সাথে সাথে পাক সেনারা তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাকে বেয়নেট দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।
নির্মম এ হত্যার ঘটনা শমশেরনগরের মুক্তিযোদ্ধা এবং স্থানীয়দের মনে পাকিস্তানিদের প্রতি ক্ষোভের জন্ম দেয়। ঐদিন রাত থেকে মুক্তিযোদ্ধারা ও মুক্তি পাগল মানুষজন পরিকল্পিত প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলেন।
স্থানীয় আওয়ামলীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল গফুর, মুক্তিযোদ্ধা মোজাহিদ, ক্যাপ্টেন সাজ্জাদুর রহমান, ক্যাপ্টেন মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোজাফ্ফর আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ময়না মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাজী আব্দুল মন্নান স্থানীয় ছাত্র নেতা খালেকুর রহমান, দিপ্তী কুমার দাশসহ নাম না জানা অনেক যুবকদের নিয়ে শমশেরনগর বাজারের তিনটি দালানে অ্যাম্বুশ স্থাপন করে পরিকল্পিত হামলার চিন্তা করেন।
প্রতিরোধকারী বাঙালিরা মরহুম আমজাদ আলী ও মরহুম হাজী সজ্জাদুর রহমানের পিকআপ নিয়ে চাতলাপুর সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে ইপিআরের ( বর্তমান বিজিবি) অস্ত্রসহ বাঙালি সদস্যদের নিয়ে আসেন।
ইপিআর সদস্যরা ও স্থানীয় লাইসেন্সধারী বন্দুক নিয়ে স্থানীয় গঙ্গারামতেলীর দোতলা, স্টেশন রোডের আমান উল্যার দোতলা ও আগের ইউনিয়ন অফিসের (বর্তমান পুলিশ ফাড়ির) দোতলায় তিনটি শক্ত অ্যাম্বুশ করেন।
শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় সড়কের উপর খালি মালগাড়ির একটি বগি রেখেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল। পতনউষার ইউনিয়নের ওমর আলী, হাজীপুর ইউনিয়নের হবিব বখতের নেতৃত্বে এ প্রতিরোধ আন্দোলনে বিপুল পরিমাণ স্বাধীনতাকামী সংগ্রামী মানুষজনও অংশ নিয়েছিলেন।
২৮ মার্চ বিকাল তিনটার দিকে ক্যাপ্টেন গোলাম রসুলসহ একটি পিকআপে পাক সেনা বাহিনীর একটি দল শমশেরনগর হয়ে ভানুগাছ যায়। সেখান থেকে সন্ধ্যায় ফেরার পথে শমশেরনগরে প্রবেশ করলে তিনটি অ্যাম্বুশ থেকে আচমকা এক সাথে গুলি ছোড়লে ক্যাপ্টেন গোলাম রসুলসহ ঘটনাস্থলেই ৯জন পাক সেনা মারা যায়।
দুইজন পালিয়ে একটি বাসায় আত্মগোপন করলে বিক্ষোব্ধ বাঙালিরা সেখান থেকে তাদেরকে ধরে এনে হত্যা করে।
পরবর্তীতে স্থানীয় রাজাকার আল-বদর, আল শামস ও মুসলিম লীগ নেতাদের প্রধান আরিফ মুন্সী ও তার হুকুম পালনকারী কামিল মিয়া চৌকিদারের সহায়তায় পাক সেনারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে বাড়ি থেকে নিরস্ত্র নিরিহ বাঙালিদের ধরে ধরে পাক বাহিনীর কাছে সোপর্দ করে।
পাক হানাদার সদস্যরা ধরে আনা বাঙালিদের ডাক বাংলোর সামনের বট গাছের ডালে ঝুলিয়ে নির্মম নির্যাতন চালায়। আবার একটি টর্চার সেলে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে পরে শমশেরনগর বিমান বন্দরের রানওয়ের উত্তর পশ্চিম কোণের বধ্যভূমিতে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।
শমশেরনগর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল গফুরের বাবাসহ দুই ভাই, সোনাপুর গ্রামের প্রতাপ পাল ও পিযুশ পালসহ অসংখ্য নিরিহ বাঙালিদের ধরে এনে ডাক বাংলোর টর্চার সেলে ও বট গাছে ঝুলিয়ে নির্যাতনের পর বধ্যভূমিতে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।
১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ বাংলাদেশে সর্ব প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলে শমশেরনগরে একজন ক্যাপ্টেনসহ ৯জন পাক সেনাকে মুক্তিযোদ্ধারা হত্যা করেছিল। যা ছিল বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক সেনাদের উপর প্রথম প্রতিরোধ আন্দোলন।
এসব ঘটনার দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে ৪৯ বছর ধরে নিরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শমশেরনগর ডাক বাংলো আর দেড় শতাধিক বছর বয়সী মহিরুহ বট গাছটি। মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমর যুদ্ধের স্মৃতি হিসাবে সারা দেশে ১৩টি সম্মুখ সমর যুদ্ধ স্মৃতিস্তম্বের সাথে একটি নির্মাণ করা হয় হয় শমশেরনগর বিমান বন্দরের আরটিএসের(রিক্রুটস এন্ড ট্রেনিং স্কুল) পিছনে।
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার

























