ঢাকা, সোমবার   ১৫ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪৩৩

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬:৪০, ২৬ ডিসেম্বর ২০২০
আপডেট: ১৭:০৮, ২৬ ডিসেম্বর ২০২০

রাতের আঁধারে কাঁচা চা পাতা চুরি

চা পাতা। ফাইল ছবি

চা পাতা। ফাইল ছবি

রাতের আঁধারে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন চা বাগান সেকশন থেকে চুরি হচ্ছে কাঁচা চা পাতা। এতে নারী শ্রমিকরা পাতা উত্তোলনে তাদের নিরিখ (নির্ধারিত পরিমাণ) পূরণ করতে পারছেন না। যার প্রভাবে ব্যাহত হচ্ছে চায়ের উৎপাদন।   

চা শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রায়ই একটি চক্র রাতের আঁধারে  প্লান্টেশন এলাকা থেকে কাঁচা চা পাতা চুরি করে। রাতে সেকশনে প্রবেশ করে কাঁচি দিয়ে চা গাছের কচি পাতা কেটে বস্তা ভর্তি করে নেয়। এরপর পাতা ভর্তি বস্তা ট্রাক ও পিকআপযোগে পাচার করা হয়।

তাদের অভিযোগ, চোরাই পাতা ভর্তি গাড়ি কুলাউড়া ও রাজনগর সড়ক দিয়ে বিভিন্ন ছোট আকারের চা বাগানে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে।

স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসাধু কর্তারা রহস্যজনকভাবে কাঁচা চা পাতা পাচার দেখেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না বলেও জানান তারা।

সম্প্রতি কমলগঞ্জের শমশেরনগর চা বাগানের ফাঁড়ি চা বাগান বাঘিছড়া থেকে ব্যাপকহারে কাঁচা চা পাতা চুরি হয়েছে। এতে নারী শ্রমিকরা কাজে গিয়ে সেকশনের চা গাছে পাতা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এর প্রতিবাদ জানিয়ে তারা কিছু সময়ে কর্ম বিরতি পালন করে ও বাগান ম্যানেজমেন্টকে বিষয়টি অবহিত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বাঘিছড়া চা বাগানের নারী শ্রমিক সুফলা বাউরী, সুজাতারিকিয়াশন, আরতি উরাং ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেকশনে গেলাম পাতি (চা পাতা) উঠাতে।  গিয়ে দেখি রাতেই এগুলো চুরি হয়ে গেছে। এখন আমরা কোথা থেকে চা পাতা উত্তোলন করবো। বাগানে পাহারাদার থাকে। দেখাশুনার জন্য। এরপরও সেকশন থেকে কঁচি চা পাতা চুরি হওয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ম্যানেজমেন্টকে বলেছি।

বাঘিছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি লছমন রবিদাস, কানিহাটি চা বাগানের সভাপতি প্রতাপ রিকিয়াশন বলেন, বাগান থেকে কাঁচা চা পাতা চুরি হচ্ছে। এর ফলে সেকশনের চা গাছ থেকে নারী শ্রমিকরা পাতা উত্তোলন করতে পারছে না। তাদের নিরিখ (নির্ধারিত পরিমাণ) পূরণ করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। 

তারা আরও বলেন, একই সাথে ছায়াদানকারী গাছ চুরি হয়ে যাওয়ায় টিলাগুলো বৃক্ষ শুন্য হয়ে পড়ছে। এজন্য চা গাছে ছায়াও থাকবে না। ফলে বাগানের বড় ধরণের ক্ষতি হচ্ছে। এসব বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আমরা ম্যানেজমেন্টকেও বলেছি।

শমশেরনগর কানিহাটি চা বাগানের শ্রমিক নেতা ও ইউপি সদস্য সীতারাম বীন বলেন, দেওছড়া, শমশেরনগর, কানিহাটি, বাঘিছড়া এসববাগান থেকে দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা চা পাতা ও মূল্যবান গাছ চুরি হচ্ছে। ফলে এর প্রভাব পড়ছে চা শ্রমিক ও উৎপাদনে।

তিনি বলেন, একজন নারী চা শ্রমিককে  প্রতিদিন গড়ে নির্ধারিত ২২ কেজি চা পাতা উত্তোলন করতে হয়। এরপর বাড়তি চা পাতা তুলে। তবে রাতে প্লান্টেশন এলাকা থেকে চুরি হওয়ায় চা শ্রমিকরা নির্ধারিত পরিমাণ চা পাতা তুলতে পারছে না। এসব বিষয়ে ম্যানেজমেন্ট যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে বড়
ধরণের ক্ষতি গুনতে হবে।

কমলগঞ্জের বিভিন্ন চা বাগান ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করে চা বাগানের প্লান্টেশন এলাকা থেকে প্রতিরাতে কাঁচা চা পাতা চুরির সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তারা বলেন, এর ফলে চা উৎপাদনে প্রভাব পড়বে। তারা আরও বলেন, কাঁচা চা পাতার সাথে ছায়াদানকারী গাছও চুরি হয়।

এ ব্যাপারে শমশেরনগর চা বাগানের ডেপুটি ম্যানেজার মো.  রফিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, চা বাগানের গাছ ও কাঁচা চা পাতা চুরির বিষয়ে শ্রমিকরা লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, চা বাগান থেকে কাঁচা চা পাতা চুরির গুঞ্জন শুনেছেন। তবে সুনির্দিষ্ট করে কোন চা বাগান থেকে এখনও অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ হলে তদন্তক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আইনিউজ/এম.আর/এসডিপি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়