ঢাকা, সোমবার   ১৫ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪৩৩

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:৫০, ২৬ ডিসেম্বর ২০২০
আপডেট: ২৩:৫৩, ২৬ ডিসেম্বর ২০২০

লাঘাটা নদী খনন, বন্যা-জলাবদ্ধতা থেকে স্বস্তির আশা

লাঘাটা নদী

লাঘাটা নদী

কমলগঞ্জের নিম্নাঞ্চল এলাকার কৃষকদের বহুল প্রতীক্ষিত লাঘাটা নদী খননের কাজ চলছে দু’বছর ধরে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও রাজনগর উপজেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত লাঘাটা নদীর খনন কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।  

কাজ শুরু হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিলেও নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে রয়েছে উদ্বেগ। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর নদী খনন শুরু হয়। তবে নদী খননের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সভা, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানসহ আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছেন।

কৃষকরা জানান, ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও নদী ভাঙ্গনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন কমলগঞ্জের নিম্নাঞ্চল- পতনঊষার, শমসেরনগর, মুন্সীবাজার ইউনিয়ন এবং রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের কৃষকরা। 

তারা বোরো,আউশ, আমন, সবজি ক্ষেত হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। এ থেকে উত্তরণের জন্য পানি নিষ্কাশনের একমাত্র রাস্তা লাঘাটা নদী খনন ও সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে এলাকাবাসী।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সনে লাঘাটা নদী খননের জন্য সার্ভে কাজ সম্পন্ন হয়। নানা জটিলতায় খনন কাজ কিছুটা বিলম্বে শুরু হয়।

দু’টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়ন থেকে কমলগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের লাঘাটা নদীর উৎসস্থল পর্যন্ত ২৪ কি.মি. খনন কাজ চলবে। ১১ দশমিক ৮শ মিটার ও ১২ দশমিক৮৩০ মিটার মিলিয়ে ২৪ দশমিক ৬৩০ মিটার খনন কাজ হবে।  

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এস.এ.এস.আই এন্ড ইশরাত এন্টারপ্রাইজ ৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নিম্নাঞ্চল এলাকার খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শমশেরনগর এলাকায় অপর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ১১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ করছে।

লাঘাটা নদীকে ঘিরে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর, আলীনগর, শমসেরনগর ও পতনঊষার মুন্সীবাজার ইউনিয়ন এবং রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের একাংশের কৃষকরা কৃষি, চাষাবাদ ও প্রাকৃতিক মাছ আহরণ করেন। কৃষি ও মাছ আহরণের মধ্য দিয়ে অসংখ্য পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। তবে চলতি বছর নদীভাঙ্গন, পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ পতনঊষারের কেওলার হাওরের  মাঝ দিয়ে প্রবাহিত লাঘাটা নদী।

নদীটি রাজনগর উপজেলায় মনু নদীতে পতিত হওয়ায় বন্যা ও জলাবদ্ধতার পানিও মনু নদীতে যায়। দীর্ঘদিন ধরে লাঘাটা নদী ভরাট, ঝোঁপজঙ্গল, পলিবালি ও নানা অত্যাচারে নদী সংকোচন হয়ে খালে পরিণত হয়। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন হতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়।  জলাবদ্ধতার ফলে ধানী জমি ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষকরা।

কমলগঞ্জে হাওর ও নদী রক্ষা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি দুরুদ আলী, সদস্যসচিব তোয়াবুর রহমান তবারক, মৌলভীবাজার কৃষক সংগ্রাম সমিতির নেতা রমজান আলী বলেন, গত কয়েক বছরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও আমাদের পক্ষ থেকে ইউএনও, জেলা প্রশাসক ও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান ও সভা সমাবেশ করেছি। 

নদী খনন, সংস্কার ও ড্রেজিং না করার কারণে নদী সংকোচন হয়ে পড়েছিল। ধলাই ও লাঘাটা নদীর প্রশস্ত ও গভীরতা কমে যাওয়া, দু’পাশে ঝোঁপজঙ্গল ও গাছগাছালিতে ভরপুর হয়ে উঠা, বসতি স্থাপণ এবং অসাধু মাছ শিকারী চক্রের স্থানে স্থানে ফেলা বাঁশের খাঁটি (বেড়া) ও বাঁধ দেয়ার ফলে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়।

লাঘাটায় খনন শুরু হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তবে সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন না হলে আবারও কৃষকদের ক্ষতি বয়ে আনবে।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, গত বছর থেকে সরকারি উদ্যোগে নদীর খনন কাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হলে এলাকার মানুষের উপকারে আসবে। আমরা নিয়মিত তদারকি করছি। রাজনগর অংশে একজন ও কমলগঞ্জ অংশে এক-দুইজন ঠিকাদারের মাধ্যমে খনন কাজ হচ্ছে। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ জানান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার এটি একটি কাজ। এলাকার মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে লাঘাটা নদী খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। খনন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য নিজে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি ও নিয়মিত তদারকি করছি। ফলে কৃষি চাষাবাদ, বন্যা ও জলাবদ্ধতাসহ নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা উপকৃত হবেন। 

আইনিউজ/এম.আর/এসডিপি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়