ঢাকা, রোববার   ১৪ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪৩৩

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২:৪০, ১১ জানুয়ারি ২০২১

বোরো আবাদ বঞ্চিত কমলগঞ্জের প্রায় তিন শতাধিক কৃষক

সংগৃহীত

সংগৃহীত

বোরো ধান চাষাবাদের ওপর নির্ভরশীল মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা। গত দুই বছর ধরে লাঘাটা নদী পুনঃখনন কাজের জন্য দেয়া বাঁধে একদিকে জলাবদ্ধতা অন্যদিকে সেচের অভাবে শুষ্ক জমি খাঁ খাঁ করছে। ফলে বোরো আবাদ বঞ্চিত হওয়ায় চার গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

কৃষকদের অভিযোগে জানা যায়,  কমলগঞ্জ ও রাজনগর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লাঘাটা নদীতে দুই বছর ধরে পুনঃখনন কাজ চলছে। নদী খননে সেচ সমস্যার কারণে কমলগঞ্জের ধূপাটিলা, রূপষপুর গ্রামের শতাধিক কৃষক বোরো আবাদ বঞ্চিত হচ্ছেন।  

অন্যদিকে খনন কাজে বাঁধ দেয়ার কারণে নিম্নাঞ্চলের কেওলার হাওর এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় কমলগঞ্জের পতনঊষারের দুই শতাধিক কৃষক চাষাবাদ বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে বোরো নির্ভরশীল কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

কৃষকরা জানান, শমশেরনগর ইউনিয়নের সতিঝির গ্রাম এলাকায় লাঘাটা নদীর স্লুইসগেট থাকায় সেচ সুবিধা নিয়ে এর আশপাশ এলাকায় কিছু লোক বোরো চাষাবাদের সুযোগ পেলেও নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা  চাষাবাদ বঞ্চিত রয়েছেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে পতনঊষারের কিছু বোরো চাষী বলেন, নদী খননের জন্য আমরা দুই বছর ধরেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। দুই বছরে বোরো ধান চাষাবাদ করতে না পারায় আমরা ক্ষতিপূরণের জন্য সরকারের কাছে সহায়তা দাবি করছি।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়- ছোট নদী, খাল এবং জলাশয় পুনঃখনন (১ম পর্যায়) প্রকল্পের আওতাধীন  লাঘাটা খালের ১২৮৩০ মি. কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। ২০১৮সনে নদী পুনঃখননের জন্য সার্ভে সম্পন্ন হলেও কাজ শুরু হয় ২০১৯ সনের ১১ ডিসেম্বর।

দু’টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়ন থেকে কমলগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের লাঘাটা নদীর উৎসস্থল পর্যন্ত ২৪ কি.মি. খনন কাজ চলবে। ১১ দশমিক ৮শ মিটার ও ১২ দশমিক৮৩০ মিটার মিলিয়ে ২৪ দশমিক ৬৩০ মিটার খনন কাজ হবে।  

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এস.এ.এস.আই এন্ড ইশরাত এন্টারপ্রাইজ ৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নিম্নাঞ্চল এলাকার খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শমশেরনগর এলাকায় অপর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ১১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ করছে। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত বছরের ৩০ নভেম্বর। তবে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় পুনঃখনন কাজ এখনও ঝুলে আছে। 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, লাঘাটা পুনঃখনন কাজ শুরুর সাথে সাথে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিলেও দুই বছর ধরে বোরো আবাদ বঞ্চিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাদের বিস্তীর্ণ বোরো আবাদী জমি পতিত রয়েছে আবার কেওলার হাওর এলাকার কারো জমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে।

কমলগঞ্জে হাওর ও নদী রক্ষা আঞ্চলিক কমিটির সদস্য সচিব তোয়াবুর রহমান কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তোলে ধরে বলেন, কেওলার হাওর এলাকায় যারা চারা রোপন করেছিল তাদের জমিও তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতি গুনছেন কৃষকরা।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন বলেন, বিষয়টি আমি গত সপ্তাহে শুনে জেলা পর্যায়ের একটি সভায় সেটি উপস্থাপন করেছি। তারপরও গুরুত্ব সহকারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলবো।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, নদী খনন করতে গেলে কিছুটা তো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবেই। এই খনন কাজ করতে গিয়ে কেউ কেউ উপকৃত হচ্ছেন আবার কেউ কেউ ক্ষতিগ্রস্তও হচ্ছেন। সবকিছুর পরে আমাদের কাজ করতে হবে। তবে যত দ্রুত সম্ভব আগামী এপ্রিলের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারকে তাগাদা দিচ্ছি।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।

আইনিউজ/এম.আর/এসডিপি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়