ঢাকা, সোমবার   ১১ মে ২০২৬,   বৈশাখ ২৭ ১৪৩৩

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:০০, ১ সেপ্টেম্বর ২০২১
আপডেট: ২১:৫৭, ১ সেপ্টেম্বর ২০২১

জীবিত অবস্থায় আসেননি কেউ, মৃত্যুর পর লাশ নিতে আসলেন ছেলে

আব্দুল মোতালেব

আব্দুল মোতালেব

ষাট বছরের আব্দুল মোতালেব। অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে। স্বজনদের খবর দিলে সকলেই দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায়। সেই সময় মোতালেব মিয়ার পাশে ছিল শুধু পুলিশ। অথচ তার মৃত্যুর পর ছেলে ও পাড়া-প্রতিবেশীরা এসেছেন লাশ নিতে।

মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) সকালে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন আব্দুল মোতালেব। এরপরেই বাবার লাশ নিতে ছুটে এসেছেন ছেলে বোরহান মিয়া। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মৌলভীবাজার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মহসিন ভূঁইয়া।

ছেলে বোরহান মিয়া পুলিশকে জানান, বাবা বেঁচে থাকলে সে বাবাকে নিতেন না। তিনি বাবাকে ত্যাজ্য করেছেন। তার (বোরহান মিয়া) বয়স যখন ৩ মাস তখন বাবা তার মাকে তালাক দেন। তিনি মানসিক রোগী ছিলেন, প্রায় সময়ই বাড়ি থেকে না বলে চলে যেতেন। সর্বশেষ ৬ মাস আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান বাবা।  

এ বিষয়ে উপ-পরিদর্শক মহসিন ভূঁইয়া আইনিউজকে বলেন, পুলিশকে সবাই ঘুষ দেয়, খারাপ বলে। কিন্তু এই যে এক সপ্তাহ বৃদ্ধ হাসপাতালে পরে ছিলেন উনার পাশে পুলিশ ছাড়া আর কেউ ছিল না। ছেলে এসেছে বাবার মৃত্যুর পর। অথচ এর আগে ছেলে বাবাকে নিতেই চায়নি। 

তিনি আরও বলেন, মিটামইন থানা থেকে গাড়ি ভাড়া দিয়ে পাঠিয়েছে। এছাড়া আমি অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করে লাশের জন্য কাপড়, পলিবেগসহ সব কিছু  দিয়েছি। তাদের খাবারের জন্যও কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে।  

গত ২৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টায় আব্দুল মোতালেবকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের বারান্দায় অজ্ঞান অবস্থায় দেখা যায়। তাকে উদ্ধার করে অজ্ঞাত দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। একদিন পর বৃদ্ধের ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে পরিচয় জানা গেলেও পরিবারের সদস্যরা তাকে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। 

আইনিউজ/কামরুল হাসান শাওন/এসডিপি 

আরও পড়ুন

সদর হাসপাতালে পড়ে আছেন অসহায় বৃদ্ধ, ‘সব দায়িত্ব কি পুলিশের?’

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ