ঢাকা, রোববার   ২৬ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ১৩ ১৪৩৩

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬:০৩, ৩১ অক্টোবর ২০২১
আপডেট: ১৬:২৫, ৩১ অক্টোবর ২০২১

মৌলভীবাজারে কৃষকেরা পেলেন কম্বাইন্ড হারভেস্টর, সার ও বীজ (ভিডিও)

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কৃষকদের মধ্যে সরকারি ভর্তুকি মূল্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্র, বিনামূল্যে শীতকালীন সবজি বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।   

আজ রোববার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কৃষকদের মধ্যে এসব কৃষি উপকরণ তুলে দেন সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নেছার আহমদ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীনা রহমানের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল হোসেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার সুব্রত কান্তি দত্ত প্রমুখ। 

অনুষ্ঠানে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে ১০ কেজি করে ডিওপি সার, ১০ কেজি করে এমওপি সার এবং এককেজি করে শীতকালীন সবজি বীজ বিতরণ করা হয়। সবজি বীজরে মধ্যে রয়েছে গম, ভুট্টুা, সরিষা, সুর্যমুখী, পেঁয়াজ এবং গ্রীষ্মকালীন মুগ। উপজেলার ৪০০ কৃষক এসব কৃষি প্রণোদনা পাবেন। 

এছাড়া আখাইলকুড়া ও গিয়াসনগর ইউনিয়নের দুটি কৃষক গ্রুপের মধ্যে সরকারি ভর্তুকি মূল্যে দুটি আধুনিক কৃষিযন্ত্র- কম্বাইন হারভেস্টর বিতরণ করা হয়। এই দুটি কম্বাইন হারভেস্টরের মধ্যে একটির মূল্য ৩৩ লাখ, অপরটি মূল্য ২২ লাখ।    

কম্বাইন হারভেস্টর

কম্বাইন হারভেস্টর কী

কম্বাইন হারভেস্টর এমন একটি কৃষি যন্ত্র যা দিয়ে একই সঙ্গে ধান-গম কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দী করা যায় এবং খড় আস্ত থাকে। যন্ত্রটি ১৫-২০ সেমি মাটির গভীরে শক্ত স্তর (প্লাউ-প্যান) যুক্ত কাদামাটিতে চলতে পারে। যন্ত্রটি দিয়ে কম সময়ে অধিক জমির ধান-গম কাটা যায় বিধায় কর্তনোত্তর অপচয় হ্রাস পায় এবং সার্বিক উৎপাদন খরচ কম হয়। তাছাড়া সঠিক সময়ে দ্রæত ফসল কেটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি থেকে শস্য রক্ষা করা যায়। ফলে কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হয় এবং কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।

এটি ডিজেল ইঞ্জিনচালিত এমন একটি যন্ত্র, যা দিয়ে ধান ও গম একই সাথে কর্তন, মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দী করা যায়। শস্য সংগ্রহের প্রধান চারটি কাজ (কর্তন, মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দী) একই সঙ্গে করা যায় বিধায় যন্ত্রটির নাম কম্বাইন হারভেস্টার বলা হয়ে থাকে। সনাতন পদ্ধতিতে কাঁচি দিয়ে শস্য কাটার তুলনায় অল্প সময় ও কম খরচে ধান ও গম কাটা যায়। ফলে সময় ও কায়িক শ্রম লাঘব হয়। যন্ত্রটি ওই সব ফসল কাটার কাজে ব্যবহার করা যাবে। যেগুলোর উচ্চতা মোটামুটি একই রকম ও শীষ/ছড়া গাছের উপরের দিকে থাকে এবং নিচের দিকে অবশিষ্ট অংশ থাকে। সেগুলো হলো- ধান, গম, জব, বার্লি ইত্যাদি।

কম্বাইন হারভেস্টার সাধারণত হেড ফিড ও হোল ফিড দু’ধরনের হয়ে থাকে।

হেড ফিড কম্বাইন হারভেস্টারে শুধু ধানের শীষ মাড়াই হয়ে থাকে এবং খড় নষ্ট হয় না। আমন মওসুমে শুকনো ক্ষেতে খড় আস্ত রাখতে এ যন্ত্রের উপযোগিতা রয়েছে।

অন্যদিকে হোল ফিড কম্বাইন হারভেস্টারে পুরো ধানগাছ মাড়াই হয় এবং মাড়াইকৃত খড় জমিতে এলোমেলোভাবে পড়ে থাকে যা ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায় না। বোরো ও আউশ মওসুমে ধানক্ষেতে পানি থাকলে এবং হাওর অঞ্চলে এ যন্ত্রের উপযোগিতা রয়েছে।

কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ফসল সংগ্রহের প্রধান চারটি কাজ একই সঙ্গে হয়ে থাকে। এ কারণে এক কাজের সঙ্গে অন্য কাজের সমন্বয় না হলে যন্ত্রের কার্যকারিতা ভালো হয় না। পরিবহনের সময় ঝাঁকুনিতে যন্ত্রের যে কোনো অংশের সমস্যা হতে পারে। যন্ত্র মাঠে প্রবেশ করানোর আগে ইঞ্জিন চালু করে গিয়ার নিরপেক্ষ-অবস্থা (নিউট্রাল) অবস্থায় রেখে শস্য সংগ্রাহক অংশে বালুর বস্তা অথবা অন্য ভারী বস্তু স্থাপন করে হেডার উপরে-নিচে ওঠানামা করতে হবে, ইঞ্জিনের গতি বাড়িয়ে দিয়ে কাটারবারসহ ঘূর্ণায়মান অংশে গতি সঞ্চালন করে কোন অংশ থেকে কোনো প্রকার অস্বাভাবিক শব্দ আসছে কি না পরীক্ষা করতে হবে। তারপর যন্ত্র মাঠে প্রবেশ করিয়ে শস্যের উচ্চতার সঙ্গে হেডার ওঠানামা করে হেডার নিয়ন্ত্রক লিভার সমন্বয় করে নিতে হবে। অল্প শস্য কেটে যন্ত্রের মাড়াই ও ঝাড়াই কার্যক্রম দেখে শস্য কাটার প্রস্ততা ঠিক করে নিতে হবে। কাটার প্রস্ততা প্লটের আকার, শস্যের ঘনত্ব ও মাটির অবস্থার ওপর নির্ভর করে ঠিক করতে হয়। মাড়াই ও ঝাড়াই কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে ফসল কাটার মূল কাজ শুরু করতে হবে। চালকের দক্ষতা ও সঠিক নিয়মে যন্ত্র চালানোর ওপর যন্ত্রের কার্যকারিতা ও কর্তন অপচয় নির্ভর করে।

সূত্র :  কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) \

মৌলভীবাজারে কৃষকেরা পেলেন কম্বাইন্ড হারভেস্টর, সার ও বীজ | Nesar Ahmed MP

আইনিউজ/বিষ্ণু দেব/এসডিপি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়