ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২২,   মাঘ ১৪ ১৪২৮

বিষ্ণু দেব, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত: ২৩:৩৮, ২৮ ডিসেম্বর ২০২১
আপডেট: ০০:০৯, ২৯ ডিসেম্বর ২০২১

মৌলভীবাজারে জামানত হারিয়েছেন আওয়ামী লীগের ৩ প্রার্থী

আব্দুর রহমান, খসরু আহমেদ, সুরুক মিয়া

আব্দুর রহমান, খসরু আহমেদ, সুরুক মিয়া

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে জামানত হারিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। কামালপুর ইউনিয়নে আব্দুর রহমান পেয়েছেন ৬০১ ভোট। মোস্তফাপুর ইউনিয়নে খসরু আহমেদ পেয়েছেন ৬৮৪ ভোট। গিয়াসনগর ইউনিয়নে সুরুক মিয়া পেয়েছেন ১ হাজার ৬১৪ ভোট। 

চতুর্থধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১২ ইউনিয়নে রোববার (২৬ ডিসেম্বর) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৫টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী, ৪টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও ৩টি ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। 

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ অপেক্ষা কম ভোট পেলে প্রার্থীর জামানতের টাকা সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে। এ অবস্থায় তিনটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর কেউই এক-অষ্টমাংশ ভোট পাননি। ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেয়েও তারা জামানত হারাচ্ছেন। 

আরও পড়ুন- নৌকার দুই প্রার্থী পেলেন ২৬৪ ও ৯১৮ ভোট!

কামালপুর ইউনিয়ন

কামালপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আব্দুর রহমান। কিন্তু তিনি নিজের অবস্থান দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারেননি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থক ও এলাকাবাসী ভোট দিয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আপ্পান আলীকে। অথচ এই ইউনিয়নে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন আপ্পান আলী। জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রে তাঁর নাম সর্বাগ্রে পাঠালেও তিনি মনোনয়ন পাননি। মনোনয়ন পেয়েছেন তরুণ আব্দুর রহমান। 

দলের সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণিত করেছেন তিনি। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আপ্পান আলী। তিনি বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীকে হারিয়ে ২ হাজার ২৮৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র (বিএনপি) প্রার্থী ফয়ছল আহমেদ পেয়েছেন ২ হাজার ১৭৯ ভোট। আর নৌকা প্রতীকের আব্দুর রহমান পেয়েছেন মাত্র ৬০১ ভোট। নির্বাচনে এ ইউনিয়নে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। 

কামালপুর  ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৩ হাজার ৩৭৪টি। ভোট পড়েছে ৯ হাজার ৪৫৫টি। আওয়ামী লীগের আব্দুর রহমান পেয়েছেন ৬০১ ভোট, যা প্রদত্ত ভোটের ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। জামানত ফেরত পেতে তাঁর ভোটের প্রয়োজন ছিল ১ হাজার ১৮২টি। 

আরও পড়ুন- নিজের ভোট দিতে পারেননি প্রার্থী, আরেকজন পাননি কোনো ভোট

মোস্তফাপুর ইউনিয়ন

মোস্তফাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা খসরু আহমদ। কিন্তু তিনিও প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারেননি। ভোটাররা রায় দিয়েছেন জেলা যুবলীগের সদস্য বর্তমান চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম তাজের পক্ষে। নির্বাচনে তাজুল ইসলাম তাজ ৬ হাজার ৪৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র (বিএনপি) প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ তুহেল পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৯৫ ভোট। আর নৌকা প্রতীকের খসরু আহমেদ পেয়েছেন মাত্র ৬৪৮ ভোট। নির্বাচনে এ ইউনিয়নে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। 
এ ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন জেলা যুবলীগ নেতা ও সাবেক জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রুমেল আহমদ।  

জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রে তাঁর নাম সর্বাগ্রে পাঠালেও তিনি মনোনয়ন পাননি। মনোনয়ন পেয়েছেন খসরু আহমদ। তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারেননি।
মোস্তফাপুর ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৮ হাজার ২১৫টি। ভোট পড়েছে ১২ হাজার ১২২টি। আওয়ামী লীগের খসরু আহমেদ পেয়েছেন ৬৮৪ ভোট, যা প্রদত্ত ভোটের ৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ। জামানত ফেরত পেতে তাঁর ভোটের প্রয়োজন ছিল ১ হাজার ৪৮৪টি। 

আরও পড়ুন- চমক দেখালেন উত্তরভাগের দিগেন্দ্র চন্দ্র সরকার!

গিয়াসনগর ইউনিয়ন

গিয়াসনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা সুরুক মিয়া। তিনি শুধু পরাজিত হননি, জামানতও হারিয়েছেন। পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৬১৪ ভোট।

 এ ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন জেলা যুবলীগের গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক গোলাম মোশারফ হোসেন টিটুসহ আরও কয়েকজন নেতা। টিটুর প্রয়াত বাবা প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা এই ইউনিয়নের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ছিলেন। যে কারণে টিটুর অগ্রাধিকরার তৈরি হয়েছিলো বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় সুরুক মিয়াকে।   
জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রে তাঁর নাম পাঠালেও তিনি মনোনয়ন পাননি। দলের সিদ্ধান্তকে তিনি ভুল প্রমাণিত করেছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মোশারফ হোসেন টিটু।

নির্বাচনে গোলাম মোশারফ হোসেন টিটু ৫ হাজার ৫৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। আর নৌকা প্রতীকের সুরুক মিয়া পেয়েছেন ১ হাজার ৬১৪ ভোট। নির্বাচনে এ ইউনিয়নে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। 

গিায়সনগর ইউনিয়নে মোট ভোটার ২১ হাজার ৫৭৮টি। ভোট পড়েছে ১৫ হাজার ৪৮৬টি। আওয়ামী লীগের খসরু আহমেদ পেয়েছেন ১ হাজার ৬১৪ ভোট, যা প্রদত্ত ভোটের ১০ দশমিক  ৪৩ শতাংশ। জামানত ফেরত পেতে তাঁর ভোটের প্রয়োজন ছিল ১ হাজার ৯৩৬ টি।

আইনিউজ ভিডিও 

শীতের সকালেও ভোট কেন্দ্রে দলে দলে ছুটেছেন নারী-পুরুষেরা

রাজনগর উপজেলার তাহার লামুয়া নতুন ভোট কেন্দ্র, ভোট দিয়ে উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী

নৌকার বিজয় দেখছেন মনসুরনগরের মিলন বখত

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়